সুন্দরবনর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ ম্যানগ্রোভের সারি। নদীর বুক চিরে চলা নৌকা, ভোরের কুয়াশা, আর কোথাও যেন লুকিয়ে থাকা বাঘের উপস্থিতি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন এই সুন্দরবন। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ১৯৮৭ সালে। বিশ্বের বিস্ময়।
ভ্রমণপিপাসু বাঙালির তালিকায় এই জায়গা প্রায় সবারই। চলুন জেনে নিই, ২০২৬ সালে সুন্দরবন ঘুরতে গেলে কী কী মাথায় রাখবেন। শুরু করা যাক।
কলকাতা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার উপায় কী?
কলকাতা থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট হলো ক্যানিং হয়ে গোদখালি। সিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেন ধরে ক্যানিং, সেখান থেকে অটো বা বাসে গোদখালি। মোট সময় লাগে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। গোদখালিই সুন্দরবন যাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বার।
আরেকটা রুট বসন্তি হয়ে সোনাখালি, সেখান থেকেও নৌকায় ওঠা যায়। পারমিটের খুঁটিনাটি বন বিভাগের সরকারি সাইটে দেখে নিতে পারেন, প্যাকেজ নিলে অপারেটরই সব করে দেয়। খুব ঝামেলা নেই।
সুন্দরবনে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?
সজনেখালি সবার আগে। এখানে ওয়াচটাওয়ার, জাদুঘর আর কুমির প্রকল্প, সব এক জায়গায়। বাঘ দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি সুদন্যখালিতে। দোবাঙ্কির ক্যানোপি ওয়াকও বাদ দেবেন না। চোখ ধাঁধানো দৃশ্য।
নেতিধোপানির মন্দির ধ্বংসাবশেষ দারুণ লাগে। বুড়ির ডাবরি ওয়াচটাওয়ার থেকে বনের বিশালতা চোখে পড়ে। ভাগ্য ভাল থাকলে ভোরবেলা হরিণের দল আস্তে আস্তে ঘাসে নামতে দেখবেন। সত্যিই অনন্য।
ট্যুর অপারেটরদের প্যাকেজে সাধারণত সজনেখালি, সুদন্যখালি, দোবাঙ্কি মিলিয়ে দেওয়া থাকে। তিন দিনের ট্যুরে নেতিধোপানি বা বুড়ির ডাবরি পর্যন্তও যাওয়া যায়।

খরচ কেমন পড়বে?
ডে ট্যুরে খরচ পড়ে জনপ্রতি হাজার দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। দুই রাত তিন দিনের প্যাকেজ পাওয়া যায় সাড়ে চার থেকে সাত হাজার টাকার মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্যাকেজে খরচ আগে থেকে জেনে নেওয়া যায়। বলে কথা।
প্যাকেজে থাকা, খাবার, গাইড, পারমিট, সব মিলিয়ে থাকে। চাইলে নিজেও গিয়ে লঞ্চ ভাড়া করতে পারেন, তবে পারমিট আর গাইড ঠিক করতেই হবে।
কখন যাওয়া ভাল? থাকবেন কোথায়?
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন ঘোরার সবচেয়ে ভাল সময়। শীতে মশার উপদ্রব কম, নদীও কিছুটা শান্ত থাকে। বর্ষাকালে অনেক লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে বলে ঘোরার সুযোগ কমে। ব্যস্ত সময়।
থাকার ব্যবস্থা লঞ্চে না হয় দ্বীপের রিসর্টে। বালি, সাতজেলিয়া, পাখিরালয়, গোসাবা, এই কটা জায়গায় রিসর্ট আছে, আগে থেকে বুকিং করে রাখুন।
ভ্রমণের সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন
- আধার কার্ড বা সরকারি পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন, পারমিটের সময় লাগবে।
- জঙ্গলে নামা নিষিদ্ধ, নৌকা থেকে গাইডের সঙ্গে অনুমোদিত জায়গায় ঘুরুন।
- মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেক জায়গায় মেলে না, এটা জেনে রেখে নিশ্চিন্ত থাকুন।
- প্লাস্টিক বা আবর্জনা বনে ফেলবেন না, প্রকৃতি রক্ষা করাই ডিউটি।
- ওষুধ আর পর্যাপ্ত জল সঙ্গে নেওয়া ভাল, হালকা খাবারও মিস করবেন না।
উপসংহার
সুন্দরবন মানে শুধু বাঘ নয়, এ এক জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র। নদীর নীরবতা, ম্যানগ্রোভের ছায়া, পাখির ডাক, সব মিলিয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। ভাল করে প্ল্যান করলে খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আরও পড়ুন: মন্দারমণি ভ্রমণ গাইড ২০২৬, ডুয়ার্স ভ্রমণ গাইড ২০২৬।








