৩ হাজার টাকা এখনো অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি, এমন গল্প প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে। জুনের ৩ তারিখ আর ১ জুলাইয়ের টাকা পেয়ে গেছেন অনেকেই। কিন্তু ১ অগস্ট গড়িয়েছে, তারপর ৭, তারপর ১০। মোবাইল চুপচাপ।
এসএমএস নেই। আজ ২৬ অগস্ট। রাজ্য সরকারের তরফে খবর, অগস্টের প্রাপ্য ৩,০০০ টাকা মাসের শুরুতেই যাচাইকৃত অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাওয়ার কথা ছিল। প্রথম দুটি কিস্তি পেয়ে থাকলে ঘাবড়ানোর দিন এখনও নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোটখাটো ডকুমেন্টের অমিলই আসল বাধা। সেই ব্যাপারটাই জানুন, ধীরে ধীরে সব খুলে বলছি।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা কবে ঢুকবে?

জুনের কিস্তির ৩,০০০ টাকা ঢুকেছিল ৩ জুন থেকে, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা শুরু হয়েছিল ১ জুলাই। সেই হিসেবে অগস্টের টাকাও প্রথম সপ্তাহে ঢোকার কথা। তৃতীয় কিস্তির টাকা ইতিমধ্যেই অনেকের ডিবিটি অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেছে। যাঁদের আসেনি, তাঁদের প্রথম কাজটা একটাই, রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা পোর্টালে গিয়ে স্ট্যাটাস দেখা। আধার নম্বর কিংবা রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর দিলেই চলবে, স্ট্যাটাস পেজেই দেখা যাবে টাকা কোথায় আটকে আছে, ব্যাঙ্কে নাকি যাচাইয়ের ঘরে।
মনে আছে তো? আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দিনে ১,৫০০ টাকা আর তফসিলি জাতি উপজাতির মহিলাদের ১,৭০০ টাকা ঢুকত। এখন সবাই পাচ্ছেন ফ্ল্যাট ৩,০০০ টাকা, তাও আবার তিন মাস ধরে প্রায় একই ছন্দে। রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা পোর্টালেই এই হিসেবের খোঁজ মেলে।
টাকা আসেনি? সম্ভাব্য কারণগুলো এই
এবার আসল কথা। টাকা আটকে থাকার পেছনে সাতটি কারণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণগুলো সোজাসুজি বলছি। নিচের তালিকায় একটা একটা করে মিলিয়ে নিন। বেশিরভাগ সমস্যাই ঘরে বসে মেটে। শুধু ডকুমেন্ট হাতের কাছে রেখে বসুন।
- ডিবিটি চালু নেই। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করা না থাকলে টাকা ঢুকবেই না। ব্রাঞ্চে গিয়ে সিডিল ফর্ম জমা দিলেই ঝামেলা শেষ।
- আবেদনের নামে অমিল। আধার কার্ড কিংবা ব্যাঙ্ক পাসবুকের নামের সঙ্গে আবেদনপত্রের নাম না মিললে পেমেন্ট আটকে যায়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংশোধন করে নিন।
- একই মোবাইল নম্বরে একাধিক আবেদন। পরিবারের একাধিক সদস্য একই নম্বর দিলে দেরি হয়। প্রত্যেকের আলাদা অ্যাকাউন্ট আর আলাদা নম্বর দেওয়াই ভালো।
- একাধিক অ্যাকাউন্টের গোলমাল। কোনটিতে ডিবিটি চালু আছে স্পষ্ট না হলে টাকা আটকে থাকে। আবেদনে উল্লেখ করা অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় কি না, নিশ্চিত হন।
- যোগ্যতার শর্তে গরমিল। পরিবারের কেউ স্থায়ী সরকারি কর্মচারী কিংবা পেনশনভোগী, কেউ আয়করদাতা, কোনওটাই চলবে না। এঁদের আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
- জাল সার্টিফিকেট। জাল জাতিগত কিংবা জাল প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট ধরা পড়লে আবেদন সরাসরি বাতিল।
- ঘরে ঘরে যাচাই বাকি। কর্তৃপক্ষ ডকুমেন্ট ঘরে গিয়ে মিলিয়ে না দেখা পর্যন্ত পেমেন্ট থাকবে না। একটু ধৈর্য ধরুন।
স্ট্যাটাস চেক আর অভিযোগের উপায়
তৃতীয় কিস্তির টাকা যাচাইয়ের সহজ ডেমো এখানেই। পোর্টালে লগ ইন করে দেখুন, নামের নিচে পেমেন্ট স্ট্যাটাস লেখা উঠছে কি না। উঠলে বুঝবেন টাকা ছাড়া হয়ে গেছে, এরপর দুই-তিন দিনের ব্যাঙ্ক ক্লিয়ারেন্স।
তারপরও টাকা না এলে ফোন করুন ১৮০০-৩৪৫-৫৫৫৫ নম্বরে, টোল ফ্রি। সমাজকল্যাণ দপ্তরের হেল্পলাইন ১৮০০-৩৪৫-৫৫০৫। দুয়ারে সরকারের সাধারণ নম্বর ০৩৩-২২১৪৩৫২৬। এইটা টোল ফ্রি নয়। ফোনে কাজ হবে না বললে বিডিও কিংবা এসডিও অফিসে ডকুমেন্ট হাতে ধরে দেখিয়ে আসুন।
| কিস্তি | টাকা ঢোকার সময় |
| প্রথম | ৩ জুন থেকে |
| দ্বিতীয় | ১ জুলাই থেকে |
| তৃতীয়, অগস্ট | মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে |
শেষ কথা বলি। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হয়নি। অগস্ট কিস্তি নিয়ে যত কথা ঘুরছে, তার মানে এই নয় যে টাকা আর আসবে না। আগে স্ট্যাটাস দেখুন, তারপর ডকুমেন্টের অমিল মেলান, দরকার হলে হেল্পলাইনে ধরুন, সত্যি কথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টাকা ফের আসে, একটু দেরি হলেও।
আরও পড়ুন:
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা কবে? অ্যাকাউন্টে ঢোকার তারিখ নিয়ে বড় আপডেট
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে কি না? ঘরে বসে চেকের ৩ উপায়








