বাগেরহাটের মোল্লাহাটে জমি কিনে বিপাকে প্রবাসী, আদালতের নির্দেশও মানা হচ্ছে না

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্ক: সবার জীবনে স্বপ্ন থাকে নিজের জমি হবে। সেখানে একটি বাড়ি হবে। সেই বাড়িতে পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করবেন। সাবেক সিংঙ্গাপুর প্রবাসী মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর গ্রামের আমীর হোসেন মোল্লার ছেলে মোঃ মাসুম মোল্লারও তেমন স্বপ্ন ছিল। সে স্বপ্ন পূরণে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে একই এলাকার সিরাজুল হক মোল্লার ছেলে মোঃ মোরাদ মোল্লার কাছ থেকে একই উদয়পুর ইউনিয়নের দেড় বোয়ালিয়া মৌজায় সাত লক্ষ টাকা মূল্যে ১৫ শতক জমি ক্রয় করেন মাসুম মোল্লা। ওই বছর ২ এপ্রিল রেজিষ্ট্রি বায়না চুক্তিপত্রের মাধ্যমে মাসুমকে জমি বুঝিয়ে দেয় মোরাদ মোল্লা। ওই জমি বাবদ নগত পাঁচ লক্ষ টাকা প্রদান করেন মাসুম। বায়না দলিলের পরের দিনই মাসুম মোল্লা তার ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝে নেন এবং কিছু দিন পড়ে ওই জমিতে থাকা পুরোনো ঘরে বসবাস শুরু করেন। পরে পাকা ইমারত ও জায়গায় দোকান ও নতুন স্থাপনা তৈরি করেন মাসুম মোল্লা। বায়নাচুক্তিপত্র অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে অবশিষ্ট দুই লক্ষ টাকা গ্রহন করে কবলা দলিল করে দেওয়ার কথা থাকলেও মোরাদ মোল্লা গরিমসি করতে থাকে। এক পর্যায়ে নিজের জমির দলিল বুঝে পেতে আদলতের দারস্থ হন মোঃ মাসুম মোল্লা। ২০১৬ সালের ৫ মে আদালতের মাধ্যমে জমির দলিল বুঝে পেতে মামলা করেন মোঃ মাসুম মোল্লা। সেই মামলায় এ বছরের ৩০ জুন আদালত রায় দেন। ওই রায়ে বলা হয় দুই মাসের মধ্যে মোঃ মাসুম মোল্লার অনুকূলে তার ভোগ দখলকৃত জমি কবলা দলিল করে দিতে আদেশ দেন মোরাদ মোল্লাকে। আদালতের মাধ্যমে অবশিষ্ট দুই লক্ষ টাকা বুঝে নিতে আদেশ দেন আদালত। কিন্তু তাতেও থামেনি মোরাদ মোল্লা। একের পর এক জমির ক্রেতাকে হুমকী ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। আদালতের আদেশ তিনি মানছেন না। আদালতের রায় পেয়ে মাসুম মোল্লা বাড়িতে ভবনের কাজ শুরু করলে মোরাদ মোল্লা কাজ করতে বাঁধা দেয়। জমি বিক্রির পর থেকে বার বার মাসুম মোল্লাকে মেরে ফেলারও হুমকী দেয় মোরাদ মোল্লা। মোরাদ মোল্লার বিরুদ্ধে মাদকসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তিনি কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেন না। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে আরও উল্টো হুমকি ধামকি দেয়া হয়। এসব হুমকীর বিষয়ে মোল্লাহাট থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছেন মাসুম মোল্লা।

মাসুম মোল্লা বলেন, টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করেছি। কিন্তু সে জমি দলিল করে দেয়নি। উপরন্তু আমার উপর বিভিন্ন ধরণের অত্যাচার নির্যাতন চালায়। আমাকে ও আমার পরিবারের লোকদের মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে। আমি এর থেকে পরিত্রাণ চাই। আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। এবিষয়ে জানতে মোরাদ মোল্লার সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য