বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় সুখবর। কারণ, রাজ্য সরকারের যুবশক্তি প্রকল্পে এবার প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত মিলবে। যোগ্যতা থাকলেই আবেদন করা যাবে। আর টাকা দেওয়া শুরু হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে।
স্কুল-কলেজের পড়া শেষ, অথচ চাকরি নেই, এমন হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর জন্য এই প্রকল্প। মাসে ২,০০০ টাকা পাবেন মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকে সফল হওয়া যুবক-যুবতীরা, আর ৩,০০০ টাকা পাবেন স্নাতকরা। টাকা যাবে ডিবিটি (DBT) পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে, কারা আবেদন করতে পারবেন আর কী কী নথি লাগবে, জেনে নিন খুঁটিনাটি।
যুবশক্তি প্রকল্পে কারা কত টাকা পাবেন?
দুটো ভাগে এই টাকা দেওয়া হবে। মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীরা পাবেন মাসে ২,০০০ টাকা। আর স্নাতক ডিগ্রি থাকলে মাসে ৩,০০০ টাকা। পড়াশোনার সার্টিফিকেট অনুযায়ী হার ঠিক হবে। খবরটা দারুণ। শুনে ভালো লাগল।

কারা আবেদন করতে পারবেন?
সবাই কিন্তু এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না। কিছু শর্ত আছে, সেগুলো মিললেই আবেদন চলবে। সত্যি কথা।
- আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে। বর্তমানে সম্পূর্ণ কর্মহীন, সরকারি বা স্থায়ী বেসরকারি চাকরি নেই, এমনই হতে হবে।
- বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছর। কম বা বেশি হলে আবেদন নেওয়া হবে না।
- পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম, বছরে হিসেবে ১২ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
- পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে?
নথিগুলো পাঁচ ভাগে সাজিয়ে নিলে কাজ সহজ। এক এক করে দেখে নিন, কোনটা আছে আর কোনটা নেই।
- পরিচয়ের প্রমাণ: আধার কার্ড আর ভোটার কার্ড। ভোটার তালিকায় নাম থাকতেই হবে।
- বয়সের প্রমাণ: জন্ম সার্টিফিকেট, না থাকলে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড।
- শিক্ষার সার্টিফিকেট: ২,০০০ টাকার জন্য মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের মার্কশিট, ৩,০০০ টাকার জন্য স্নাতকের মার্কশিট ও ডিগ্রি।
- আয় ও ব্যাঙ্কের নথি: বিডিও (BDO) অফিস থেকে ইনকাম সার্টিফিকেট, আর আধার-ডিবিটি লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক পাসবই।
- বাকি কাগজ: পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সক্রিয় মোবাইল নম্বর, ইমেল। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্ড থাকলে সঙ্গে রাখুন।
টাকা পেতে কী কী খেয়াল রাখবেন?
আবেদন করতে গিয়ে ছোটখাটো ভুলে টাকা আটকে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়, তাই তিনটে বিষয়ে চোখ রাখুন।
- সব কাগজে নামের বানান এক রাখুন। আধার, ভোটার, মার্কশিট আর ব্যাঙ্ক পাসবই, সব জায়গায় একই বানান থাকতেই হবে।
- একটা মোবাইল নম্বরই ব্যবহার করুন। পোর্টাল, আধার আর ব্যাঙ্ক, তিন জায়গাতেই এক নম্বর।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় করুন। চালু না থাকলে যোগ্য প্রার্থীর টাকাও পৌঁছয় না।
আবেদন কীভাবে করবেন?
আবেদন হবে অনলাইন পোর্টালে। আবেদন শুরুর তারিখ আর পোর্টালের লিংক জানাবে রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি। আপাতত রাজ্য সরকারের প্রকল্পের খবর রাখা যাক, উইকিপিডিয়ার কন্যাশ্রী প্রকল্পের পাতা থেকেও কাজের তথ্য মিলবে। খবরটা নজরে রাখুন।
মনে রাখুন, সরকারি প্রকল্পে আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, আবেদনের নামে কেউ টাকা চাইলে কোনো এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারীকে ভরসা করবেন না। ব্যস, এতটুকুই।
উপসংহার
যুবশক্তি প্রকল্প বেকার তরুণ-তরুণীদের হাতে কিছুটা হলেও ভরসা দেবে বলেই মনে হচ্ছে। মাসে ২,০০০ বা ৩,০০০ টাকা বিশেষ কিছু নয়, কিন্তু অভাবের বাজারে ছোট হলেও এই টাকা কাজে লাগে। যোগ্যরা যাতে ছাড়া না যান, সে জন্য নথিগুলো এখনই গুছিয়ে রাখুন।
আরও পড়ুন: বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে মাসিক ভাতা, পুজোর আগেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩ হাজার।








