নাম বদলে গেল পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রী প্রকল্পটির। কন্যাশ্রী এখন পরিচিত হবে কন্যারত্ন প্রকল্প নামে। নাম বদলেছে, লাভের অঙ্ক বদলায়নি। K2 ধাপে এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাবেন যেসব ছাত্রী। জেনে নিন খুঁটিনাটি।
২০১৩ সালে চালু হয় প্রকল্পটি। চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পরে জাতিসংঘের পুরস্কারও জিতেছিল কন্যাশ্রী। এবার নাম বদলের ঘোষণা এল নবান্ন থেকে। ২৯ জুলাই স্কুলগুলিতে কম্পোজিট গ্র্যান্ট দেওয়ার অনুষ্ঠানে নতুন নাম জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কন্যাশ্রী কেন হয়ে গেল কন্যারত্ন?
প্রশ্নটা সবার মুখেই ছিল। পুরনো প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে না তো? মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না।
এ নিয়ে বিস্তারিত আছে ইটিভি ভারতের প্রতিবেদনে। আরেকটা ঘোষণাও দিয়েছেন উনি, এবার থেকে ১৪ অগস্ট পালিত হবে কন্যারত্ন দিবস হিসেবেই।
কন্যারত্ন প্রকল্পে কী কী সুবিধা মিলবে?
সুবিধার তালিকা আগের মতোই, তিন ধাপে। K1 ধাপে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি স্কুল ছাত্রীরা পাবেন বার্ষিক ১ হাজার টাকা। পড়তে হবে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে। পুরনো কন্যাশ্রীর নিয়মই মানা হচ্ছে। টাকাটা সরাসরি অ্যাকাউন্টে।

| ধাপ | কারা পাবেন | কত টাকা |
|---|---|---|
| K1 | ১৩ থেকে ১৮ বছরের স্কুল ছাত্রী | বার্ষিক ১ হাজার |
| K2 | ১৮ থেকে ১৯ বছরের অবিবাহিত ছাত্রী | এককালীন ২৫ হাজার |
| K3 | স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রী | মাসিক ২ হাজার থেকে ২৫০০ |
K2 ধাপের টাকাটাই মূল আকর্ষণ। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি অবিবাহিত ছাত্রীদের দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা। স্ব-ঘোষণাপত্রও লাগবে।
K3-এর কথাটা একটু আলাদা। যাঁরা K2 পেয়েছেন, স্নাতকে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের জন্য মাসিক বৃত্তি। কলা ও বাণিজ্যে ২ হাজার টাকা, বিজ্ঞানে ২৫০০ টাকা। কথাটা মনে রাখবেন।
যোগ্যতা কী কী?
কন্যারত্নের জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ছাত্রী হতে হবে অবিবাহিত। পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রাখতে হবে।
আয়ের শর্তে ছাড় আছে, তিন ক্ষেত্রে। দাপ্তরিক তথ্য মিলবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সরকারি পৃষ্ঠায়।
৪০ শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধী ছাত্রীদের জন্য আয়ের মাপকাঠি শিথিল। সরকার অনুমোদিত শিশু নিবাসে থাকা ছাত্রীরাও পাবেন এই সুবিধা। দুই বাবা-মা প্রয়াত হলে তো কথাই নেই।
আবেদন করার পদ্ধতি কী?
আবেদন করতে হবে স্কুল বা কলেজের মাধ্যমেই। অনলাইনেই হয়ে যায় আবেদন। ফর্মটা সহজ। লাইন ধরার দরকার নেই।
সাথে রাখুন জন্ম সনদ, আয়ের শংসাপত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য। স্কুলের নথি আর ছাত্রীর পরিচয়পত্রও লাগবে। আবেদনে কোনও ফি নেই, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
যাঁরা আগে কন্যাশ্রী পেতেন, তাঁদের কী হবে?
ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পুরনো সুবিধাভোগীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। নাম বদল মানে ভাতা বন্ধ নয়। নিয়ম একই থাকবে। চিন্তার কিছু নেই।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সেপ্টেম্বর কিস্তির খবর, সুকন্যা সমৃদ্ধি প্রকল্পের গাইড।








