পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের জন্য বড় খবর। কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে মিলছে বার্ষিক ভাতা, আবার এককালীন ২৫ হাজার টাকাও। মেয়ে পড়াশোনার পথ থেকে যেন না ছাড়ে, সেটাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। টাকাটা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে।
আবেদনের যোগ্যতা মিললে এ বছরই ভাতা মিলছে। আর এবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পটা যেন পৌঁছয় ১ কোটি মেয়ের ঘরে। জেনে নিন কীভাবে আবেদন করবেন, কোন শর্ত মানতে হবে, পুরো খুঁটিনাটি।
কন্যাশ্রীর K1 আর K2 ভাতার অঙ্ক কত?
এই প্রকল্পের ভাতা আসলে দুই ধরনের। K1 বলতে বার্ষিক ভাতা, বছরে ১,০০০ টাকা, আর K2 হলো এককালীন অনুদান, মেয়ে ১৮ বছর পূর্ণ করলে মিলছে ২৫,০০০ টাকা।
K2 এর টাকাটাই সবচেয়ে কাজের। বয়স আঠারো, কিন্তু অনেকের পড়াশোনা তখনও শেষ নয়। এই টাকা পেলে উচ্চশিক্ষা কিংবা নিজের পেশা তৈরির খরচও কমে। ভাতার টাকা যায় সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
কে কে আবেদন করতে পারবেন এই কন্যাশ্রী প্রকল্পে?
কন্যাশ্রী পেতে কিছু শর্ত মানতে হয়। যাঁদের জন্য প্রকল্পটা, সেটা বুঝলে আবেদনে জটিলতা কমে। সহজ ভাষায় বলছি।
- পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে হতে হবে, বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
- স্কুল, কলেজ বা স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।
- অবিবাহিত থাকতে হবে, আর পরিবারের আয়ও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে।
- K2 পেতে বয়স ১৮ থেকে ১৯, সাথে পড়াশোনা বা পেশা চালু থাকতে হবে।

আবেদন করার নিয়ম কী?
অনলাইনেই হয়ে যাচ্ছে আবেদন। প্রথমে দাপ্তরিক পোর্টালে যাবেন। সেখানে মেয়ের নাম, জন্মের তারিখ, ঠিকানা আর ব্যাংকের বিবরণ দিতে হবে। ব্যাস, এইটুকু।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুল থেকেই ফর্ম জমা দেওয়া হয়। তাই স্কুলের নজরে আনলে কাজ দ্রুত হয়, প্রতিটি ফর্মের পরে একটা ফর্ম নম্বরও মেলে।
কী কী নথি লাগবে?
- মেয়ের জন্মের সনদ বা জন্মতারিখের প্রমাণ।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ও পড়াশোনার প্রমাণ।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুক বা বিবরণ।
- অভিভাবকের আয়ের সনদ।
ভাতার স্ট্যাটাস কীভাবে চেক করবেন?
ফর্ম জমার পর হাতে থাকে শুধু অপেক্ষা। চিন্তা নেই। দাপ্তরিক পোর্টালের স্ট্যাটাস চেকের জায়গায় ফর্ম নম্বর আর জন্মতারিখ দিলেই সামনে চলে আসে পুরো অবস্থা। কখন অনুমোদন হলো, টাকা কবে যাচ্ছে, সব। জটিল কিছু নয়।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সরকারি প্রকল্পের খবর আর সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার আবেদন পদ্ধতি জেনে নিন।
মেয়ের পড়াশোনার পথটা মসৃণ রাখতেই এই কন্যাশ্রী প্রকল্প। শর্ত পূরণ হলে আবেদনটা করে নেওয়াই ভালো। দাপ্তরিক সাইটে আবেদন আর স্ট্যাটাস দুটোই মিলছে। বাংলার মেয়েদের ভবিষ্যৎ গড়তে প্রকল্পটির ভূমিকা যে বড়, সেটা উইকিপিডিয়া পাতায়ও লেখা আছে। ভাবতে অবাক লাগে।








