১৬ অক্টোবর, দুর্গাপুজোর মাঝামাঝি। হল অন্ধকার, পর্দায় আলো। ওই দিনই মুক্তি পাচ্ছে শ্রীজিত মুখার্জির এম্পারর বনাম শরৎচন্দ্র ছবি, মুখ্য চরিত্রে আবীর চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এই নায়কের গল্পটা একটু অন্য রকম। কারণ, বাংলার দুই কিংবদন্তি গোয়েন্দা, ব্যোমকেশ আর ফেলুদা, দুটো চরিত্রই তাঁর ক্যারিয়ারে আছে। সত্যি কথা।
আবীর চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী পড়তে গেলে একটা জিনিস চোখে পড়ে, একটানা পথচলা। ১৯৮০ সালের ১৮ নভেম্বর কলকাতায় জন্ম, বাবা-মা দুজনেই থিয়েটারের মানুষ। অভিনয় যেন রক্তেই ছিল, তবু পর্দায় আসতে দেরি হয়েছে। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা, সে গল্পটা ধীরে ধীরে বলি।
আবীর চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | আবীর চট্টোপাধ্যায় |
| জন্ম | ১৮ নভেম্বর ১৯৮০ |
| জন্মস্থান | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ |
| বাবা-মা | ফাল্গুনী ও রুমকি চট্টোপাধ্যায়, দুজনেই থিয়েটার শিল্পী |
| শিক্ষা | বি.কম গোয়েঙ্কা কলেজ, এমবিএ আইসিএফএআই কলকাতা |
| অভিষেক | ক্রস কানেকশন, ২০০৯ |
| স্ত্রী | নন্দিনী চট্টোপাধ্যায় |
| সন্তান | মেয়ে ময়ূরাক্ষী |
| উল্লেখযোগ্য কাজ | ব্যোমকেশ সিরিজ, বাদশাহী আংটি, বোঝেনা সে বোঝেনা, বহুরূপী, আলাপ |
| সামাজিক মাধ্যম | ইনস্টাগ্রাম: @itsmeabirchatterjee ভেরিফায়েড, বিস্তারিত তথ্যের জন্য উইকিপিডিয়া |
ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা: শুরু যেভাবে

ক্যারিয়ারের শুরু কিন্তু সিনেমা হল না। রূপসী বাংলা, সোময়, শাশুড়ি জিন্দাবাদ, একের পর এক ধারাবাহিক আর টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। লাবণ হ্রদ বিদ্যাপীঠ, গোয়েঙ্কা কলেজ, তারপর এমবিএ, চাকরির রাস্তাটাও খোলা ছিল, কিন্তু মঞ্চ আর পর্দার টানটা বেশি ছিল।
২০০৯ সালে ক্রস কানেকশন ছবি দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক। ঠিক তার পরের বছরই অঞ্জন দত্তের ব্যোমকেশ বক্সী ছবিতে গোয়েন্দা ব্যোমকেশ। প্রথম সিনেমাতেই এমন চরিত্র। সত্যি বলতে, ভাগ্য তো ছিলই, গোয়েন্দাটাকে নিজের করে নিতে আরও কয়েক বছর লেগেছে। ভাবা যায়!
কথাটা ভাবুন তো।
ব্যোমকেশও, ফেলুদাও
অঞ্জন দত্তের হাত ধরে আবার ব্যোমকেশ, ব্যোমকেশ ফিরে এলো, তারপর অরিন্দম শীলের হর হর ব্যোমকেশ, ব্যোমকেশ প’ড়বো, ব্যোমকেশ গোত্র, শেষে দেবালয় ভট্টাচার্যের বিদায় ব্যোমকেশ। একই চরিত্রে এতগুলো ছবি, সেটাও বাংলা সিনেমায় বিরল। নামটাই যথেষ্ট।
২০১৪ সালে আরেক কাণ্ড। সন্দীপ রায়ের বাদশাহী আংটি ছবিতে ফেলুদা। ব্যোমকেশ তো বটেই, ফেলুদাও। দুটো চরিত্রই যাঁর ক্যারিয়ারে আছে, এমন নায়ক বাংলায় কমই। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ফেলুদা মনে পড়ে যায়, অথচ ছবিটা নিজের মতো করেই করেছেন তিনি। সেই জাদুই আলাদা।
বক্স অফিসের হিসেব: আবীর চট্টোপাধ্যায়
সমালোচক যেমন রেখেছেন, দর্শকও রেখেছেন তাঁকে। বোঝেনা সে বোঝেনা, বৈশে শ্রাবণ, তারপর গুপ্তধনের সন্ধানে থেকে দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন, কর্ণসুবর্ণের গুপ্তধন। ফ্র্যাঞ্চাইজিটা যেন তাঁর হাত ধরেই বড় হল, বিষর্জন ছবি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে আর সেখানেও নায়ক তিনিই।
সম্প্রতি ফাটাফাটি, আলাপ, বাবলি, আর শিবপ্রসাদ-নন্দিতার বহুরূপী। বহুরূপী তো বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বড় আয়ের তালিকায়। ২০২৪ সালের আলাপ-এর জন্য টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ডসে সেরা রোমান্টিক নায়ক। পঞ্চাশ ছবির বেশি ক্যারিয়ার, এখনও চলছে। হিসেবটা দর্শকেরই।
গোটা যাত্রার খুঁটিনাটি, ছবির তালিকা, পুরস্কারের হিসেব, সবিস্তারে পাবেন উইকিপিডিয়া পাতা দেখুন লিংকে। পড়ে দেখলেই বোঝা যাবে, কতটা পথ পেরিয়েছেন তিনি।
পুজোয় পর্দায় আবীর
এবারের দুর্গাপুজোয় দর্শকের সামনে নতুন ছবি। ১৬ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে এম্পারর বনাম শরৎচন্দ্র, পরিচালনা শ্রীজিত মুখার্জির, সঙ্গে মিমি চক্রবর্তী। পুজোয় মুক্তি পাওয়া চারটে ছবির মধ্যে এটাও একটা, ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়তে পারবে কি না সেটাই দেখার। দেখা যাক!
এদিকে টিভির পর্দাতেও ব্যস্ত তিনি, জি বাংলার সা রে গা মা পা-য় উপস্থাপক বেশ কয়েক বছর ধরে। মঞ্চ, ধারাবাহিক, সিনেমা, রিয়েলিটি শো, সব মিলিয়ে নায়কের দিনগুলো এখনও শেষ হয়নি। আর কী বলবেন!
উপসংহার
ব্যোমকেশের খোঁজে গলির পর গলি, ফেলুদার আংটির পেছনে শহর ছোটা, এমন অভিনেতা বাংলায় কম। আবীর চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী যেমন টলিউডের ইতিহাস, তেমনি নতুনদের পথ দেখানো, ১৭ বছরের পথচলা দেখে বোঝা যায় ধারাবাহিক পরিশ্রমের বদলে দর্শকের ভালোবাসা মেলে।
- আরও পড়ুন: দুর্গাপুজো ২০২৬-এ মুক্তি পাচ্ছে চারটে টলিউড ছবি, দেখে নিন তালিকা
- মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনী: ডিস্কো ড্যান্সার থেকে দাদাসাহেব ফালকে








