২০২৬ সালের ১৬ জুলাই। দিল্লির সংসদ ভবনের হলঘরে সেদিন ভিড় ছিল অন্য রকম। রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।
শপথ নিয়েছিলেন ৬ এপ্রিল। মাত্র ৩ মাস আগের কথা। সেই সংসদ-যাত্রা শেষ করে আবার তিনি ফিরছেন সিনেমার জগতে। কোয়েল মল্লিকের জীবনী যাঁরা পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এই লেখায় ছোটবেলা, প্রথম ছবি, সুপারহিট আর রাজনীতির পথচলা।
কোয়েল মল্লিকের জীবনী: এক নজরে
| জন্ম | ২৮ এপ্রিল ১৯৮২, কলকাতা |
| আসল নাম | রুক্মিণী মল্লিক |
| পিতা | রঞ্জিত মল্লিক, অভিনেতা |
| মাতা | দীপা মল্লিক |
| শিক্ষা | সাইকোলজিতে স্নাতক, গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস কলেজ |
| প্রথম ছবি | নাটের গুরু, ২০০৩ |
| দাম্পত্য | নিসপাল সিং, ২০১৩ থেকে |
| সন্তান | ১ ছেলে, ১ মেয়ে |
| পুরস্কার | ফিল্মফেয়ার বাংলা, বিএফজেএ, আনন্দলোক পুরস্কার, মহানায়ক সম্মান |
| রাজনীতি | তৃণমূল কংগ্রেস, রাজ্যসভার সাংসদ ২০২৬ |
| সামাজিক মাধ্যম | ইনস্টাগ্রাম, X |

ছোটবেলা থেকে নায়িকা হয়ে ওঠা
১৯৮২ সালের ২৮ এপ্রিল কলকাতার ভবানীপুরে জন্ম। বাবা রঞ্জিত মল্লিক, বাংলা ছবির চেনা অভিনেতা। মডার্ন হাই স্কুলের পাঠ শেষে সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করলেন গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস কলেজে। হাতেখড়ি ২০০৩-এ, নাটের গুরু ছবিতে প্রথম নায়িকা।
নাটের গুরু সুপারহিট। প্রথম ছবিতেই নজর কাড়লেন তিনি। তার পর থেকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, সেটা হলফ করে বলা যায়।
সুপারহিট থেকে সমালোচকদের পছন্দ
শুভদৃষ্টি, মন মানে না, প্রেমের কাহিনি, একের পর এক সুপারহিট। হিটের পর হিট। জিৎ-এর সঙ্গে বন্ধন, ১০০% লাভ, বেশ করেছি প্রেম করেছি, সেই জুটির গল্প মেলে জিৎ-এর জীবনীয়। দেবের সঙ্গে পাগলু, রংবাজ, সে যুগের আর এক জুটি, দেবের জীবনীয় তেমনই কি আছে।
অভিনয়ের জায়গাটাও আলাদা। এমএলএ ফাটাকেষ্ট, দুই পৃথিবী, হেমলক সোসাইটিয় প্রমাণ করেছেন নিজেকে। মিতিন মাশিতে গোয়েন্দা চরিত্র, জঙ্গলে মিতিন মাশি এল ২০২৩-এ।
২০২৬: সংসদ-যাত্রা, তার পর ইস্তফা
রাজনীতিতে এলেন ২৭ ফেব্রুয়ারি, তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে। ১৬ মার্চ রাজ্যসভার ভোটে জয়, ৬ এপ্রিল শপথ নিলেন। ৩ জুন শ্রম, টেক্সটাইল ও দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য হলেন, তার ছয় সপ্তাহ পরেই ১৬ জুলাই সদস্যপদ ছেড়ে দিলেন।
শপথ থেকে ইস্তফা, হিসেবটা ৩ মাসের বেশি নয়। সংসদ ভবনের সেই পর্বের বিস্তারিত দেখা যায় সংসদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে। আর কোয়েল মল্লিকের পুরো ছবির তালিকা মিলবে উইকিপিডিয়া পাতায়। নথিটা সংসদের ওয়েবসাইটেই।
পুরস্কার, পরিবার আর সমাজের কাজ
হাতে এসেছে ফিল্মফেয়ার বাংলা, বিএফজেএ, আনন্দলোক পুরস্কার। মহানায়ক সম্মান, ২০২৩। ২০১৩-এ প্রযোজক নিসপাল সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে, ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার, বিধবা আর শিশুদের নিয়ে কাজ চলছেন বহুদিন ধরে।
উপসংহার
টলিউডের টালি-কুইন ডাকনামটা তাঁর সঙ্গে লেগে আছে আজও। রাজ্যসভা ছেড়ে ফেরা, এবার কোথায় গিয়ে দাঁড়ান, সেটাই দেখার। আর কী বলবেন! দর্শক তো অপেক্ষায়।








