সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

Advertisement

বড় প্রশ্নের মুখে রাশিয়ার ভ্যাকসিন ! শিশু ও বৃদ্ধদের উপর পরীক্ষাই হয়নি !

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ মঙ্গলবারেই রাশিয়া সগর্বে করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করার কথা ঘোষণা করেছে । বিশ্বে প্রথম মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর কথা স্মরণ করিয়ে ভ্যাকসিনের নাম রাখা হয়েছে ‘স্পুটনিক ভি’ বা স্পুটনিক ৫ । কিন্তু এরই মধ্যে সেই ভ্যাকসিন নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে । জানা গেছে রাশিয়ার ভ্যাকসিন কার্যকরী ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়স্কদের ক্ষেত্রে। এর কম বা বেশি বয়সের ক্ষেত্রে আদৌ কার্যকর হবে কিনা তার পরীক্ষাই করা হয়নি।

মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেন, বিশ্বে আমরাই প্রথম। ভ্যাকসিনের বিশ্বাসযোগ্যতা বোঝাতে তিনি ঘোষণা করেন নিজের মেয়ের শরীরে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ করিয়েছেন তিনি । কিন্তু তার পরেই জানা গেল, রুশ ভ্যাকসিন শুধুমাত্র ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের শরীরে পরীক্ষা করা হয়েছে । অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ও অতিবৃদ্ধদেরই করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।ফলে রুশ ভ্যাকসিন নিয়ে অনেকের কপাল কুঁচকে উঠতে শুরু করেছে ।

এদিকে রাশিয়া করোনা ভ্যাকসিনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার সাথে সাথে বিশ্বে ২০ টি দেশ ১০০ কোটি করোনা ভ্যাকসিনের বরাত ইতিমধ্যে দিয়েছে ! অথচ অনেক বিশেষজ্ঞ এখনও দাবী জানিয়ে আসছেন, প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে ভ্যাকসিনের সাফল্য দাবি করার ক্ষেত্রে রাশিয়া তাড়াহুড়ো করেছে । এছাড়াও ভ্যাকসিনের তথ্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ভ্যাকসিনের প্রথম স্তরের ট্রায়ালের পরেই রাশিয়া দাবি করেছে টিকা সার্বিকভাবে প্রয়োগের জন্য তৈরি। যেখানে অক্সফোর্ড, মোডার্না এখনও তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালেই রয়েছে।

এবার রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কর্তাই দাবি করলেন, এই ভ্যাকসিন সব বয়সের জন্য নয়। এই তথ্য দিয়েছেন রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সায়েন্টিফিক সেন্টার ফর এক্সপার্ট ইভ্যালুয়েশন অফ মেডিসিনাল প্রোডাক্টস-এর প্রধান ভ্লাদিমির বোনদারেভ ।  ভ্লাদিমির বোনদারেভ জানিয়েছেন, রাশিয়ায় যে কোনও ভ্যাক‌সিনের সাফল্য দাবি করার ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী তিনটি স্তরে পরীক্ষা করতে হয়। সদ্যজাত থেকে ১৮ বছর, ১৮ বছর থেকে ৬০ বছর এবং ৬০ বছরের বেশি। কিন্তু যে ভ্যাকসিনের সাফল্য দাবি করা হয়েছে সেটি পরীক্ষা করা হয়েছে শুধুমাত্র ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়স্ক স্বেচ্ছাসেবীদের উপরে। সুতরাং, এখন এই ভ্যাকসিন শুধুমাত্র ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়স্করাই ব্যবহার করতে পারবেন।

ভ্লাদিমির বোনদারেভের এই বক্তব্যের পর ফের করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে । উল্লেখ্য,  রাশিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে করোনার করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি। সংস্থার ডিরেক্টর আলেকজান্দার গিনটসবার্গ অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি নিজে এই ভ্যাকসিন নিয়ে ভাল আছেন এবং তাঁর বয়স ৬০ বছরের উপরে। যদিও  রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে ঘোষণা করা হয়, টিকার ট্রায়াল সফল হয়েছে। মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিন নিরাপদ ও কার্যকরী। তবে সেই সময়ে কিন্তু কোনও বয়সের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

মন্তব্য
Loading...