আপনার জন্য কি আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না? চিন্তার কিছু নেই। প্রতি বছরের মতো ২০২৬-২৭ কর বছরের জন্যও আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেতনভোগী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী প্রত্যেকের জন্যই সময়মতো ITR ফাইল করা জরুরি, কারণ দেরি করলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
আপনিও যদি চাকরিজীবী হন বা ছোট ব্যবসা করেন, তাহলে এই নিবন্ধটি আপনার জন্যই। এখানে আমরা বিনামূল্যে ITR ফাইলিংয়ের সহজ পদ্ধতি, ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য শেষ তারিখ, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা এবং নতুন ও পুরনো কর ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য সবকিছু সহজ বাংলায় বিস্তারিত আলোচনা করব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিজে নিজে ITR ফাইল করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।
ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) হল আয়করের একটি ঘোষণাপত্র, যা প্রতি বছর সরকারকে আপনার আয় ও কর সংক্রান্ত তথ্য জানানোর জন্য জমা দেওয়া হয়। এটি শুধু একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং আপনার আর্থিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ITR ফাইল করলে আপনি ট্যাক্স রিফান্ড পেতে পারেন, লোন নেওয়া সহজ হয় এবং ভিসা আবেদনের সময়ও এর প্রয়োজন হয়।
অনেকের ধারণা, যাঁদের কর দিতে হয় না, তাঁদের ITR ফাইল করার দরকার নেই। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। আপনার আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও ITR ফাইল করা আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক লেনদেনের জন্য সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনি লোন বা ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করেন।
আয়কর দপ্তর প্রতি বছরের মতো ২০২৬-২৭ কর বছরের জন্য ITR ফাইলিং উইন্ডো খুলে দিয়েছে। সাধারণ করদাতাদের জন্য শেষ তারিখ হল ৩১ জুলাই ২০২৬। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আলাদা শেষ তারিখ প্রযোজ্য। নীচের টেবিলটি দেখলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার জন্য কোন তারিখ প্রযোজ্য।
| করদাতার ধরন | শেষ তারিখ | বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|
| সাধারণ করদাতা (ব্যক্তি) | ৩১ জুলাই ২০২৬ | বেতনভোগী, ছোট ব্যবসায়ী |
| অডিট প্রযোজ্য | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | বই নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক |
| ট্রান্সফার প্রাইসিং | ৩০ নভেম্বর ২০২৬ | আন্তর্জাতিক লেনদেন |
| বিলম্বে ফাইলিং | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ | ₹৫,০০০ জরিমানা |
আয়কর দপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টাল incometax.gov.in-এ গিয়ে আপনি বিনামূল্যে নিজেই ITR ফাইল করতে পারেন। এর জন্য কোনো এজেন্ট বা চার্জের প্রয়োজন নেই। নীচে ধাপে ধাপে পদ্ধতি দেওয়া হল।
আপনার যদি ফর্ম ১৬ না থাকে, তাহলে আপনি ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও বেতন স্লিপ ব্যবহার করেও ITR ফাইল করতে পারেন। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হল ফর্ম ১৬-এর তথ্য ব্যবহার করা।
২০২০ সালে চালু হওয়া নতুন কর ব্যবস্থায় করের হার কম কিন্তু বেশিরভাগ ছাড় ও বাদ দেওয়া হয় না। অন্যদিকে পুরনো কর ব্যবস্থায় করের হার বেশি, কিন্তু আপনি ৮০সি, ৮০ডি, HRA-সহ বিভিন্ন করছাড় দাবি করতে পারেন। আপনার জন্য কোনটি ভালো হবে, তা নির্ভর করে আপনার বিনিয়োগের অভ্যাস ও আয়ের উপর।
| বৈশিষ্ট্য | পুরনো কর ব্যবস্থা | নতুন কর ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| করছাড়ের সুবিধা | মিলবে (৮০সি, ৮০ডি, HRA) | মিলবে না |
| করহার (₹১২ লক্ষ পর্যন্ত) | প্রযোজ্য স্ল্যাব অনুযায়ী | নতুন স্ল্যাব (কম হার) |
| প্রতিবছর পরিবর্তন | সম্ভব | সম্ভব |
| সেরা কাদের জন্য | বিনিয়োগকারীদের জন্য | সহজ ফাইলিং চান যাঁরা |
আরও পড়ুন: প্যান কার্ডের নতুন নিয়ম ২০২৬ — ১ এপ্রিল থেকে কী বদলেছে, জেনে নিন বিস্তারিত।
আরও পড়ুন: আটাল পেনশন যোজনা ২০২৬ — যোগ্যতা, সুবিধা ও আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন।
আরও পড়ুন: আধার কার্ডে নতুন নথির তালিকা ২০২৬ — UIDAI-র আপডেট গাইড।
আয়কর রিটার্ন দাখিল করা এখন আর জটিল কিছু নয়। আয়কর দপ্তরের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে নিজের ITR ফাইল করতে পারেন। শুধু সময়মতো ফাইল করা এবং সঠিক তথ্য দেওয়া এই দুটি বিষয় মনে রাখলেই যথেষ্ট। দেরি করবেন না, কারণ ৩১ জুলাই ২০২৬-এর পর ফাইল করলে ₹৫,০০০ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। আজই আপনার ডকুমেন্ট গুছিয়ে নিন এবং বিনামূল্যে ITR ফাইল করুন।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের অফিসিয়াল পোর্টাল incometax.gov.in-এ সরাসরি ITR ফাইল করতে পারেন। সর্বশেষ নিয়ম ও আপডেট জানতে ইকোনমিক টাইমসের ট্যাক্স বিভাগ দেখতে পারেন।
This post was last modified on 29th June 2026 9:18 pm