১৯৬৮ সাল। কলকাতার স্টুডিয়োর ভোর। সেটের কোণে দাঁড়িয়ে ছোট্ট এক ছেলে। ক্যামেরার সামনে ওকে পৌঁছে দিতে এলেন পরিচালক। তিনিই আবার ওর বাবা, হিন্দি আর বাংলা ছবির স্টার বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছেলেটির অভিনয় জীবন শুরু হলো ওই ছবিতেই, ছোট্ট জিজ্ঞাসা। বছর ঘুরতেই বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের পুরস্কারও জিতে নিল সে।
সেই ছোট্ট ছেলেটিই আজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা ছবির অন্যতম সেরা অভিনেতা, সবার প্রিয় বুম্বা দা। ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। এবার ৬৪ বছরে পা দেবেন তিনি। শিশুশিল্পী থেকে ৪০০ ছবির নায়ক হয়ে ওঠার কাহিনি, পুরস্কারের তালিকা, আর তাঁর সামাজিক মাধ্যমের ঠিকানাগুলো এই লেখাতেই।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৬২, কলকাতা |
| বাবা | বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কিংবদন্তি অভিনেতা |
| মা | রত্না চট্টোপাধ্যায় |
| বোন | পল্লবী চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী |
| স্ত্রী | অর্পিতা পাল |
| প্রথম ছবি | ছোট্ট জিজ্ঞাসা (১৯৬৮), শিশুশিল্পী হিসেবে |
| নায়ক হিসেবে অভিষেক | দুই পাতা (১৯৮৩) |
| সবচেয়ে বড় হিট | অমর সঙ্গী (১৯৮৭) |
| মোট ছবি | ৪০০-এর বেশি |
| বিশেষ সম্মান | জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বঙ্গবিভূষণ (২০১৮) |
| পরিচিতি | বুম্বা দা |
| সামাজিক মাধ্যম | ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ফেসবুক |
| ওয়েবসাইট | অফিসিয়াল ওয়েবসাইট |
বুম্বা দা নামটা শোনেননি এমন কে আছে?
টলিউডে তাঁকে চেনে সবাই। দর্শক ডাকে বুম্বা দা বলে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা, সব জায়গায় এই নামটাই পরিচিত। ১৯৮০ দশক থেকে টানা হিট ছবি দিয়ে বাংলা বক্স অফিসে রাজত্ব করেছেন তিনি।

শিশুশিল্পী থেকে স্টার, পথটা ছিল কেমন?
ছোট্ট জিজ্ঞাসার পরে আরও কিছু ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু ১৯৮৩ সালে দুই পাতা ছবিতে নায়ক হয়ে এলেন তিনি। সেই শুরু, তারপর থেমে থাকা নেই।
১৯৮৭ সালের অমর সঙ্গী তো ইতিহাস। সিনেমাটি এত বড় হিট হয়েছিল যে আজও তার নাম শুনলেই পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যায়। ওই সময়ে একের পর এক ছবি করে গেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে ডেভিড ধাওয়ানের আঁধিয়া আর ১৯৯১ সালে মিত মেরে মন কে ছবিতে বলিউডেও হাত মেলান। সফলতা আসেনি, তবে বাংলায় ফিরে তিনি আবার ঝড় তুললেন।
ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে বদলে গেল ক্যারিয়ার
১৯৯০-এর দশকের শেষে ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতে নজর কাড়লেন তিনি। উনিশে এপ্রিল, উৎসব, চোখের বালি, দোসর, খেলা। প্রতিটিতেই আলাদা প্রসেনজিৎ।
দোসর ছবির অভিনয়ের জন্য ২০০৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিশেষ উল্লেখ পান তিনি। ঋতুপর্ণের দ্য লাস্ট লিয়র ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করলেন। এটিই তাঁর একমাত্র ইংরেজি ছবি। বিকল্প ধারার ছবিতেও তিনি স্বচ্ছন্দ।
২০১০ সালে মনের মানুষ ছবিতে লালন ফকিরের ভূমিকায় দেখা গেল তাঁকে। দর্শকরা বলেছিলেন, এরপর আর পেছনে ফেরা নেই। ওই ছবিতে অভিনয়ের জন্য আনন্দলোক পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ৪০০ ছবি আর পুরস্কারের ঝুলি
এক ক্যারিয়ারে ৪০০ ছবির বেশি সিনেমা। ১৯৮৩ সাল থেকে টানা জনপ্রিয়তা, এমন উদাহরণ বাংলা ছবিতে হাতে গোনা।
পুরস্কারের তালিকাটাও কম নয়। ২০০৭ সালে দোসরের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০১৩ সালে মহানায়ক সম্মান, ২০১৮ সালে বঙ্গবিভূষণ। সঙ্গে একাধিক ফিল্মফেয়ার ইস্ট, বিএফজেএ আর জি সিনে পুরস্কার তো রয়েছেই।
২০১৭ সালে লিখেছেন আত্মজীবনী, বুম্বাদা শট রেডি। সিনেমার খুঁটিনাটি আর নিজের জীবনের নানা কথা আছে বইটিতে, পুরো ছবির তালিকা মিলবে তাঁর উইকিপিডিয়া পাতায়।
টিভির পর্দায়ও মাতিয়ে চলেছেন
বড় পর্দার বাইরে ছোট পর্দাতেও তাঁর জয়জয়কার। ২০১৮ সালে কে হবে বাংলার কোটিপতি অনুষ্ঠানে সঞ্চালক হয়েছিলেন তিনি। সেটি দর্শকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জি বাংলার অমর সঙ্গী আর মিত্তির বাড়ি ধারাবাহিকে কাজ করছেন তিনি। পুরনো ছবির নাম, নতুন পর্দার জাদু।
আর কিছুদিন পরেই ৩০ সেপ্টেম্বর। এবার ৬৪ বছরে পা দেবেন বুম্বা দা। শিশুশিল্পী থেকে ৪০০ ছবির নায়ক হয়ে ওঠার গল্প, ছোট পর্দার জনপ্রিয়তা, সব মিলিয়ে এক দারুণ ক্যারিয়ার। জন্মদিনে তাঁর অনুরাগীরা চাইবেন আরও ভালো ছবি আর ভালো থাকা। ওটাই আমাদের শুভেচ্ছা।
আরও পড়ুন: জিৎ-এর জীবনী: টলিউডের বস, ৫৭টি ছবির কাহিনি এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলির জীবনী: ক্যারিয়ার ও ছবির তালিকা।








