ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজার এক নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাসে দেশে ইলেকট্রিক প্যাসেঞ্জার ভেহিকলের মাসিক বিক্রি প্রথমবারের মতো ৩০,০০০ ইউনিটের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এই অগ্রগতি ভারতের ইভি শিল্পের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা দেশের গ্রাহকদের মধ্যে ইলেকট্রিক গাড়ির প্রতি আগ্রহ কতটা বেড়েছে তা স্পষ্ট করে দেয়।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে সরকারের নীতি সহায়তা, ইভির দাম কমতে থাকা, এবং নতুন মডেল লঞ্চ। বিশেষ করে টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবং এমজি-র মতো সংস্থাগুলি ইভি বাজারে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি জানান দিয়েছে। জুন মাসের এই পরিসংখ্যান কি শুধু একটি অস্থায়ী উল্লম্ফন, নাকি ভারতের ইভি বিপ্লবের সত্যিকারের সূচনা? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কোন কোন সংস্থা সবচেয়ে বেশি ইভি বিক্রি করেছে?
জুন ২০২৬-এর ইভি বিক্রির পরিসংখ্যান বলছে, টাটা মোটরস এগিয়ে রয়েছে। টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকল বিভাগ এই মাসে প্রায় ১৪,৮০০টি ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি করেছে, যা তাদের বাজারের ৩৯ শতাংশ অংশীদারিত্বের সমান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, যারা ৭,০০০ ইউনিটের বেশি ইভি বিক্রি করেছে। এমজি মোটর এবং অন্যান্য সংস্থাও উল্লেখযোগ্য বিক্রি করেছে।
| সংস্থার নাম | জুন ২০২৬ ইভি বিক্রি | বাজারের অংশ |
|---|---|---|
| টাটা মোটরস | ১৪,৮০০ ইউনিট | ৩৯% |
| মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা | ৭,০০০+ ইউনিট | ২৩% |
| এমজি মোটর | ৩,৫০০ ইউনিট | ১১% |
| হুন্ডাই | ২,২০০ ইউনিট | ৭% |
| কিয়া | ১,৮০০ ইউনিট | ৬% |
| অন্যান্য | প্রায় ৪,২০০ ইউনিট | ১৪% |
আপনি কি জানেন? গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুন ২০২৬-এ ইভি বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে মোট ইভি বিক্রি ছিল প্রায় ১৫,০০০ ইউনিট, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১,০০০ ইউনিটে।
কেন বাড়ছে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা?
ভারতে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বাড়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় সরকারের ফেম (FAME) প্রকল্পের আওতায় ইভি ক্রেতারা যথেষ্ট ছাড় ও সুবিধা পাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে ক্রেতারা ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। তৃতীয়ত, টাটা, মাহিন্দ্রা এবং অন্যান্য সংস্থা সাশ্রয়ী মূল্যে নতুন মডেল আনছে, যা সাধারণ গ্রাহকের নাগালের মধ্যে আসছে।
শুনলে অবাক হবেন, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলিতে ইভি নীতির কারণে গ্রাহকরা অতিরিক্ত কর ছাড় পাচ্ছেন। এর ফলে ইলেকট্রিক গাড়ির মালিকানা সাশ্রয়ী হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রাজ্যগুলির নীতি সহায়তা ইভি গ্রহণের হার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
ভারতে ইভি বাজারের আগামী পথ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার আগামী কয়েক বছরে আরও দ্রুত বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট গাড়ি বিক্রির ৩০ শতাংশ ইভি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। টাটা মোটরস ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের বাজারে ইভি রপ্তানি শুরু করেছে, যা ভারতীয় ইভি শিল্পের জন্য আরেকটি বড় সুযোগ খুলে দিয়েছে।
মজার ব্যাপার হল, চার্জিং পরিকাঠামোর উন্নয়নও দ্রুত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহরে পাবলিক চার্জিং স্টেশনের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও, ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ইভির রেঞ্জও বেড়েছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করছে।
উপসংহার
জুন ২০২৬-এ ভারতের ইলেকট্রিক গাড়ির মাসিক বিক্রি ৩০,০০০ ইউনিট অতিক্রম করা দেশের ইভি শিল্পের জন্য একটি বড় সাফল্য। টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রার নেতৃত্ব এবং সরকারের নীতি সহায়তা এই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। চার্জিং পরিকাঠামোর উন্নতি এবং নতুন মডেল লঞ্চের ফলে আগামী দিনগুলিতে এই ধারা বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যাঁরা এখনও ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এটাই সঠিক সময় হতে পারে।
প্রয়োজনীয় লিংক ও তথ্যসূত্র
আরও পড়ুন: ২০২৬ সালে ভারতে সেরা ৫টি বৈদ্যুতিক গাড়ি
আরও পড়ুন: বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর টিপস
সূত্র: Autocar India, Wikipedia – Electric Vehicles in India







