পাসপোর্ট বানানোর সহজ পদ্ধতি জানুন। অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় নথি, ফি ও ট্র্যাকিং সহ সম্পূর্ণ গাইড। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলায় পাসপোর্ট তথ্য।
পাসপোর্ট বানানোর কথা উঠলেই অনেকের মনে নানা প্রশ্ন আসে। কীভাবে আবেদন করতে হবে, কোথায় যেতে হবে, কী কী কাগজ লাগবে। আসলে এত কিছু ভেবে লাভ নেই। পুরো কাজটাই এখন অনলাইনে হয়। মাত্র কয়েকটা ধাপ মেনে চললেই হয়ে যায়।
বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে পাসপোর্টই প্রথম প্রয়োজন। পড়াশোনা হোক বা চাকরি, যে কারণেই যেতে চান না কেন, পাসপোর্ট থাকতেই হবে। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আপনি অনলাইনে আবেদন করে সহজেই পাসপোর্ট পেতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কী করবেন।
ভারতীয় নাগরিকরা সবাই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। বয়সের উপরের কোনো সীমা নেই। নাবালকদের জন্যও আলাদা নিয়ম আছে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের পাসপোর্টের মেয়াদ থাকে ৫ বছর। ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম চলবে। যেটা আগে হয় সেটাই ধরতে হবে।
ভারতে তিন ধরনের পাসপোর্ট দেওয়া হয়। সাধারণ পাসপোর্টের রং গাঢ় নীল। এটাই আমাদের সবার ব্যবহারের জন্য। কূটনৈতিক পাসপোর্ট লাল রঙের, যা সরকারি কূটনীতিকদের জন্য। আর সাদা পাসপোর্ট নির্দিষ্ট সরকারি কর্মীদের দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের জন্য দরকার হবে প্রথমটাই।
প্রথমে passportindia.gov.in সাইটে যান। তারপর নিবন্ধন করে একটি ইউজার আইডি তৈরি করুন। এরপর ফর্ম পূরণ শুরু করুন। নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম সব তথ্য সঠিকভাবে দিন। ফর্ম পূরণ শেষে ফি জমা দিন। তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে নিন। নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে যান।
পাসপোর্টের জন্য কিছু বেসিক ডকুমেন্ট দিতে হবে। সেগুলো আগে থেকে তৈরি রাখলে ভালো হয়। জন্ম ও পরিচয় প্রমাণের জন্য লাগবে জন্ম সনদ বা স্কুলের সার্টিফিকেট। ঠিকানা প্রমাণের জন্য দিতে পারেন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট। বয়স ও পরিচয় নিশ্চিত করতে প্যান কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া যায়। আসল কাগজ আর ফটোকপি, দুটোই নিয়ে যেতে হবে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে।
| নথির ধরন | গ্রহণযোগ্য ডকুমেন্ট | মন্তব্য |
|---|---|---|
| জন্ম ও পরিচয় প্রমাণ | জন্ম সনদ, স্কুলের মার্কশিট, দশম সার্টিফিকেট | কমপক্ষে একটি বাধ্যতামূলক |
| ঠিকানা প্রমাণ | আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গ্যাস বিল | যে কোনো একটি যথেষ্ট |
| বয়স প্রমাণ | প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার কার্ড | জন্ম সনদ থাকলে আলাদা লাগে না |
| ছবি | সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ২” × ২” পাসপোর্ট সাইজ | ৪ কপি সঙ্গে রাখুন |
| অতিরিক্ত (নাম পরিবর্তন) | বিবাহ নিবন্ধন, নাম পরিবর্তনের গেজেট | প্রযোজ্য ক্ষেত্রেই কেবল |
পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পৃষ্ঠা সংখ্যা আর কত তাড়াতাড়ি দরকার তার উপর। ৩৬ পৃষ্ঠার সাধারণ পাসপোর্টের ফি তুলনামূলক কম। বেশি তাড়াতাড়ি পেতে চাইলে তৎকাল সার্ভিস নিতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে ফি একটু বেশি পড়ে। সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন। তবে নথি যাচাই করতে একটু বেশি সময় লাগতে পারে।
| পাসপোর্টের ধরন | সাধারণ ফি | তৎকাল ফি | লভ্যতার সময় |
|---|---|---|---|
| ৩৬ পৃষ্ঠা (নতুন) | ₹১,৫০০ | ₹৩,৫০০ | ৭-১৫ দিন |
| ৬০ পৃষ্ঠা (নতুন) | ₹২,০০০ | ₹৪,০০০ | ৭-১৫ দিন |
| ৩৬ পৃষ্ঠা (পুনরায়) | ₹১,২০০ | ₹৩,২০০ | ৭-১০ দিন |
| ৬০ পৃষ্ঠা (পুনরায়) | ₹১,৭০০ | ₹৩,৭০০ | ৭-১০ দিন |
| নাবালক (১৮ বছরের কম) | ₹১,০০০ | — | ১০-১৫ দিন |
এখন আর পাসপোর্ট বানানো নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। ঘরে বসেই ফর্ম পূরণ করে দিন ঠিক করে নিন। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সব কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে যান। বাকি সব ব্যবস্থা তারা নিজেরাই করে দেবেন। তাহলে আর দেরি কেন? আজই শুরু করে দিন।
This post was last modified on 2nd July 2026 6:44 pm