বৈশাখে হাঁটুজল, বর্ষায় খরস্রোত, এমনই এক ছোট নদীর ছবি রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’। সকাল-বিকাল পাল্লা দিয়ে এই ছড়া পড়ে বড় হয়েছেন কত প্রজন্ম। শিশুদের প্রিয়।
ছোট্ট নদী, অথচ তার তীরে গোটা গ্রামের জীবন। নদীর নিজস্ব জগৎ।
এই লেখায় থাকছে ছড়াটি, ছড়ার ছবি কাব্য প্রসঙ্গ আর কোপাই নদীর গল্প।
ছড়ার ছবি: ছন্দে আঁকা বাংলা
ছড়ার ছবি রবীন্দ্রনাথের ১৯৩৭ সালের কাব্যগ্রন্থ, ছোট্টদের জন্য লেখা ছড়ার সংকলন। আমাদের ছোট নদী সেই বইয়েরই সেরা পরিচিত ছড়া। স্কুলের বইয়ে নিয়মিত জায়গা পেয়েছে এই কবিতা।
জনশ্রুতি বলে, শান্তিনিকেতনের কাছের কোপাই নদী দেখেই কবি এ ছড়া লেখেন। শান্তিনিকেতনের পাশে কোপাই।
রবীন্দ্রনাথের জীবন ও কাব্য নিয়ে আরও জানতে দেখুন উইকিপিডিয়ার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাতা।
আমাদের ছোট নদী: ছড়ার ভেতরের ছবি
শুরু হয় বৈশাখের হাঁটুজল নদীর ছবি দিয়ে, যেখানে গরু আর গাড়ি পার হয়ে যায়। খালি পায়ে চলার মতো বালি, একধারে কাশবন। সেখানে শালিকের কিচিমিচি আর রাতে শেয়ালের হাঁক। তীরে নাহিবার কালে গামছায় জল ভরে ছোট মাছ ধরার সেই দৃশ্য।
বধূরা থালা-ঘটি মাজে, কাপড় কেচে যায়, আষাঢ়ে নদী ভরে ওঠে। তখন কলকল শব্দে খরস্রোত নদী যেন অন্য রূপ নেয়। বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া, সেই মূহুর্তেই ছড়ার শেষ।
আমাদের ছোট নদী: পুরোটা পড়ুন
পড়ুন ছড়াটি, শৈশবের সেই নদীটাকে আবার দেখা হোক।

আমাদের ছোটো নদী চলে আঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি,
দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।
চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা,
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা।
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক,
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।
আর-পারে আমবন তালবন চলে,
গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়াতলে।
তীরে তীরে ছেলে মেয়ে নাহিবার কালে
গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে।
সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে
আচলে ছাঁকিয়া তারা ছোটো মাছ ধরে।
বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে,
বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে।
আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর ভর
মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর।
মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে,
ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে।
দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া,
বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।।
কেমন লাগল? ছোট্ট নদীর এই ছবি পড়লে শৈশব ফিরে আসে।
কেন এই ছড়া এত জনপ্রিয়?
কারণ বাংলার গ্রামের ছবি এই ছড়ায় যেন প্রাণ পেয়েছে। সহজ ছন্দ, ছোট ছোট ছবি, সব মিলিয়ে মুখস্থ হয়ে যায় নিজে থেকে। লাখ ছয়ের পাঠ।
মজার কথা, স্কুলের বইয়ে কখনো ছাপা হয় ‘বাঁকে বাঁকে’, যদিও মূল পাঠ ‘আঁকে বাঁকে’।
সমাপ্তি
আমাদের ছোট নদী শুধু ছড়া নয়, গ্রামবাংলার এক আয়না। হাঁটুজল থেকে খরস্রোত, সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক কাছের বন্ধু। রবীন্দ্রনাথ কোথাও দূরের কবি নন, এই ছড়ায় তিনি পাশের বাড়ির মানুষ। পড়ুন, ছোটদের শোনান।
আরও পড়ুন: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যজীবন এবং আশাপূর্ণা দেবীর জীবনী







