পুজোর মাস ঘনিয়ে এলেই একটা হিসেব মাথায় ঘুরতে থাকে। দুর্গাপুজো ২০২৬-এ খরচ কত হবে, কোন খাতে কত দিতে হবে, এই ভাবনা সবার। এ বছর মহালয়া ১০ অক্টোবর, আর মূল পুজো ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু।
ভালো লাগে পুজো, কিন্তু খরচের ভয়ে ছাড় দিতে হয় না মনকে। কারণ, নতুন পোশাক থেকে প্যান্ডেল ঘোরা, খাওয়া থেকে চাঁদা, সব মিলিয়ে খরচটা বেড়ে যায় অনেকখানি। বাজেট আগে থেকে ঠিক করলে এই পাহাড়টা নামানো যায়। একটা সহজ হিসেবই কাজের। জেনে নিন খুঁটিনাটি।
পুজোয় খরচ কত বাড়ে?

অক্টোবর মাসটা মানেই উৎসবের রং, আর সঙ্গে বেড়ে যায় খরচ। সপ্তাহখানেক আগে থেকেই কেনাকাটা শুরু করে দেন অনেকে, তাই হাতে থাকা টাকাও ফুরিয়ে যায় আগেই।
মধ্যবিত্ত পরিবারে পুজোর মাসে খরচ সাধারণত অন্য মাসের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়ে। মানে, মাসে ৩০ হাজার টাকা লাগলে পুজোর মাসে তা পৌঁছে যায় ৪৫ হাজার পর্যন্ত। ঠিক তেমনই।
কোন কোন খাতে কত খরচ হয়?
খরচের বড় ভাগগুলো আগে থেকে টুকে রাখলে হিসেবটা মাথায় বসে যায়। এক নজরে দেখে নিন প্রধান খাতগুলো, তবেই পরিকল্পনা সহজ।
| খাত | মোটামুটি খরচ |
|---|---|
| নতুন পোশাক (পরিবারে ৪ জন) | ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা |
| পুজোর খাবার, মিষ্টি, উপকরণ | ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা |
| চাঁদা, পুজোর দান | ২ থেকে ৫ হাজার টাকা |
| বাচ্চাদের নতুন জামা, খেলনা | ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা |
| প্যান্ডেল ঘোরার পকেট খরচ | ২ থেকে ৪ হাজার টাকা |
এই হিসেব এলাকা আর সংসারের চাহিদা অনুযায়ী বদলাতে পারে। কিন্তু আগে লিখে রাখলে পরিকল্পনা করা সহজ হয়। সবকিছু নিখুঁত না করলেও চলে।
পুজোর বাজেট ধরে কেনাকাটার পদ্ধতি কী কী?
বাজেট বাঁধা মানে গরিবের ভাত কষা নয়। মানে, খরচটা নিজের হাতে রাখা।
কয়েকটা সহজ পদ্ধতি মেনে চললেই কাজ হয়ে যায়।
- সবার আগে মাসের আয় আর নিয়মিত খরচটা লিখে ফেলুন
- পুজোর ইমার্জেন্সি টাকা আলাদা করে দিন, তবেই বাকিটা কেনাকাটায়
- অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই বড় বড় জিনিস কিনে ফেলুন, দাম ফুলে ওঠার আগে
- নগদ টাকার চেয়ে ডিজিটাল লেনদেনে ছাড় মেলে অনেক জায়গায়
নতুন পোশাকের কথা ভাবছেন? আগে দুর্গাপুজোর পোশাক কেনার গাইড দেখে ঠিক করুন। তারপরেই দোকানে যান।
খরচ কমিয়ে পুজো উপভোগের সহজ উপায়
পুজো মানে খরচ, ঠিকই। কিন্তু অল্প খরচেও সুন্দরভাবে কাটানো যায়। বিগত বছরের পোশাক নতুনভাবে সাজিয়ে তুললেও কাজ হয়ে যায়। কথাটা মনে রাখুন।
শুধু কেনাকাটাতেই নয়, প্যান্ডেল ঘোরার সময় পকেট খরচও বেঁধে ফেলুন। সত্যি কথা, ঠিকঠাক পরিকল্পনা থাকলে আনন্দে ভাটা পড়ে না, দামি জিনিসের অভাবে হয়। আর কী বলবেন।
কবে পুজো, কোন দিন কী, পুরো নির্ঘণ্টটা চোখে রাখতে হলে মহালয়া থেকে ভাইফোঁটার দিনপঞ্জি দেখে নিতে পারেন।
উপসংহার
দুর্গাপুজো ২০২৬ আনন্দের উৎসব, খরচই মূল নয়। আগে থেকে বাজেট ধরে কেনাকাটা করলে যেমন টাকা বাঁচে, তেমনি পুজোর আনন্দও অটুট থাকে। মা দুর্গার পুজোর রীতি আর ইতিহাস নিয়ে আরও জানতে পড়তে পারেন উইকিপিডিয়ার দুর্গাপূজা পাতা। ছোট ছোট হিসেব মিলিয়ে বড় স্বস্তি। শুভ পুজো!








