বিয়ের অনুষ্ঠানটা শেষ। মিষ্টিমুখ, শাড়ি, মালা, সব মিলিয়ে দারুণ একটা দিন। কিন্তু একটা কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়, সেটা বিবাহ নিবন্ধন।
নিবন্ধন না হলে সরকারি চোখে বিয়েটা স্বীকৃতিই পায় না। পাসপোর্ট থেকে ভিসা, ব্যাঙ্কের যৌথ অ্যাকাউন্ট, সবখানেই এই কাগজটার দরকার পড়ে। আদালতও বারবার বলেছে, নিবন্ধন যেন বাধ্যতামূলক হয়। তবু কত বাঙালি পরিবার যে এটা এড়িয়ে যায়, তার ঠিক নেই।
বিবাহ নিবন্ধন কেন জরুরি?
মনে করুন, দেশের বাইরে যাওয়ার প্ল্যান করছেন। জীবনসঙ্গীর নাম পাসপোর্টে ঢোকাতে হলে ম্যারেজ সার্টিফিকেট ছাড়া উপায় নেই। ব্যাঙ্ক লোন, ইন্সুরেন্স, সম্পত্তির নথিতে একই কথা, আরও পড়ুন: জন্ম সনদপত্র ২০২৬ গাইড, নথির তালিকাটা কাজে লাগবে।
অথচ কাজটা তেমন কঠিনই নয়, ভাবছেন? ভাবার কিছু নেই।
কোন আইনে নিবন্ধন করাবেন?
ভারতে বিবাহ নিবন্ধনের পথ দুটো। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন বা শিখ দম্পতিরা হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী রেজিস্ট্রি করেন। আর ধর্মনিরপেক্ষ বিয়ের জন্য আছে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৪। ধর্ম আলাদা হলেও চলে, কোনো রকম অনুষ্ঠান ছাড়াই হয় কোর্ট ম্যারেজ। বয়সের নিয়মও মেনে চলতে হবে, বরকে ২১ আর কনেকে ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে।
| বিষয় | হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট | স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট |
|---|---|---|
| কাদের জন্য | হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ | যেকোনো ধর্মের দম্পতি |
| অনুষ্ঠান | আগে ধর্মীয় রীতি জরুরি | লাগে না |
| নোটিশ পিরিয়ড | নেই | ৩০ দিন |

প্রয়োজনীয় নথিগুলো কী কী?
নথিপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে অর্ধেক কাজ শেষ। তালিকাটা এমন:
- দুজনের আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার কার্ড, পরিচয়পত্র হিসেবে ভোটার কার্ড সবচেয়ে হাতের কাছের
- বয়সের প্রমাণ: জন্ম সনদপত্র বা দশম শ্রেণির মার্কশিট
- ঠিকানার প্রমাণ: রেশন কার্ড বা ইউটিলিটি বিল
- বিয়ের আমন্ত্রণপত্র, অনুষ্ঠানের ছবি
- দুজনের পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- দুই-তিন জন সাক্ষীর পরিচয় ও ঠিকানার নথি
সাক্ষীদের কথা ভুললে চলবে না। তাঁদের ছাড়া ফর্মটা জমাই পড়ে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুই-তিন জন সাক্ষীই যথেষ্ট, তাঁদের নিজেদের নথিও লাগবে। আর সব নথির ফটোকপি দুটো করে সঙ্গে রাখুন।
পশ্চিমবঙ্গে অনলাইনে আবেদন যেভাবে
পশ্চিমবঙ্গে অনলাইনে রেজিস্ট্রির সুবিধা চালু আছে। সরকারি পোর্টাল wbregistration.gov.in সাইটের ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন পেজে গিয়ে ফর্মটা পূরণ করতে হবে।
- প্রথমে দুজনের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ আর বিয়ের তারিখ সঠিকভাবে দিন
- এরপর স্ক্যান করা নথিগুলো আপলোড করুন
- তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন-সময় বেছে নিন
- সবশেষে নির্ধারিত দিনে দুজনেই সাক্ষীদের নিয়ে অফিসে হাজির হোন
অফিসে গিয়ে মূল নথিগুলোর সঙ্গে কপি মিলিয়ে দেখা হয়। ছোট্ট একটা সাক্ষাৎকার। ঠিক পরেই সার্টিফিকেটের ছাড়পত্র।
ফি ও সময়সীমা
ফি মামুলি, রাজ্য ভেদে ১০০ থেকে কয়েকশো টাকার মধ্যে। হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে সাত থেকে পনেরো দিনেই সার্টিফিকেট, স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে ৩০ দিনের নোটিশ পিরিয়ড আলাদা।
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট আবেদনের গাইড ২০২৬
উপসংহার
ভালোবাসার বন্ধন কাগজে লেখা যায় না, মানি। কিন্তু দরকার পড়লে এই সার্টিফিকেটটাই যে আপনার সবচেয়ে বড় দলিল, সেটা ভুললে চলবে না। বিয়েটা নিবন্ধন করে রাখুন, এই ছোট্ট কাজটাই বড় সুরক্ষা।








