প্যান কার্ড নিয়ে এবার বড় খবর। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আবেদনের ফর্ম বদলে গেছে, সঙ্গে বদলেছে খরচের হিসাবও।
নতুন নিয়মে ই-প্যান পাবেন ফ্রি। নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ সব মিলবে একটা গতিশীল QR কোডে। ফর্ম নম্বরটা মিলিয়ে রাখুন, তাতে ভুল হলে আবেদন ফেরত আসে। জেনে নিন খুঁটিনাটি।
প্যান কার্ড ২.০ আসলে কী?

প্যান ২.০ মানে শুধু নতুন চেহারার কার্ড নয়, পুরো সিস্টেমটাই বদল। তিনটে আলাদা পোর্টাল এক জায়গায় আনা হয়েছে, ক্যাবিনেটে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৫ নভেম্বর ২০২৪, বরাদ্দ ১,৪৩৫ কোটি টাকা।
পুরনো কার্ডের QR ছিল স্থায়ী। নতুনটায় QR গতিশীল, শেষ হালনাগাদ তথ্যই দেখা যায় স্ক্যান করলে। জাল কার্ড ধরার সুযোগ অনেকটাই কম। আর কী চাই?
আপনার জন্য কী বদলাল?
ই-প্যান এখন সম্পূর্ণ ফ্রি। খরচটা শূন্য। আগে যেখানে সামান্য ফি লাগত, সেখানে এখন মেইলবক্সেই চলে আসে কার্ড, সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।
- ই-প্যান ফ্রি, মেলে রেজিস্টার্ড মেইলে ২৪ ঘণ্টায়।
- কাগজের কার্ড চাইলে ₹৫০, দেশের ভিতরে ডাক খরচ আলাদা।
- নতুন আবেদনের ফর্ম ৯৩ ও ৯৪, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য।
- বিদেশিদের জন্য ফর্ম ৯৫ ও ৯৬।
প্যান নম্বরটা কিন্তু বদলাচ্ছে না। দশ অঙ্কের পুরনো নম্বরই থেকে যায়। কার্ডের আয়ুও সারাজীবন। নতুন ফর্মে আবেদনের ফি ₹১০৭।
কী কী নথি লাগবে?
নথির তালিকা মোটামুটি আগের মতোই। পরিচয়ের জন্য আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার কার্ড, যেকোনো একটা যথেষ্ট।
ঠিকানা প্রমাণে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট, ভাড়ার চুক্তি বা বিদ্যুৎ বিল। জন্মতারিখের জন্য জন্ম শংসাপত্র অথবা পাসপোর্ট। সব ডিজিটাল কপিই কাজে লাগে। একটাই, ছবি যেন পরিষ্কার থাকে। তাই যথেষ্ট।
অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে?
আগে দেখুন কার্ডের পিছনে কার নাম লেখা। Protean (NSDL) নাকি UTIITSL, এই দুটোর একটাই আসবে। সেটাই ঠিক করে দেয় কোন পোর্টালে যাবেন। সোজা।
Protean পোর্টালে
tinpan.proteantech.in খুলে রিপ্রিন্ট বা নতুন আবেদনে যান। প্যান নম্বর, আধার, জন্মতারিখ দিয়ে OTP নিশ্চিত করুন।
UTIITSL পোর্টালে
উটিআইটিএসএল সাইটে রিপ্রিন্ট / আপগ্রেড অপশনটা বেছে নিন। আধার OTP দিয়েই এগোন, স্ক্রিনে সব ঠিক দেখে এগোন। ভরসা রাখুন।
মনে রাখবেন, আধার প্যানের সঙ্গে লিংক থাকা জরুরি। তবেই OTP দিয়ে সহজে কাজ মিটবে। নথি সামঞ্জস্য থাকলে মিনিটেই আবেদন জমা। নামের বানানটা দুবার মিলিয়ে নেবেন।
কার্ড আপগ্রেড করা কি বাধ্যতামূলক?
না, একদমই না। পুরনো প্যান কার্ড আগের মতোই চলবে, তার আয়ুও কমছে না। আপগ্রেড মানে শুধু সুবিধা, বাধ্যবাধকতা নয়, অথচ প্রশ্নটা সবার মুখে।
সত্যি কথা, এই নিয়ম ঘিরে জাল ফোন আর মেসেজও চলছে। কারও কথায় QR কোড দিতে বসবেন না। বাধ্যতামূলক আপগ্রেডের নাম করে কেউ টাকা চাইলে, মানবেন না। বিশ্বাস করবেন না। ভরসাও নয়।
প্যান নিয়ে আরও দুটো কাজ
নাম বা ঠিকানায় ভুল ধরা পড়লে ঘরে বসেই মিটিয়ে ফেলা যায়। পুরো পদ্ধতি জানতে পড়ুন প্যান কার্ডে ভুল তথ্য সংশোধনের গাইড।
ই-প্যান নামিয়ে রাখার নিয়মটাও সোজা, এ বিষয়ে বিস্তারিত আছে ই-প্যান কার্ড ফ্রি ডাউনলোডের লেখায়।
উপসংহার
প্যান ২.০-এ বদল বড়, অথচ ব্যবহারটা আগের চেয়ে সহজ। নথিগুলো হাতের কাছে রেখে দু-চার মিনিটেই কাজ সেরে ফেলা যায়। ফর্মের বানানটা একবার ভালো করে মিলিয়ে নিন, ব্যস।








