জানেন কি অসমে NRC চালুর পেছনে নেপথ্য কারন কি ছিল ?

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ গোটা দেশ একটা আতঙ্কে ভুগছে নাগরিক পঞ্জিকরন বা NRC চালু হওয়া নিয়ে । এর আগে অসমে নাগরিক পঞ্জিকরন বা NRC চালু হয়েছে । সেখানে অনেক মানুষ আছেন যাদের নাম নাগরিক পঞ্জি করন বা NRC-র তালিকায় ওঠে নি । কিন্তু অন্য কোন রাজ্য নাগরিক পঞ্জি করন বা NRC চালু না হয়ে অসমে কেন চালু হল প্রথম ?

ইতিহাস দেখার আগে দেখে নিতে হবে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে হলে কি যোগ্যতা দরকার । ভারতের নাগরিকত্ব নির্ভর করে   সাধারণত জন্ম এবং বংশপরম্পরা দ্বারাই । ১৯৪৯ সালের ২৯শে  নভেম্বরে চালু হওয়া ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তির বাবা অথবা মা ভারতে জন্মগ্রহন করেন বা পাঁচ বছরের বেশি সময় সেই ব্যক্তি ভারতে থাকেন, তিনি ভারতের নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত হতে পারেন। এছাড়া, ১৯৫৫-র নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, জন্মের তারিখের নিরিখেও নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই-এ ভারতে যাঁদের জন্ম,  তাঁরা জন্মসূত্রে ভারতীয় হিসাবে বিবেচিত  ।অপর দিকে, ২০০৪-এর ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তির বাবা অথমা মা কেউ একজন ভারতীয় হলেই তাঁকে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

তবে অসমের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব-র প্রশ্ন আলাদা । এই বদল মূলত ইতিহাসের কারণেই। ব্রিটিশ শাসনের সময়, প্রশাসনিক কাজের উদ্দেশ্যে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির সঙ্গে আসামকে একত্রিত করা হয়। ১৮২৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত চা চাষের জন্য কম পারিশ্রমিকে কর্মীদের নিয়ে আসা হত, তবে দুটি পরিবর্তনের জোয়ার এসেছিল ব্রিটিশ শাসনের পরই – পূর্ব পাকিস্তান (এখন বাংলাদেশ) ভাগ হওয়ার পর এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর ।তবে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অবৈধ নাগরিকদের জন্য একটি আইন চালু করেন । যা কেবল আসামেই প্রযোজ্য ছিল। মূলত বিদেশিদের বিরুদ্ধেই এই আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট আই এম ডি টি আইনটি খারিজ করেন।

১৯৭৯-৮৫ সালে অসম ছাত্র সংগঠনের আন্দোলনটি সমস্ত আন্দোলনকে উৎসাহ দিতে এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৮৫-তে রাজীব গান্ধী সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তিপত্র সই করে আসাম। এই চুক্তির দ্বারা অবৈধ বসবাসকারীদের চিহ্নিত করে নির্বাসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুটি তারিখের নিরিখে এই নাগরিকত্ব ঠিক করা হয় – ১ জানুয়ারি, ১৯৬৬ এবং ২৫ মার্চ, ১৯৭১। ১৯৬৬-র ১ জানুয়ারির আগে আসামে থাকলে তিনি আসামের নাগরিক বলে বিবেচিত হবেন। পাশাপাশি যাঁরা এই দুটি তারিখের মধ্যে আসামে প্রবেশ করেছেন এবং সেখানেই থেকেছেন, তাঁদের ফরেন ট্রাইব্যুনালে নিজেদের বিশদ নথিভুক্ত করেই নাগরিকত্ব পেতে হয়েছে এবং এই নথিভুক্তকরণের পর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ভোটাধিকার ছাড়া নাগরিকের সমস্ত অধিকারই থাকবে। ১০ বছর শেষ হলে, এই মেয়াদও ফুরিয়ে যাবে। তবে যাঁরা ২৫ মার্চ, ১৯৭১-এর পর আসামে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...