ভারত

ইপিএফ স্কিম ২০২৬: নতুন নিয়মে কী কী বদলাচ্ছে, কী একই থাকছে?

চাকরিজীবীদের জন্য বড় খবর। ইপিএফ স্কিম ২০২৬ চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ৭৪ বছরের পুরনো ইপিএফ স্কিম ১৯৫২-এর জায়গা নিয়েছে এই নতুন স্কিম। সমাজ সুরক্ষা কোড ২০২০-এর অধীনে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন নিয়মগুলো। আংশিক উত্তোলনের পদ্ধতিতে এসেছে বড় বদল। আগে টাকা তোলার জন্য ছিল প্রায় ১২ রকমের আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি। এখন সেগুলো মাত্র তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। শুনলে অবাক হবেন, আগের স্কিমটা তৈরি হয়েছিল ১৯৫২ সালে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পাঁচ বছর পরে!

ইপিএফ আংশিক উত্তোলনে কী কী বদল?

নতুন নিয়মে আংশিক উত্তোলন অনেক সহজ হয়েছে। পুরনো স্কিমে চিকিৎসা, শিক্ষা, বিয়ে, বাড়ি, প্রতিটির জন্য ছিল আলাদা আলাদা জটিল নিয়ম। আর ছিল না কোনো একক কাঠামো। নতুন স্কিমে সেই জটিলতা দূর করা হয়েছে।

এখন তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে টাকা তোলা যাবে। প্রথমটি, অত্যাবশ্যক প্রয়োজন। এর মধ্যে পড়ছে চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিয়ের খরচ। দ্বিতীয়টি, আবাসন। বাড়ি তৈরি বা কেনার জন্য টাকা তোলা যাবে এই ক্যাটাগরিতে। তৃতীয়টি, বিশেষ পরিস্থিতি। এর আওতায় পড়ে আগের স্কিমে থাকা অন্যান্য বিশেষ ক্যাটাগরিগুলো।

উত্তোলনের কারণপুরনো নিয়মনতুন নিয়ম
চিকিৎসানির্দিষ্ট শর্ত ও সীমাঅত্যাবশ্যক প্রয়োজন
শিক্ষানিজের ও সন্তানের জন্য আলাদা নিয়মঅত্যাবশ্যক প্রয়োজন
বিয়েনিজের, সন্তানের ও ভাইবোনের জন্য আলাদাঅত্যাবশ্যক প্রয়োজন
বাড়ি তৈরি বা কেনানির্দিষ্ট শর্তআবাসন
অন্যান্য বিশেষ প্রয়োজনভিন্ন ভিন্ন নিয়মবিশেষ পরিস্থিতি

আরেকটি বড় পরিবর্তন হল ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার শর্ত। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার পরও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা থাকতে হবে। আগে এই নিয়মটা ততটা কঠোর ছিল না।

কী কী আগের মতোই থাকছে?

বড় সুখবর হল, মজুরির ১২% হারে জমার নিয়ম বদলায়নি। কর্মচারী ও নিয়োগকর্তা, উভয়কেই ১২% করে জমা দিতে হবে। কিছু নির্দিষ্ট সংস্থার ক্ষেত্রে ১০% হার আগের মতোই চলবে।

মজুরি সীমাও একই রয়েছে। ১৫,০০০ টাকা মাসিক মজুরি পর্যন্ত ইপিএফ-এ জমা বাধ্যতামূলক। তার মানে, আপনার বেসিক বেতন ১৫,০০০ টাকা হলেই ইপিএফ কাটবে। বেশি বেতন হলে ইপিএফ কাটার পরিমাণ নির্ভর করবে কোম্পানির নীতির ওপর।

ভলান্টারি পিএফ বা ভিপিএফ-এর সুযোগ আগের মতোই রয়েছে। চাইলে ১২%-এর বেশি টাকাও জমা দিতে পারেন আপনার ইপিএফ অ্যাকাউন্টে। সেকশন ৮০সি-তে কর ছাড়ের সুবিধাও অপরিবর্তিত। ইপিএফ সুদের হারও আগের মতোই থাকছে। আসলে নতুন স্কিমের লক্ষ্য নিয়ম সরল করা, মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পদ্ধতি বদলানো নয়।

কেন আনা হলো নতুন স্কিম?

২০২০ সালে পাশ হওয়া সমাজ সুরক্ষা কোড কার্যকর করতেই এই পরিবর্তন। নতুন লেবার কোডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইপিএফ নিয়মগুলো আধুনিক করা হয়েছে। ডিজিটাল কমপ্লায়েন্স বাড়ানো, অ্যাকাউন্ট পোর্টেবিলিটি উন্নত করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, এসবই এই স্কিমের মূল লক্ষ্য। এছাড়া আধার-ভিত্তিক ডিজিটাল যাচাইকরণ আরও সহজ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উপসংহার

ইপিএফ স্কিম ২০২৬-এ বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে মৌলিক কাঠামো অনেকটাই আগের মতো রয়েছে। আংশিক উত্তোলনের পদ্ধতি সরল হয়েছে, কিন্তু জমার হার ও কর সুবিধা অপরিবর্তিত। নতুন চাকরিজীবীদের জন্য এই নিয়মগুলো বোঝা খুব জরুরি। নিজের পিএফ অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে আরও জানতে আয়কর রিটার্ন দাখিল ২০২৬ এবং আটাল পেনশন যোজনা ২০২৬-এর মতো আমাদের আগের আর্টিকেলগুলো দেখে নিতে পারেন।

আপনার সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আরও তথ্যের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা ২০২৬ এবং ইপিএফ সম্পর্কিত অফিসিয়াল তথ্যের জন্য ইপিএফও-র ওয়েবসাইট দেখে নিতে পারেন।

Summarize with AI

This post was last modified on 3rd July 2026 2:31 pm