রোহিত শর্মা, এই নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একের পর এক রেকর্ড, অনবদ্য টাইমিং, আর ক্রিকেট মাঠে অসাধারণ ব্যাটিংয়ের ছবি। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে কয়েকজন ব্যাটসম্যানই আছেন যাঁরা নিজেদের প্রতিভা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে অমর হয়ে রয়েছেন। রোহিত শর্মা তাঁদেরই একজন। কলকাতা থেকে মুম্বই, এক সাধারণ ছেলের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প শুনলে আপনি অবাক হবেন!
বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা শুধু একজন ব্যাটসম্যান নন, তিনি এক যুগান্তকারী ক্রিকেটার। তাঁর ব্যাটিং স্টাইল, টাইমিং আর বড় ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটে একটি বিশেষ জায়গা দিয়েছে। শুনলে মজার ব্যাপার হল, তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণভাবে। কিন্তু ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমই তাঁকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও শৈশব
| পুরো নাম | রোহিত গুরুনাথ শর্মা |
| জন্ম | ৩০ এপ্রিল ১৯৮৭ নাগপুর, মহারাষ্ট্র, ভারত |
| ডাকনাম | হিটম্যান (Hitman) |
| ব্যাটিং শৈলী | ডানহাতি |
| বোলিং শৈলী | ডানহাতি অফ ব্রেক |
| ভূমিকা | ওপেনিং ব্যাটসম্যান, অধিনায়ক |
| উচ্চতা | ১.৭৪ মি (৫ ফুট ৮ ইঞ্চি) |
| সামাজিক মাধ্যম | উইকিপিডিয়া · ইনস্টাগ্রাম · ফেসবুক |
১৯৮৭ সালের ৩০ এপ্রিল, মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রোহিত শর্মা। তাঁর বাবার নাম গুরুনাথ শর্মা এবং মায়ের নাম পূর্ণিমা শর্মা। শৈশব কেটেছে মুম্বইয়ের বোরিবলি এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই রোহিতের ক্রিকেটের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তবে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে পরিবার তাঁর পড়াশোনা ও ক্রিকেটের খরচ চালানো নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলেন।
এক সময় রোহিতের বাবা তাঁকে ক্রিকেট শেখানোর জন্য দাদারের একটি ক্লাবে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখান থেকেই তাঁর ক্রিকেট যাত্রা শুরু। ছোটবেলায় রোহিত মাঝারিমানের ব্যাটসম্যান ছিলেন, কিন্তু ধ্যান ও অভ্যাসের মাধ্যমে তিনি নিজেকে উন্নত করতে থাকেন। দাদার ক্লাবে কোচের তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রতিভা ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে। কিশোর বয়সেই তিনি একাধিক স্কুল টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান।
ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
রোহিত শর্মার প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০০৫ সালে, যখন তিনি ইংল্যান্ড সফরে ভারত এ দলের হয়ে মাঠে নামেন। সেখানে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স জাতীয় নির্বাচকদের নজর কাড়ে। এর পর ২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হয় তাঁর। তবে প্রথম দিকে তিনি নিজেকে তেমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।
২০০৮ সালের কমনওয়েলথ ব্যাংক সিরিজে রোহিত শর্মা নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পান। ওই টুর্নামেন্টে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলেন এবং জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলেরও সদস্য ছিলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর জায়গা পাকা করতে কিছুটা সময় লেগে যায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য ও রেকর্ড
রোহিত শর্মার নাম বিশ্ব ক্রিকেটে একাধিক রেকর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তি রয়েছে তাঁর। একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি তিনবার ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ রানের বেশি ইনিংস খেলেছেন। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি ১২৪ বলে ২০৮ রান করে বিশ্ব ক্রিকেটকে তাক লাগিয়ে দেন।
টেস্ট ক্রিকেটেও রোহিত শর্মা কম যাননি। ওপেনার হিসেবে তাঁর রূপান্তর ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্য ওভাল টেস্টে সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত ব্যাটিং, প্রতিটি ইনিংসই স্মরণীয়। আইপিএল-এ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।
উপসংহার
আজ রোহিত শর্মা শুধু একজন ক্রিকেটার নন, তিনি লক্ষ লক্ষ তরুণের প্রেরণা। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে থেকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হওয়া, এই যাত্রা সত্যিই অসাধারণ। তাঁর জীবনী থেকে আমরা শিখতে পারি যে, অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রম করে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। আগামী দিনেও রোহিত শর্মার ব্যাট থেকে আরও অনেক স্মরণীয় ইনিংস দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।








