গ্রেফতারের ভয়ে বনে-জঙ্গলে লুকিয়ে রাত কাটায় কাশ্মীরী যুবকরা!

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে দেওয়ার পর আরও আতঙ্ক এসে গেছে জম্মু-কাশ্মীর এর সাধারণ বাসিন্দা’দের মনে। একদিকে পাকিস্তানিদের অতর্কিতে আক্রমণ, অপরদিকে নিরাপত্তারক্ষীর হানা, এর মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাদেরকে। এপ্রসঙ্গেই সম্প্রতি বয়ান দিলো মোহাম্মদ মাল্লা নামক জনৈক কাশ্মীরবাসী, পুলওয়ামার রামহু গ্রামের বাসিন্দা।

মোহাম্মদ মাল্লা জানালো, গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী হানা দিয়েছে, সেই ভয়ে এক রাত আপেল গাছেই কাটাতে হয়েছে তাকে, এমনকি সেরাতে পেটও ভরেছে আপেল খেয়ে। শুধু মোহাম্মদই নয়, এমনভাবেই নিরাপত্তা বাহিনীকে এড়িয়ে চলেন বহু কাশ্মীরবাসীই।

এপ্রসঙ্গে রামহু গ্রামের বাসিন্দা’দের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজ করায় গত সপ্তাহে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নেমেছিলেন বাসিন্দা’দের একাংশ। তার পর থেকেই গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী হানা দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। বাসিন্দা’দেরকে বেধড়ক মারের পাশাপাশি বাড়িঘর, গাড়ি ভাঙচুর করেন নিরাপত্তারক্ষী’রা। এমনকি কেড়ে নেওয়া হয় তাদের পরিচয়পত্র।

ইতিমধ্যেই গ্রামের ২৩ জন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানান গ্রামের বাসিন্দারা একারণে গ্রেফতারির ভয়ে লুকিয়ে দিন কাটাতে হয় কাশ্মীরের বহু যুবককে, তেমনই একজন হল মোহাম্মদ মাল্লা। এপ্রসঙ্গে সে বলল, “কয়েক দিন আগে মাগরিবের নামাজের ঠিক আগে শিস শুনতে পেলাম। গ্রামে বাহিনী ঢুকলে এ ভাবেই শিস দিয়ে একে অপরকে সতর্ক করি আমরা। গ্রামের পাশেই আমার বাগিচা। সেখানে পালিয়ে গেলাম কয়েক জন।” এরপর ভয়ে আপেল গাছে উঠে পড়েছিল তারা, এবং সেখানেই রাত কাটে।

এপ্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করায় পুলওয়ামার পুলিশের মুখপাত্রের বক্তব্য, “যারা গোলমাল পাকাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবেই। ওই গ্রামের কয়েক জন যুবকের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার অভিযোগ আছে।” 

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য