সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

Advertisement

সুখবর; পুজার আগেই পুরোহিতদের মাসিক ভাতার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ পুজার আগেই রাজ্যের পুরোহিতদের জন্য সুখবর এল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে । সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সনাতনী ধর্মের ব্রাহ্মণ, যাঁরা সারা বছর পুজো করেন কিন্তু খুব বেশি টাকা পান না, আর্থিক সমস্যায়ও রয়েছেন, তাঁদের জন্য সরকার মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করতে চলেছে ।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবার সনাতনী ধর্মের দরিদ্র, এবং যাঁদের নির্দিষ্ট বাসস্থানের ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল । মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত এই ধরনের পুরোহিতদের আট হাজার নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে । আগামী মাস অর্থাৎ পুজার মাস থেকেই এই মাসোহারা চালু করা হবে ।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ইমামদের জন্য ‘ইমাম ভাতা’ ঘোষণা করেছিলেন । সেই সময় সনাতনী ধর্মের পুরোহিতদের কথা চিন্তা না করায় বেশ সমালোচনার মধ্যে পড়তে হয়েছিল শাসকদলকে । এবার দরিদ্র সনাতনী ধর্মের ব্রাহ্মণ, যাঁরা সারা বছর পুজো করেন কিন্তু খুব বেশি টাকা পান না, আর্থিক সমস্যায়ও রয়েছেন তাদের জন্য মাসিক ভাতা ঘোষণা করায় অনেকেই মনে করছেন ২১শের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে ‘মাস্টার স্ট্রোক’ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী ।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,  সনাতন ধর্মের ব্রাহ্মণরা অনেক দিন ধরেই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলছিলেন। মন্দিরে মন্দিরে যাঁরা পুজো করেন, তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষ খুবই দরিদ্র। কোনও রকম সাহায্যই তাঁরা পান না। তাঁদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। সনাতন ধর্মের তীর্থস্থান করার জন্য আমরা কোলাঘাটে এক টাকার বিনিময়ে জমি দিয়েছি। কেউ যেন এই সিদ্ধান্তকে অন্য ভাবে দেখবেন না। আমাদের রাজ্যে ইমাম, মোয়াজ্জেনদের ওয়াকফ বোর্ড থেকে ভাতা দেওয়া হয়। এ নিয়ে অনেকেই বড় বড় কথা বলেন। ওয়াকফ বোর্ড কেন দেবে?‌ আমি বলি ইমাম, মোয়াজ্জেনরা অনেক সামাজিক কাজ করেন। আর ওয়াকফ বোর্ড তো উন্নয়ন বোর্ড। তারা তো উন্নয়নের জন্য টাকা দিতেই পারে। যদি অন্য কোনও ধর্মের, যেমন খ্রিস্টান ধর্মের পাদ্রিরা সহায়তা চান, তাহলে অবশ্যই আমরা করব।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, আমরা যেমন শ্মশান, কবরস্থান সংস্কার করি, তৈরি করে দিই, তেমনই যদি খ্রিস্টানদের যেখানে কবর দেওয়া হয়, সেগুলিও যদি সংস্কার করে দিতে বলা হয় করে দেব। ইস্কনকে ৭০০ একর জমি দিয়েছি। ওরা সেখানে মন্দির-‌সহ তীর্থস্থান গড়ে তুলবে। নবদ্বীপে সংস্কৃত চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে। কঙ্কালিতলা, ফুরফুরা শরিফ, তারকেশ্বর, তারাপীঠের সংস্কার করেছি। দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক হয়েছে। কালীঘাটেও হবে। আমরা সব ধর্মের পাশে আছি।

মন্তব্য
Loading...