আজ নাগপঞ্চমী। সারা দেশে সাপের পূজা হচ্ছে। কেউ কেউ সত্যিকারের গোকুল বা চিংড়ি নিয়ে আসছেন। আবার কেউ কেউ ছবি বা মূর্তি দিয়ে পূজা করছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন? এই পূজার পেছনে কী কী কাহিনী আছে।
নাগপঞ্চমী হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী শ্রাবণ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয়। ২০২৬ সালে এই দিন পড়েছে ১৭ আগস্ট।
পুরাণে বলা হয়েছে নাগরা ঋষি কশ্যপ ও কদ্রুর সন্তান। দেবতাদের সাথে সম্পর্ক ছিল সৎভাইয়ের মতো।
নাগরা পাতাল লোকের অধিপতি। ভগবান শিবের গলায় ভস্মনাগ। বিষ্ণু শেষনাগের ওপর শায়িত। এসব কাহিনীই প্রমাণ করে নাগদের গুরুত্ব। নাগপঞ্চমীতে নাগপূজা করলে কালসর্প দোষ দূর হয়।
রাহু-কেতুর কুফলও কমে। জ্যোতিষ শাস্ত্রেও এই দিনটি বিশেষ।
নাগপঞ্চমীর কাহিনী
মহাভারতেও নাগের কথা আছে। রাজা জনমেজয় নাগবধ যজ্ঞ করেছিলেন। ঋষি অস্তিক তাকে বাধা দিয়ে সাপজাতিকে রক্ষা করেন। সেই দিনটি শ্রাবণ মাসের শুক্ল পঞ্চমীতে পড়েছিল।
তখন থেকে এই দিনে নাগপূজা চলে আসছে।
কৃষ্ণ ও কালিয়ের গল্পও বিখ্যাত। কালিয় যমুনা নদীকে বিষাক্ত করেছিল। কৃষ্ণ তার মাথায় নাচে। কিন্তু তাকে হত্যা করেন না। দয়া দেখান।
এসব কাহিনী শেখায় ভয় ও দয়ার সমন্বয়। নাগকে শত্রু নয়, বন্ধু হিসেবে দেখতে হয়।
নাগপঞ্চমীতে কী কী করতে হবে?
সকালে উঠে স্নান করুন। পরিষ্কার হুন। ঘরের মন্দিরে নাগমূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।
দুধ, জল, ফুল, দুর্বা ও কুমকুম দিয়ে পূজা করুন। মন্ত্র জপ করুন।
বাংলায় নারীরা হলুদ ও কুমকুম দিয়ে দেয়ালে সাপের চিহ্ন আঁকেন। কুমারী কন্যারা ভাইদের পিঠে ফুলে দুধ লাগিয়ে আশীর্বাদ দেন।
মহারাষ্ট্রে ‘নাগবন্ধন’ রীতি আছে। বাড়িতে পবিত্ত সুতো বাঁধা হয়।
দক্ষিণ ভারতে বিবাহিত মেয়েরা বাবার বাড়িতে যান। পুত্রের পিঠে দুধ লাগিয়ে আশীর্বাদ দেন।
অনেকে সত্যিকারের সাপকে দুধ খাওয়ান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি ভালো নয়।
নাগপঞ্চমীর গুরুত্ব
প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক রাখার শিক্ষা। গ্রামে সাপকে পোকা নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে দেখা হতো। তাদের সম্মান করলে ভারসাম্য রক্ষা হয়।
নাগপঞ্চমী শেখায় ভয় ও সম্মানের ভারসাম্য।
দুধ, ফুল ও প্রার্থনা দিয়ে শৃঙ্খলা, সাহস ও শ্রদ্ধা শেখা যায়। কুন্ডলিনী শক্তি জাগ্রত করার জন্যও বিশেষ।
শহরে অনেকে ঘরে বসেই পূজা করেন। ছবি বা মূর্তি দিয়ে। মন্ত্র জপ করে।
উপলব্ধি ও নিবেদনই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটাই সবচেয়ে মজার। নতুন ধারা পুরনো বিশ্বাসকে নতুন করে তুলেছে।
উপসংহার
নাগপঞ্চমী হলো প্রকৃতি ও ধর্মের সমন্বয়ের উৎসব। নাগদেবতাকে সম্মান দিয়ে প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক জোরদার করি। মূর্তি দিয়ে পূজা করুন। প্রকৃতির যত্ন নিন। দায়িত্বশীলভাবে পালন করুন।
আরও পড়ুন:
• কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬: তারিখ, শুভ সময় ও পুজোর নিয়ম
• সিংহ রাশির রাশিফল ২০২৬: কেরিয়ার, প্রেম, অর্থ ও স্বাস্থ্যে কেমন যাবে বছর?








