চলতি বছরের খরিফ কিস্তি কবে নামবে, তা নিয়ে মাঠে মাঠে এখন জোর জল্পনা। এমন সময়ে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের পুরো নিয়মটা একবার ঝালিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ, বছরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান হাতছাড়া করা যায় না।
আপনি কি কৃষক? নিজের নামে সামান্য জমি আছে? তাহলে এই খবর আপনার জন্য। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পে জমি অনুযায়ী বছরে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যায় সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। জেনে নিন খুঁটিনাটি।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প আসলে কী?

২০১৯ সালে চালু হয় এই প্রকল্প। চাষের খরচ জোগানো আর মহাজনের কাছে জমি বন্ধক রাখার দিন শেষ করাই ছিল লক্ষ্য। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিয়ম বদলে অনুদানের অঙ্কও বেড়েছে। সোজা কথায়, চাষের বন্ধু।
টাকা যায় কৃষকের নিজের ব্যাংকে। মাঝে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী নেই, পুরো লেনদেন স্বচ্ছ, বছরে দু দফায় আসে।
কত টাকা পাওয়া যায়?
| জমির পরিমাণ | বছরে অনুদান |
|---|---|
| ১ একর বা তার বেশি | ১০,০০০ টাকা |
| ১ একরের কম, ১ শতক হলেও | ৪,০০০ টাকা |
| ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কৃষকের মৃত্যুতে | পরিবার পায় ২ লক্ষ টাকা |
১ একরের বেশি জমিতে মেলে পুরো ১০ হাজার টাকা। আর মাত্র ১ শতক জমি থাকলেও মিলবে ৪ হাজার। কম জমি বলে কেউ বাদ পড়বে না।
কিস্তি কবে আসে?
পুরো টাকা একসঙ্গে আসে না। বছর ভাগ হয় দুই কিস্তিতে। খরিফ মরসুমে এক দফা, রবি মরসুমে আরেক দফা। তাও দু দফায়।
এক একরের বেশি জমির কৃষক প্রতিবার পান ৫ হাজার করে। কোন তারিখে টাকা যাবে, তা ঘোষণা করে কৃষি দপ্তর। ঘোষণা এলেই খবর মেলে পোর্টালে।
নিয়ম, হার, কিস্তির হিসেব, সবিস্তার লেখা আছে সরকারি পোর্টালে। দাপ্তরিক পোর্টালে বিস্তারিত দেখুন।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- নিজের নামে চাষযোগ্য জমি বা খতিয়ান থাকতে হবে।
- নিজের জমি না থাকলেও সমস্যা নেই। নথিভুক্ত বর্গাদার হলে বর্গা নিবন্ধনের শংসাপত্র দিয়েই আবেদন সম্ভব।
জমির কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই। নিজের নামে ১ শতক চাষযোগ্য জমি থাকলেই আবেদন করা যায়। নামমাত্র জমিও চলবে।
আবেদনে কী কী নথি লাগবে?
- জমির সাম্প্রতিক পর্চা বা খতিয়ান, বর্গাদার হলে বর্গা নিবন্ধনের শংসাপত্র
- ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড
- নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবই, আইএফএসসি কোড স্পষ্ট থাকতে হবে
- সচল মোবাইল নম্বর
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আবেদন করবেন কীভাবে?
সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদনের সুযোগ নেই। পোর্টাল থেকে ফর্ম নামিয়ে যত্ন করে পূরণ করতে হয়। পরে নথির কপি জুড়ে জমা দিতে হয় ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তার অফিসে। শুধু নথিগুলো ঠিক রাখুন।
দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা জনকল্যাণ শিবিরেও ফর্ম জমা দেওয়া চলে। অফিসের লোকজন তথ্য যাচাই করে পোর্টালে এন্ট্রি করলেই আবেদন সফল। আর কী দরকার!
টাকা পেলেন কি না, বুঝবেন কীভাবে?
আবেদনের পরে টাকা ঢুকেছে কি না, তা জানতে স্ট্যাটাস চেক করুন। কৃষক বন্ধু আইডি, ভোটার নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিয়ে পোর্টালে দেখা যায়।
কোনো ঝামেলা লাগলে টোল ফ্রি হেল্পলাইনে ফোন করুন, নম্বর ৬২৯১৭২০৪০৬। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কথা বলা যায়। সাথে রাখুন ব্যাংকের মেসেজটাও।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বছরে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান, তাও ভাগ হয়ে দুই কিস্তিতে। যোগ্যতা মানলে ফর্ম জমা দেওয়ার পথ খোলা। খরিফ কিস্তির তারিখ ঘোষণা হলেই পোর্টালে দেখা যাবে, তাই মাঝে মাঝে একবার দেখে নিন। এই পুরো খবর।
আরও পড়ুন:
- PM কিষান ২৪তম কিস্তি: অক্টোরে ২,০০০ টাকা পাওয়ার তারিখ
- পুজোর আগেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩ হাজার, কিস্তি কবে?








