সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

Advertisement

উত্তপ্ত হালিশহর, ভেঙ্গে দেওয়া হল অর্জুন সিং-এর গাড়ি, আগুনে ভস্মীভূত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ রবিবার রাতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে ফের উত্তাল হল উত্তর চব্বিশ প্রগ্নার হালিশহরে । স্থানীয় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় । অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং-এর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় । পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই বিশাল পুলিশ বাহিনি এলাকায় যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে ।

রবিবার রাতে হালিশহরের হলদেবাড়ি এলাকায় হালিশহরের প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান রাজা দত্তের বাড়িতে গিয়েছিলেন অর্জুন। সেখানে বিজেপির আরও নেতা-কর্মীরা ছিলেন।সেখানে উপস্থিত হয় শাসক দলের কর্মী সমর্থকরা । স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, রাত ৮টা নাগাদ দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বসচা এবং পরে গোলমাল শুরু হয় হলদেবাড়ি মোড়ে। শুরু হয় একের পর এক গাড়িতে ভাঙচুর। ভর সন্ধ্যায় দুই রাজনৈতিক দলের পারস্পারিক সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক শুরু হয় । খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় আসে ।

গতকাল রাতের ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কিছু কর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন । এদিকে  গোলমালের জেরে ভাঙচুর হয় বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের গাড়ি। অর্জুনের অভিযোগ, তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের আরও দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাইক জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পুড়েছে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ও।

অভিযোগ, সুবোধের নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকেরা অর্জুনের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিজেপি কর্মীদের বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অর্জুন বলেন, ‘পুলিশের সামনেই সুবোধের বাহিনী আমাদের উপরে চড়াও হয়। তাণ্ডব চালায়।’ এরই মধ্যে যুব তৃণমূলের একটি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভায়।

তৃণমূলের পাল্টা দাবি, গোলমালের সূত্রপাত তৃণমূল নেতা  সুবোধ অধিকারির গাড়ি ভাঙাকে কেন্দ্র করে। নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘এ দিন রাতে নৈহাটি থেকে সুবোধ তাঁর হালিশহরের বাড়িতে ফিরছিলেন। সে সময়ে হলদেবাড়ি মোড়ে অর্জুনের লোকেরা তাঁর গাড়ি আটকে ভাঙচুর চালায়। অর্জুনের নিরাপত্তারক্ষীরা সুবোধের সঙ্গীদের মারধর করে। তার পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ করেন।’ জেলা তৃণমূলের সভাপতি, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘বিজেপি হিংসার রাজনীতি করতে চাইছে। আমাদের পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়েছে।’

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গেপ্তার করেনি পুলিশ । ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সাউথ) অজয় ঠাকুর বলেন, ‘একটা গোলমাল হয়েছিল। দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তবে আজ সকাল থেকেই এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে ।

মন্তব্য
Loading...