১৯৯৪ সাল। সেই বছর এক তরুণ টিভি সিরিয়ালে প্রথম অভিনয় করলেন। নাম তখনও ছোট, তবে স্বপ্নটা ছিল বিশাল। সেই তরুণই আজ টলিউডের ‘বস’।
তিনি আর কেউ নন, জনপ্রিয় নায়ক জিৎ। প্রায় তিন দশকের কেরিয়ারে খেলে ফেলেছেন ৫৭টি ছবি। ১৯৭৮-এ কালীঘাটের সাধারণ পরিবারের ছেলে থেকে আজ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন। কথাটা শুনতে ভালো লাগে। আসুন, পুরো কাহিনিটা একসাথে পড়ে নিই।
জিৎ-এর জন্ম ও পরিবার কেমন?
জিৎ-এর আসল নাম জীতেন্দ্র মাদনানি। ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর কলকাতার কালীঘাটে জন্ম। বাবার ব্যবসা, মায়ের সংসার, সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবন। এখানেই তাঁর বড় হয়ে ওঠা।
পড়েছেন কলকাতার ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজে। কলেজ থেকেই মডেলিং আর অভিনয়ের প্রতি টান বাড়ে। যাত্রা শুরু সেখান থেকেই।
জিৎ-এর জীবনী এক নজরে
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| জন্ম তারিখ | ৩০ নভেম্বর, ১৯৭৮ |
| জন্মস্থান | কালীঘাট, কলকাতা |
| আসল নাম | জীতেন্দ্র মাদনানি |
| শিক্ষা | ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজ |
| পেশা | অভিনেতা, প্রযোজক, উদ্যোক্তা |
| মোট ছবি | ৫৭টি |
| প্রোডাকশন হাউস | গ্রাসরুট এন্টারটেইনমেন্ট, জিৎজ ফিল্মওয়ার্কস |
| পরিবার | স্ত্রী মোহনা, দুই সন্তান |
| সামাজিক মাধ্যম | ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার), ফেসবুক |
কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল টিভিতে
কেরিয়ারের শুরুটা কোনো বড় সিনেমা দিয়ে হয়নি। ১৯৯৪ সালে প্রথম কাজ একটি হিন্দি টিভি ধারাবাহিকে। নাম বিষবৃক্ষ। বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি। বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
সেই শুরু। এরপর একের পর এক টিভি ধারাবাহিক।
বড় পর্দায় পা রাখা ও ‘সাথী’র জাদু
বড় পর্দায় প্রথম ছবি চাঁদু, ২০০১ সালে। তবে বাণিজ্যিকভাবে তেমন চলেনি। তাই হতাশ হননি। ধৈর্য ধরেছিলেন।
২০০২ সালে মুক্তি পেল সাথী। সর্বকালের সেরা বাণিজ্যসফল বাংলা ছবিগুলোর একটি এটি। সাথী-র হাত ধরে জনপ্রিয়তার শিখরে জিৎ।

কোন কোন ছবি এনেছে সাফল্য?
কেরিয়ারে সাফল্য এসেছে একাধিক ছবি থেকে। নটর গুরু, সাঙ্গী, শুভদৃষ্টি, জোর, দুই পৃথিবী, জোশ সবই দর্শক টেনেছে।
আওয়ারা ও ফাইটার-ও করেছে দারুণ ব্যবসা। এরপর এল বস: বর্ন টু রুল, দিওয়ানা, বচ্চন, গেম। বাদশা দ ডন, বস ২-ও ভুলতে পারেননি দর্শক। প্রতিটিই বক্স অফিসে জায়গা করে নিয়েছে।
প্রোডাকশন হাউস ও নতুন উদ্যোগ
অভিনয়ের বাইরেও নিজের প্রোডাকশন হাউস খুলেছেন। গ্রাসরুট এন্টারটেইনমেন্ট ও জিৎজ ফিল্মওয়ার্কস থেকে তৈরি হচ্ছে একাধিক ছবি। ছবিতেও নিচ্ছেন প্রযোজকের ভূমিকা।
২০২২ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরামের নির্বাহী সভাপতি তিনি। শুধু পর্দায় নয়, সংগঠনেও তাঁর বড় ভূমিকা। সিনেমা জগতের জন্য কাজ করছেন নিরলস। বাংলা ছবির উন্নতিতেই যে তাঁর মূল লক্ষ্য। এই দায়িত্বকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
চেঙ্গিজ ও দেশজুড়ে সমাদর
বাংলা ছবির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে চেঙ্গিজ, ২০২৩ সালে। তিনিই প্রথম বাংলা ছবি, যেটি হিন্দি ভাষাতেও একসাথে মুক্তি পেয়েছিল।
২০২৪ সালে এল বুমেরাং। দেশজুড়ে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে ছবিটিও। যাত্রা চলছে অমোঘ গতিতে। থামার কোনো লক্ষণ নেই।
জিৎ-এর ব্যক্তিগত জীবন
পর্দার ‘বস’ বাস্তব জীবনে সাদামাটা মানুষ। ২০১১ সালে মোহনা রাতলানিকে বিয়ে। তাঁদের দুটি সন্তান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জিৎ
জিৎ-কে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় টুইটারে। ইন্সটাগ্রামে ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন সরাসরি।
সমাজসেবা, কাজের ছবি, পরিবারের সঙ্গে মুহূর্ত। মিশেলেই ভরপুর তাঁর সোশ্যাল হ্যান্ডেল। তিন দশক ধরে বাংলা সিনেমার নায়ক। যাত্রা এখনো থেমে নেই।
আরও ছবি, আরও গল্প, আরও স্বপ্ন। ভক্তদের জন্য এটাই বড় খবর। অপেক্ষা থাক শুধু।
উপসংহার
কালীঘাটের এক ছেলে থেকে টলিউডের ‘বস’ হয়ে ওঠার গল্পই হলো জিৎ-এর। ৫৭টি ছবি, নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস, নিরলস পরিশ্রম। সব মিলিয়ে তাঁকে রেখেছে শীর্ষে। বাংলা সিনেমা পেয়েছে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ভবিষ্যতেও তাঁর নাম আলাদা হয়ে থাকবে।
এ নিয়ে সন্দেহ করার জায়গা নেই। জিৎ নামটা ঘিরে থাকবে লাখো ভক্তের ভালোবাসা।
আরও পড়ুন: রিতুপর্ণা সেনগুপ্তের জীবনী এবং জগদ্ধাত্রী সিরিয়ালের নতুন মোড়








