পুজোর মরসুম মানেই একের পর এক দিনক্ষণ, দুর্গাপুজো কেটে গেল, এখন শোরগোল লক্ষ্মী পুজো ২০২৬-কে ঘিরে। এ বছর কোজাগরী পূর্ণিমা পড়েছে ২৬ অক্টোবর, সোমবার, বাংলা ৯ কার্তিক ১৪৩৩। বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আরাধনার খুঁটিনাটি এক নজরে জেনে নিন।
দুর্গাপুজোর মতো বাইরে ঘটা করে নয়, লক্ষ্মী পুজো হয় ঘরের ভিতর। তবু দিনটা ঠিক রাখা জরুরি, তিথির হিসেব গোল বাঁধলে পুজোয় খুঁত থেকে যায়। সত্যি কথা। তাই তারিখ, সময়, নিয়ম, ভোগ, সব একসঙ্গে সাজিয়ে দিলাম।
লক্ষ্মী পুজো ২০২৬ কবে?
পঞ্জিকার হিসেব অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর সোমবার, বাংলা ৯ কার্তিক ১৪৩৩। পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৫ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে। তাই রবিবার সন্ধে থেকেই অনেক বাড়িতে আলপনা দেওয়া শুরু হয়ে যায়, পুজোর মূল দিন অবশ্য সোমবারই।
তারিখটা হাতের কাছে লিখে রাখুন। ২৬ অক্টোবর। সকালে বাজার, দুপুরে ঘর পরিষ্কার, বিকেলে স্নান সেরে সন্ধেয় পুজো। এই রুটিনটাই মেনে চলেন বেশিরভাগ পরিবার। ভেবে দেখুন তো।
কেন কোজাগরী নাম? কথার ভিতরে লুকিয়ে উত্তর
‘কে জাগো’ থেকে এসেছে কোজাগরী। বিশ্বাস, মা লক্ষ্মী পূর্ণিমার রাতে ধরায় নেমে ঘুরে বেড়ান। দেখেন, কে জেগে থেকে আরাধনা করছে। যে জেগে থাকে, সে-ই পায় ধনসম্পদের আশীর্বাদ।
তাই কোজাগরী রাতে ঘুমোতে নেই বলে মানেন অনেকে, রাত জেগে পাঁচালি পাঠ, নামকীর্তন, গীতাপাঠ চলে। ছোটরা বলে, মা এসে পায়ে গয়না রেখে যান, স্কুলজীবনে এই গল্পটা কে না শুনেছে। মজার ব্যাপার।
এই রীতির শিকড় অনেক পুরনো। ইতিহাস আর আচারের বিস্তারিত জানতে দেখে নিতে পারেন উইকিপিডিয়ার কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পাতা।
কোন সময়ে পুজো করবেন?
পুজো হবে সন্ধের পর থেকে রাত পর্যন্ত। রাতে প্রদীপ জ্বেলে লক্ষ্মীসরা সাজানো হয়। দরজার কাছে, গোয়ালঘরের পাশে, কিংবা রান্নাঘরের কোণে। রাতভর জেগে নিশি পালন চলে। বাড়ি বাড়ি বদলায়।
পুজোর নিয়ম কী কী?
সকালে উঠে ঘর পরিষ্কার করেন, গোসল সেরে পিটুলি দিয়ে আলপনা দেন দাওয়ায়। এরপর সাজানো হয় লক্ষ্মীসরা। মাটির পাত্রে ধানগাছ, তার ওপরে গোটা নারকেল, পাশে শঙ্খ, মুদ্রা।
বাড়িতে লক্ষ্মীদেবীর বিগ্রহ থাকলে পিতল বা তামার পাত্রে বসিয়ে পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করান। চন্দন, সিঁদুর, ফুল, ধূপ, প্রদীপ, নৈবেদ্য। একে একে চড়ানো হয়। শেষে পাঁচালি পাঠ।
সব ঠিকমতো হলেই মন ভরে যায়। কথাটা মানসিক। ভক্তি থাকলেই আসল পুজো।
কী কী ভোগ নিবেদন করবেন?
ভোগে থাকবেই খই আর আমলকী। লক্ষ্মী পুজোর ভোগ মানেই কিন্তু তিলের নাড়ু, সঙ্গে নারকেল, কলা, দই, মিষ্টি, ফল।

অনেক বাড়িতে পায়েসও হয়। কেউ আবার ১৪টি পাত্রে উপচার সাজান। মানুষের রীতি আলাদা। পুরনো লোক বলে থাকেন, খই আর আমলকী থাকলেই মা খুশি।
কী কী লাগবে?
বাজারের তালিকা বানিয়ে নিন। একখানা থলেতে জড়ো করলেই হয়ে যায়।
- লক্ষ্মীসরা বা মাটির ঘট
- ধানগাছ, গোটা নারকেল
- পিটুলি, আলপনার জন্য
- চন্দন, সিঁদুর, ফুল
- ধূপ, প্রদীপ, প্রদীপে ঘি
- খই, আমলকী, ফল, মিষ্টি
- পাঁচালি বই
সরষের তেলের বদলে ঘি ব্যবহার করলে পুজোয় আলাদা গন্ধ হয়। অনেকের প্রিয় নিয়ম। কেউ কেউ শুধু ঘিতে প্রদীপ জ্বালান।
সমাপ্তি
তাই এবার ক্যালেন্ডারে গোল চিহ্ন দিন ২৬ অক্টোবর-এ। দিন, সময়, নিয়ম, ভোগ, সব মিলিয়ে জমবে ঘরোয়া আয়োজন। পূর্ণিমার রাতে জেগে থেকে পাঁচালি শুনলে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ ঘরে ঢুকবেই। শুভ কামনা রইল।







