উত্তরের ছোট্ট একটা গ্রাম। ভোরের বেলায় কুয়াশা নামে মাঠের ওপর। আর সেই মাঠের ধারেই গাছের সাথে গাছ কথা বলে, ছাগলের সাথে ছাগল। মাঝখানে এক মেয়ে। গাছের দিকে তাকিয়ে সে বলে, কী হলো তোর, আজ এত নারাজ কেন? ছাগলটা মাথা নাড়ে। মেয়েটা হাসে। এই মেয়েটাই যেন আজ টিভি পর্দার সবচেয়ে আলোচিত নাম। কুসুম সিরিয়াল যে কীভাবে ঘরে ঘরে ঢুকে গেছে, ভাবলেই অবাক লাগে।
কথাটা কিন্তু আয়নার মধ্যে দাঁড়িয়ে বলা যায় না। কারণ, দর্শকরা কুসুমকে ভালোবেসে ফেলেছে। কুসুম সিরিয়ালের এতগুলো পর্ব পেরিয়ে আজও তার টান কমেনি। কঠিন সময়ে হাসি, ট্রলের মুখে মজা। এমন চরিত্রই দিনের পর দিন পর্দায় ধরে রেখেছে লাখো মানুষকে। তাই প্রতিদিন নতুন পর্বের আশায় টিভির সামনে বসে থাকে সবাই। সত্যি কথা।
কুসুম সিরিয়ালের গল্পটা কী?

গল্পটা একদম সাদামাটা লাগে, কিন্তু ভেতরে গভীর। এক প্রাণখোলা গ্রাম্য মেয়ে কুসুম। গাছের সাথে গল্প জমায়, ছাগলকে ভাই বলে ডাকে। তার একটাই স্বপ্ন। সে চায় প্রিয় মানুষের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে। সেই স্বপ্নের পথে আসে শহরের নির্মম বাস্তবতা। পাড়ি দিতে হয় গ্রাম থেকে শহরে। এখানে কুসুম সিরিয়ালের যে রং বদলায়, সেটাই দর্শক টেনে ধরে।
ভালো লাগে এই গল্পের আরেকটা জায়গা। কুসুম অন্ধকারে ডুবে থাকে না। সংসারের যত জট, ততটাই সহজভাবে সে সামলায়। কখনো মজা করে, কখনো রেগে যায়, আবার ফিরে আসে আগের রূপে। কেউ একবার দেখতে শুরু করলে আর ছাড়তে পারে না। আর কী!
পর্দায় কুসুম, কারা সেই চরিত্রে?
প্রধান চরিত্র কুসুমের ভূমিকায় অভিনয় করছেন তনিষ্কা তিওয়ারি। ট্রলের কৌতুক থেকে সংসারের লড়াই, সবটা যেন তার অভিনয়ে ফুটে ওঠে। শহরের চরিত্রগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিটির নিজস্ব গল্প আছে। একে অপরের সাথে মিলে ঠিক জায়গায় মোড় নেয় কাহিনি।
এই কাস্ট নিয়েই কুসুম সিরিয়াল দিনশেষে বেশি আলোচিত হয়। দর্শকের চোখে পৌঁছে দেয় সে রকম দৃশ্যও কম নয়। সাত পাকে বাঁধায় শাওনের বিয়ের মোড়টা যেমন ভাইরাল হয়েছে, কাস্ট খবরেও আগ্রহ কম নয়।
কবে শুরু হয়েছিল, কোন সময়ে দেখা যাবে?
কুসুম সিরিয়াল যাত্রা শুরু করেছিল ২০২৫ সালের ৪ জুন। তখন থেকেই প্রতিদিন একই সময়ে পর্দায় আসে এই ধারাবাহিক। যাঁরা নিয়মিত ফলো করেন, তাঁদের কাছে এই নির্দিষ্ট সময়ই সবচেয়ে আরামের। পেরিয়ে গেছে প্রায় ৪৫০-এরও বেশি পর্ব। দর্শক সংযোগ যে বেড়েছে, একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়।
অনলাইনে ঘুরে দেখলে কুসুম সিরিয়ালের পুরনো পর্বও দেখার সুযোগ মেলে। জি বাংলার একক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মিলবে সম্পূর্ণ ধারাবাহিক। নতুন পর্ব মিস করলে সেখানেই ক্যাচ আপ। ব্রডকাস্টের সময়ের বাইরেও দেখা আর সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। সুবিধাটাই বড়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য উইকিপিডিয়ার কুসুম পাতা দেখুন।
এই সপ্তাহে কুসুমের মোড় কী?
শতাধিক পর্বের ধারাবাহিকতায় যে সূত্রগুলো খোলা ছিল, সেগুলো এবার দানা বাঁধছে। গ্রামের সহজ জীবন আর শহরের জটিল সম্পর্কের টানাপোড়েনই এবারের মোড়। যাঁরা নিয়মিত দেখেন, তর্ক নেই। কুসুমের সিদ্ধান্তই এখন গোটা ছবি বদলে দেবে বলে ধারণা সবার।
তবে একটা কথা সোজাসুজি বলি। কুসুম সিরিয়ালকে শুধু মিলিয়ে দেওয়ার নাটক ভাবলে ভুল হবে। এখানে পরিবার, বন্ধুত্ব আর নিজের স্বপ্নের টানাপোড়েনটাই আসল। ভালোবাসা মুখ্য, কিন্তু স্বপ্নের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পিছিয়ে থাকে না। এই দুইয়ের ভারসাম্যই দর্শককে আনন্দ দেয়। সত্যি কথা। আরও ঘুরে দেখুন জোয়ার ভাঁটা সিরিয়ালের স্লট পরিবর্তনের খবর।
উপসংহার
কুসুম সিরিয়াল শুধু একটা ধারাবাহিক নয়, যেন প্রতিদিনের এক টুকরো আনন্দ। গ্রাম্য মেয়ের এই লড়াইয়ের কাহিনি মনে করিয়ে দেয়, স্বপ্ন ছোট না রাখলেই হয়। যাঁরা এখনো শুরু করেননি, তাঁদের একবার দেখা উচিত। পর্দার কুসুমের সাথে সাথে যেন বাড়ি ভরে উঠুক হাসির গল্পে।








