সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

Advertisement

অসাধারন দৃষ্টান্ত; দায় স্বীকার করে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা

বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভে একের পর এক সরকারী সম্পত্তি জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে, ভেঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে । কিন্তু বুন্দেলখণ্ডের মুসলিম সম্প্রদায় এবার অন্য পথে হাঁটলেন । তারা, এই ভাঙচুরের দায় নিয়ে প্রশাসনের হাতে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫০৭ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট তুলে দিয়ে এক অসামান্য নজির গড়ে তুললেন ।

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ নাগরিকত্ব আইন আর এন আর সি নিয়ে সারা দেশ উত্তাল । বিক্ষুপ্ত বিক্ষোভকারীদের হাঙ্গামায় একের পর এক ক্ষতি হচ্ছে সরকারী সম্পত্তির । এবার নিজের শহরে সরকারী সম্পত্তির ক্ষতির দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে  অসাধারন দৃষ্টান্ত স্থাপ্ন করলেন ভারতের বুন্দেলখণ্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ।

বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভে একের পর এক সরকারী সম্পত্তি জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে, ভেঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে । কিন্তু সরকারী সম্পত্তি মানে নিজেদের সম্পত্তি এটা বোঝার বা মানার মত মানসিকতা এত দিন কেউ দেখায় নি । কিন্তু বুন্দেলখণ্ডের মুসলিম সম্প্রদায় এবার অন্য পথে হাঁটলেন । তারা, এই ভাঙচুরের দায় নিয়ে প্রশাসনের হাতে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫০৭ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট তুলে দিয়ে এক অসামান্য নজির গড়ে তুললেন ।

আজ শুক্রবার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে একটি পবিত্র দিন হিসাবে বিবেচিত হয় । তাঁরা এই দিনটিকে “জুম্মবার” হিসাবে মেনে চলেন । এই জুম্মাবারে বুলন্দশহরের এক মসজিদে নমাজ পড়তে জড়ো হয়েছিলেন অনেক মানুষ। নতুন করে অশান্তি শুরু হবার আশংকায় সেখানকার প্রশাসন বেশ তৎপর ছিলেন । কিন্তু প্রশাসনকে অবাক করে দিয়ে  নমাজের পরেই সেখানে উপস্থিত জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার ও সিনিয়র পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমারের হাতে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫০৭ টাকার ডিমান্ড  তুলে দেন মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা।

এই টাকা হাতে পাবার পর অভিভূত জেলা শাসক  জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার বলেন, “বুলন্দশহরের মাধ্যমে শুরুটা হল। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন গত শুক্রবার এই বিক্ষোভে যে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে তা তাঁদেরই ট্যাক্সের টাকায় তৈরি। এটা তাঁদেরই ক্ষতি। আজ এখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একটা আবেদনপত্র ও ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫০৭ টাকার একটা ডিমান্ড ড্রাফট এনে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা তাঁরা চান না।”

এই টাকা ফেরতের ঘটনা নিয়েও বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে । কারা কারা সরকারী সম্পত্তি নষ্ট করার জন্য দায়ী, তাদের ছবি সিসিটিভি ফুটেজে রেকর্ড করা আছে । ফলে ভয় পেয়ে তাঁরা এমন কাজ করেছেন নিজেদের ক্লিন রাখার জন্য । তবে  ব্যাপার যাই হোক না কেন, বুন্দেলখণ্ডের এই মুসলিম সম্প্রদায় যে নজিরবিহীন কাজ্ করেছেন, তার প্রশংসা শোনা গিয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।

মন্তব্য
Loading...