১৯৮২ সালের ডিসেম্বর। মেদিনীপুরের কেশপুর গ্রামের এক সাধারণ বাড়িতে সদ্য জন্ম নেওয়া এক ছেলের নাম রাখা হলো দীপক অধিকারী। শীতের সকালগুলো কেটে যেত খেলার মাঠেই, আর কেউ জানত না এই ছোট্ট ছেলেটিই একদিন বাংলা ছবির সবচেয়ে বড় সুপারস্টার হয়ে উঠবেন।
চলতি বছর ২০২৬-এ জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো দাদাগিরি-র হোস্ট বদলেছে। সৌরভ গাঙ্গুলী-র জায়গায় নতুন দাদা হয়ে এসেছেন তিনিই, টলিউডের সবার চেনা দেব। দেবের জীবনীর গল্পটা মোটেই সাধারণ নয়। খেটে খাওয়া পরিবার থেকে উঠে এসে সুপারস্টার হওয়ার রাস্তাটা কীভাবে পেরিয়েছিলেন, জেনে নিন খুঁটিনাটি।
এক নজরে দেব
| জন্ম তারিখ | ২৫ ডিসেম্বর ১৯৮২ |
| জন্মস্থান | কেশপুর, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ |
| আসল নাম | দীপক অধিকারী (ডাকনাম রাজু) |
| পেশা | অভিনেতা, প্রযোজক, রাজনীতিবিদ |
| প্রথম বড় সিনেমা | আগন্তুক (২০০৬) |
| সামাজিক মাধ্যম | ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স |

টলিউডে তাঁর নামটা যত বড়, আদতে লোভ দেখানো ছবিটা ঠিক ততটাই সরল। ভগবানের পরে দর্শকই দেবের আসল বিচারক। এই একটা কথাই বারবার বলেছেন তিনি।
দেবের হাতে কীভাবে এল দাদাগিরির হোস্টিং?
বছরের পর বছর দাদাগিরির দাদা ছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই মাইকটা বদল হলো। দাদাগিরির নতুন সিজনে হোস্ট হিসেবে অভিষেক হলো দেবের। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই দেব-ভক্তদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়।
ক্রীড়া ও বিনোদন দুই জগতের তারকাদের এক মঞ্চে পাওয়ার চমকটা থেকেই যাবে। দাদাগিরি নামটা আগের মতোই থাকল, শোয়ের রং বদলে গেল, আর পুরনো ধাঁচের সঙ্গে নতুন এনার্জির মিশেলই তো টিআরপি বাড়ানোর চাবিকাঠি। এবার দর্শক দেখবেন দেবের নিজস্ব দাদা স্টাইল।
কেশপুরের ছেলে থেকে কীভাবে হলেন সুপারস্টার?
দেবের ছোটবেলা কেটেছে একেবারে সাধারণভাবে। মেদিনীপুরের কেশপুরের ওই বাড়িতে দারিদ্র্য ছিল স্পষ্ট। অভিনয়ের স্বপ্ন নয়, শুরুটা ছিল বাঁচার লড়াই। কবে যে সেই লড়াই ভেঙে টলিউডের দরজা খুলে গেল, বোঝাই যায়নি।
২০০৬ সালে আগন্তুক ছবি দিয়ে পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। সেখান থেকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ডান্স বাংলা ডান্সের মঞ্চ, টলিউডের একের পর এক ব্লকবাস্টার, দুর্গাপুজোয় রিলিজের পালা, সব মিলিয়ে দেব এখন বাংলা সিনেমার ঘরের নাম।
শুধু পর্দাই নয়, রাজনীতিতেও পা রেখেছেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তিনি। অভিনয়, প্রযোজনা, রাজনীতি, তিন স্রোতেই ভেসে চলেছেন সমান তালে। যাঁর প্রশংসা, তাঁর সমালোচনাও কম নয়। তবু নিজের কাজে অটল থেকেছেন।
দেবের বক্স অফিসের হিসাবটা কেমন?
সংখ্যাটাও মজার। প্রজাপতি ছবি তুলেছিল ১৩ কোটি টাকার বেশি, ২০২৪-এর খাদান বছরের সেরা ব্যবসা, আর ২০২৫-এর ধূমকেতু পেরিয়েছে ২৮ কোটির ঘর, সব মিলিয়ে দেব এখন টলিউডের বক্স অফিসে একাই সিংহাসনে।
ভক্তদের ভালোবাসা তো আছেই, সঙ্গে সমালোচকদেরও নজর তাঁর দিকে। একের পর এক সিনেমায় অ্যাকশন আর পারিবারিক গল্প দুই-ই তুলে ধরেছেন। কখনও তরবারি হাতে ঐতিহাসিক ভূমিকায়, কখনও আবার গোয়েন্দা চরিত্রে। দুই রাস্তাতেই দেব যে সমান স্বচ্ছন্দ, তা দেখাই যায়।
আরও পড়ুন: শুভশ্রী গাঙ্গুলির জীবনী। আর সঙ্গে অভিনেত্রী রানী মুখার্জির জীবনীও দেখে নিতে পারেন।
উপসংহার
মেদিনীপুরের কেশপুরের সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা দীপক আজ টলিউডের দেব। দাদাগিরির নতুন মাইক, চলতি বছরের নতুন অধ্যায়। ছোটবেলার লড়াই থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠা পর্যন্ত তাঁর যাত্রা এ বার নতুন করে দেখার পালা। আরও বিস্তারিত জানতে উইকিপিডিয়া পাতা দেখুন।








