পেট্রোলের দাম এখন প্রায় ১০০ টাকা লিটার। প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করতে গিয়ে জ্বালানি খরচে হাঁড়ফাঁড় করছেন? তাহলে ইলেকট্রিক স্কুটার আপনার জন্য সেরা সমাধান হতে পারে। ২০২৬ সালে ভারতের বাজারে এমন অনেক ইলেকট্রিক স্কুটার এসেছে যেগুলো শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, বরং পকেটের জন্যও দারুণ সাশ্রয়ী।
আপনি কি জানেন, একবার চার্জ দিলে আধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটার ১৪০-১৯৫ কিমি পর্যন্ত চলতে পারে? আর প্রতি কিমি পিছু খরচ মাত্র ২০-৩০ পয়সা! শুনলে অবাক হবেন, বাজারে এখন ১ লক্ষ টাকার নিচেও চমৎকার ইলেকট্রিক স্কুটার পাওয়া যাচ্ছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক ২০২৬ সালে ভারতের সেরা ইলেকট্রিক স্কুটার কোনগুলো এবং কী কী ফিচার দেখে বেছে নেবেন।

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে কী কী দেখবেন?
বattery রেঞ্জ ও চার্জিং টাইম
ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ব্যাটারি রেঞ্জ। ARAI সার্টিফাইড রেঞ্জ সাধারণত ১০০-২০০ কিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই রেঞ্জ ২৫-৪০% কম হয়। তাই প্রতিদিনের যাতায়াতের দূরত্ব বুঝে স্কুটার বেছে নিন। এছাড়া চার্জিং টাইম দেখুন সাধারণ হোম চার্জারে ৪-৭ ঘণ্টা লাগে। দ্রুত চার্জার থাকলে সময় আরও কমে যায়।
পারফরম্যান্স ও টপ স্পিড
বেশিরভাগ ইলেকট্রিক স্কুটারের টপ স্পিড ৭৫-১২০ কিমি/ঘণ্টার মধ্যে। আপনার যদি শহরের ভিতরে যাতায়াত করতে হয়, তাহলে ৭৫-৮০ কিমি/ঘণ্টা যথেষ্ট। তবে যারা হাইওয়েতে চালাতে চান, তাদের জন্য ওলা S1 Pro বা Ather 450X-এর মতো হাই-স্পিড মডেল ভালো হবে। পিকআপের দিক থেকে ইলেকট্রিক স্কুটার পেট্রোল স্কুটারের চেয়ে অনেক বেশি চটপটে।
স্মার্ট ফিচার ও কানেক্টিভিটি
আধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটারগুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি, নেভিগেশন ও মিউজিক কন্ট্রোল-এর মতো ফিচার থাকে। কিছু মডেলে ক্রুজ কন্ট্রোল ও রিজেনারেটিভ ব্রেকিং-এর মতো উন্নত ফিচারও পাওয়া যায়। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ফিচার সেট বেছে নিন।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবন সহজ করার টিপস।
২০২৬ সালে ভারতের সেরা ৫ ইলেকট্রিক স্কুটার
২০২৬ সালে ভারতের বাজারে বেশ কিছু চমৎকার ইলেকট্রিক স্কুটার পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি মডেলের নিজস্ব কিছু বিশেষত্ব আছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেরা ৫টি ইলেকট্রিক স্কুটারের বিস্তারিত তথ্য।
১. Ola S1 Pro — রেঞ্জের রাজা
ওলা S1 Pro বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইলেকট্রিক স্কুটার। এর ARAI সার্টিফাইড রেঞ্জ প্রায় ১৯৫ কিমি এবং টপ স্পিড ১২০ কিমি/ঘণ্টা। দাম শুরু ১.৩০ লক্ষ টাকা থেকে। এতে আছে নেভিগেশন, মিউজিক, ক্রুজ কন্ট্রোল-এর মতো প্রিমিয়াম ফিচার। তবে টায়ার ২ ও টায়ার ৩ শহরে সার্ভিস নেটওয়ার্ক এখনও সম্পূর্ণ বিস্তৃত নয়।
২. TVS iQube — বিশ্বস্ত নাম
TVS iQube তার নির্ভরযোগ্যতার জন্য পরিচিত। দাম শুরু ১.১৫ লক্ষ টাকা থেকে। ARAI রেঞ্জ ১০০-১৪৫ কিমি, যা আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ভেরিয়েন্টের উপর নির্ভর করে। TVS-এর বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক থাকায় ছোট শহরেও সহজে সার্ভিস পাওয়া যায়। SmartXonnect অ্যাপের মাধ্যমে ফোন কানেক্ট করেও অনেক ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।
৩. Ather 450X — পারফরম্যান্সের প্রতিমা
Ather 450X ইলেকট্রিক স্কুটারের জগতে পারফরম্যান্সের প্রতীক। এর টপ স্পিড ৯০ কিমি/ঘণ্টা এবং মাত্র ৩.৩ সেকেন্ডে ০-৪০ কিমি/ঘণ্টা পিকআপ। ওয়ার হুইল ডিজাইন ও প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি একে আলাদা করে তোলে। দাম শুরু ১.২০ লক্ষ টাকা থেকে। Ather গ্রিড চার্জিং নেটওয়ার্ক শহরাঞ্চলে বেশ ভালো।
৪. Bajaj Chetak — ক্লাসিক টাচ
বাজাজ চেতক তার আইকনিক ডিজাইনের জন্য সকলের কাছে প্রিয়। ২০২৬ সালে চেতকের নতুন সংস্করণে ৩.২ kWh ব্যাটারি ও ১৩৬ কিমি রেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। দাম শুরু ১.৩০ লক্ষ টাকা থেকে। এর রেট্রো লুক ও প্রিমিয়াম সিটিং কমফোর্ট একে অন্য সব স্কুটার থেকে আলাদা করে তোলে। Bajaj-এর বিস্তৃত ডিলার নেটওয়ার্ক থাকায় সার্ভিস নিয়ে চিন্তা নেই।
৫. Vida VX2 — সাশ্রয়ী ও স্মার্ট
হিরো ভিডা VX2 ২০২৬ সালে বাজেট ইলেকট্রিক স্কুটার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। দাম মাত্র ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি শুরু। এতে আছে রিমুভেবল ব্যাটারি, ১০০ কিমি+ রেঞ্জ, এবং স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি। যাঁরা প্রথমবার ইলেকট্রিক স্কুটার কিনতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি চমৎকার অপশন। ব্যাটারি বাড়িতে নিয়ে চার্জ করার সুবিধাও আছে।
উপসংহার
২০২৬ সালে ভারতের ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার আগের চেয়ে অনেক বেশি পূর্ণতা পেয়েছে। ওলা, TVS, Ather, বাজাজ ও হিরো-র মতো ব্র্যান্ডগুলি এমন মডেল এনেছে যেগুলো প্রতিটি বাজেট ও প্রয়োজনের জন্য উপযুক্ত। আপনার যদি দীর্ঘ রেঞ্জের প্রয়োজন হয়, তাহলে Ola S1 Pro বেছে নিন। বিশ্বস্ত সার্ভিস নেটওয়ার্ক চাইলে TVS iQube বা Bajaj Chetak ভালো অপশন। আর পারফরম্যান্স প্রেমীদের জন্য Ather 450X সেরা পছন্দ।
ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে নিজের প্রয়োজন, বাজেট ও রেঞ্জ বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। একটি ভালো ইলেকট্রিক স্কুটার আপনার দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে। আর হ্যাঁ, কেনার আগে একটি টেস্ট রাইড অবশ্যই নিয়ে দেখবেন!








