করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কলকাতায়; ডাক্তার বলল ভয়ের কিছু নেই

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ চীনে এখন করোনাভাইরাসের কারনে মৃত্যু মিছিল চলছে। আতঙ্কের মাঝে আচমকা খবর এল কলকাতার এক হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন চিকিৎসাধীন, তার রক্তে মিলেছে করোনাভাইরাস । হাসপাতালের ডাক্তার বলেছেন, ভয়ের কিছু নেই ।

করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কি এবার কলকাতাতেই এসে হাজির হল ? এবার কি সত্যি সত্যি করোনাভাইরাস প্রবেশ করল তিলোত্তমায় ! এমনটা ভাবার পিছনে কারন হল সম্প্রতি কলকাতার মুকুন্দপুরে আর এন টেগোর হাসপাতালে  ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে  ভর্তি হওয়া একজন প্রৌঢ়ের রক্তপরীক্ষা করার পরে ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, করোনাভাইরাস রয়েছে তাঁর রক্তে । ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায় আক্রান্ত্র ব্যাক্তির পরিজনদের মধ্যে । আতঙ্কও দানা বাঁধতে শুরু করে ।

তবে আর এন টেগোরের চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, অসুস্থ ব্যাক্তির রক্তের নমুনায় করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে এটি সঠিক খবর । তবে এটি করোনাভাইস হলেও চীনের নোবেল করোনাভাইরাসের মত মারাত্মক নয় । নোবেল করোনাভাইরাসের সাথে এই করোনাভাইরাসের অনেক পার্থক্য আছে ।

আর এন টেগোর হাসপাতালে যে ব্যাক্তি এই মুহূর্তে ভর্তি আছেন, তার সম্পর্কে জানা গেছে, তার বাড়ি যাদবপুরের কাছে পোদ্দারনগর এলাকায় । সম্প্রতি,  ফুসফুসের সংক্রমণ ছাড়াও একাধিক অসুখ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। অবস্থা খুব একটা ভাল নয় তাঁর। রক্তপরীক্ষায় শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব। কিন্তু সেই করোনাভাইরাসের কারণেই যে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমে অবনতি হচ্ছে, তা নয় বলেই নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল। এ প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে করোনাভাইরাসের কারণে গ্লোবাল হেল্থ এমার্জেন্সি জারি হয়েছে, এটা সেই করোনাভাইরাস নয়। অনেক রকম করোনাভাইরাস হয়।এইচসিওভি-২২৯ই, এইচসিওভিএনএল-৬৩ অথবা এইচসিওভি এইচকেইউ-১ জাতীয় করোনাভাইরাস অত্যন্ত সাধারণ। এমনই এক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি।

আরএন টেগোর হাসপাতালেরই বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসও জানিয়েছেন, এই করোনা ভাইরাসের সঙ্গে নভেল করোনা ভাইরাসের কোনও সম্পর্ক নেই। নোভেল করোনা ভাইরাস এনসিওভি২০১৯ শ্রেণির। দুটো একেবারেই আলাদা। এই হাসপাতালে ভর্তি থাকা আক্রান্ত প্রৌঢ় কিডনির অসুখে ভুগছেন। বার্ধক্যজনিত সমস্যাও রয়েছে তাঁর। তাই এই অবস্থায় সাধারণ ভাইরাসকে ঠেকানোর মতো প্রতিরোধ শক্তিও তিনি প্রয়োগ করতে পারছেন না। তার মানে এই নয়, তিনি মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত। আদতে এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আর পাঁচটা ভাইরাল অসুখের মতোই।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...