খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে, কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে। বিশ্বের সব কোলাহলের মাঝে এই খেয়াই যেন নীরবে চলে। রবীন্দ্রনাথের ‘খেয়া’ কবিতার সেই ছবি।
দুই তীরে দুই পরিচিত গ্রাম, সকাল থেকে সন্ধ্যা আনাগোনা। অথচ দুই তীরের এই খেয়ার পাশেই দুনিয়ার কত ইতিহাস।
এই লেখায় থাকছে কবিতাটি, চৈতালি কাব্য প্রসঙ্গ আর খেয়ার ভেতরের দর্শন।
চৈতালি: ঋতুপ্রেম, জীবনদর্শন
চৈতালি রবীন্দ্রনাথের ১৮৯৬ সালের কাব্যগ্রন্থ, বসন্তের ঋতু আর জীবনবোধের কবিতা নিয়ে। খেয়া সেই বইয়েরই এক নীরব সুর। সভ্যতার গর্জনের পাশে দুই গ্রামের খেয়ার শান্ত পাড়াপাড়ার ছবি।
কবিতাটি পড়লে চেনা গ্রামের ছবি চোখে ভাসে, নদীর পারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই খেয়াঘাট। রক্তপ্রবাহ আর মুকুটের ইতিহাসের মাঝে খেয়া চলে চিরদিন।
রবীন্দ্রনাথের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আরও জানতে দেখুন উইকিপিডিয়ার চৈতালি পাতা।
খেয়া: কবিতার ভেতরের কথা
শুরুতেই খেয়া নৌকার ছবি, দুই গ্রামের পারাপারের কাজ। তারপর হঠাৎ দুনিয়ার ছবি, দ্বন্দ্ব, রক্ত, মুকুটের ফোটা-টুটা। সভ্যতার ক্ষুধা আর তৃষ্ণার মাঝে শুধু এই খেয়া হেথা চলে। শেষে সেই প্রশান্তি।
বিশ্বের সব চাঞ্চল্যের মাঝে খেয়ার এই নীরবতা যেন জীবনের আসল রূপ। নীরব খেয়া।
অথচ খেয়া চলে।
খেয়া: পুরোটা পড়ুন
পড়ুন কবিতাটি, নদীর সেই খেয়ার ছন্দে ডুব দিন। খেয়ায় ভাসুন।

খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে,
কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।
দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা,
সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা।
পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ,
নূতন নূতন কত গড়ে ইতিহাস,
রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া উঠে
সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে,
সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা,
উঠে কত হলাহল, উঠে কত সুধা-
শুধু হেথা দুই তীরে, কেবা জানে নাম,
দোঁহাপানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম।
এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে,
কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।
কেমন লাগল? ছোট্ট কবিতা, অথচ ভেতরে এক মহাবিশ্ব। রবীন্দ্রনাথের এমন সরল গভীরতা আর কারও নেই।
কেন খেয়া আজও সত্যি?
কারণ যুদ্ধ, দাঙ্গা, বাজারের হৈচৈ আজও চলছে, অথচ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেমে নেই। খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে, এই সত্যটাই কবিতাকে অমর করে।
ওয়েবসাইটে কবিতাটি পঠিত হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি বার।
সমাপ্তি
খেয়া মানে শুধু নৌকা নয়, জীবনকেও পারাপার করানোর নাম। মানুষের যাওয়া-আসা, জন্ম-মৃত্যু, সব যেন এই খেয়ার চাকায়। রবীন্দ্রনাথ এক সরল ছবিতে ধরেছেন গভীর দর্শন। পড়ুন, ভাবুন।
আরও পড়ুন: সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যজীবন







