পশ্চিমবঙ্গ সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের জন্য বড় খবর। কারণ, এবার এক লাখ শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বাজেট ২০২৬-২৭-এ এই ঘোষণায় অনেকের চোখে স্বপ্নের ঝিলিক।
মজার ব্যাপার হল, এর অর্ধেকটাই আসছে শিক্ষা দপ্তর থেকে। পুলিশ দপ্তরে ২০ হাজার পদ। বাকি ৩০ হাজার ছড়িয়ে থাকবে নানা দফতরে। আর কয়েক বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে এই নিয়োগ। তবে সবচেয়ে মজার বিষয়, এবারের পরিকল্পনায় নারী ও যুব প্রার্থীদের দিকে বিশেষ নজর।
এক লাখ পদ, কোন কোন দপ্তরে?
সবচেয়ে বড় চমকটা অবশ্য শিক্ষা দপ্তরে। শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে অফিসের নানা পদ মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার। স্কুলের শূন্য পদ এত বছর ভরতে না পারা যন্ত্রণাটা এবার কাটতে পারে। পরের জায়গায় পুলিশ, আর তার পরে প্রশাসন, স্বাস্থ্য সেবা মিলিয়ে বাকি সব।
| দপ্তর | পদসংখ্যা |
|---|---|
| শিক্ষা দপ্তর | ৫০,০০০ |
| পুলিশ দপ্তর | ২০,০০০ |
| অন্যান্য দপ্তর | ৩০,০০০ |
| মোট | ১,০০,০০০ |
ব্যস, এটুকুই পরিকল্পনার প্রথম অধ্যায়।

নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ
শুধু সংখ্যাটাই বড় নয়, সুযোগের বণ্টনটাও এবার অন্য রকম। মোট পদের ৩৩ শতাংশ রাখা হচ্ছে মহিলা প্রার্থীদের জন্য। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।
বয়সসীমা নিয়ে বড় রেয়াত
আরও একটি দারুণ খবর আছে। আগের পাঁচ বছরের বয়সের ছাড়টা আরও দুই বছর বাড়ানো হলো। যে প্রার্থীরা বয়সসীমার কারণে সুযোগ হারাচ্ছিলেন, তাঁদের জন্য এটা বড় স্বস্তি। তাই বয়স নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটা কমে গেল।
কীভাবে আবেদন করবেন?
আবেদনটা পুরোটাই হবে অনলাইনে। প্রথমে সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন, তারপর নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ। খরচ আর পদ্ধতির বিস্তারিত আসবে প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে, আর সেগুলো মিলবে রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।
আরও পড়ুন: SSC CGL নিয়োগের বিস্তারিত গাইড এবং UPSC-র সরাসরি নিয়োগের খবর।
রিজার্ভেশন কাঠামো কেমন?
সংরক্ষণ কাঠামোটা এবার আরও স্বচ্ছ। সাধারণ, তপশিলি ও অন্যান্য শ্রেণির জন্য বরাদ্দটা দেখে নেওয়া যাক।
| শ্রেণি | শতাংশ |
|---|---|
| সাধারণ (ইউআর) | ৫৫% |
| তপশিলি জাতি (এসসি) | ২২% |
| তপশিলি উপজাতি (এসটি) | ৬% |
| অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (ওবিসি) | ৭% |
| অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি (ইডব্লিউএস) | ১০% |
| মহিলা সংরক্ষণ (অনুভূমিক) | ৩৩% |
উপসংহার
এত বড় সংখ্যক নিয়োগ একসঙ্গে কবে হয়েছিল, মনে পড়ে না। যাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য এটা সোনার সুযোগ। আর যাঁরা ভেবেছিলেন চাকরি আর হবে না, তাঁরাও স্বস্তি অনুভব করছেন অনেকটা সময় অপক্ষার পর। চাকরির খোঁজে থাকা তরুণদের জন্য বাংলার যুবশক্তি প্রকল্পের খবরটা জেনে রাখা ভাল।







