বছর দুয়েক আগেও ইলেকট্রিক গাড়ি মানেই দামি শখ। ব্যাপারটা এখন বদলেছে। শহর থেকে মফস্সল, সব জায়গাতেই ইভির আলোচনা, আর নেহাত কমছে না পেট্রোলের দামও। মাহিন্দ্রার নতুন গাড়িটার নাম উঠছে ঠিক সেই আলোচনার সেরায়।
কথাটা বলছি মাহিন্দ্রা XEV 4e-র। কমপ্যাক্ট সাইজ, আর আনুমানিক ১৩ লক্ষ টাকার মতো দাম, তাই নিয়ে গোটা বাজারেই গুঞ্জন।
লঞ্চের তারিখ নিয়ে সংস্থার তরফে এখনও মুখ খোলেনি। তবে HT Auto-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য দিন হিসেবে ধরা হচ্ছে ১১ আগস্টকেই, আর দাম শুরু হতে পারে ১৩ লক্ষ টাকার কাছাকাছি থেকে। এমন দামে প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকায় ঢুকে পড়ছে টাটার দুটি জনপ্রিয় ইলেকট্রিক মডেলও।
মাহিন্দ্রা XEV 4e: কেমন হবে এই গাড়ি?
ডিজাইনের দিক থেকে চেহারা অনেকটাই মিলবে বড় ভাই XEV 9e-র সঙ্গে। সামনে বন্ধ গ্রিল, সরু এলইডি হেডল্যাম্প, ঝকঝকে ডে-টাইম রানিং লাইট। টাটকা লুকের অভাবে তাই কষ্ট পেতে হবে না। ভেতরে টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট, ডিজিটাল ক্লাস্টার, অটো ক্লাইমেট কন্ট্রোল, সঙ্গে কানেক্টেড কার ফিচার।
শহুরে ইভির বাজারটা যে কত গরম, সেটা সংখ্যাতেই বোঝা যায়। গত এক বছরে দিল্লি-মুম্বইয়ের পর কলকাতাতেও ইভির নম্বর প্লেট চোখে পড়ছে বাড়তি। বাজেট সেগমেন্টে একটা ভাল ছোট এসইউভি পেলেই অনেক পরিবারের ইলেকট্রিক গাড়ির হিসাব মিটে যায়।
পাওয়ার আসবে সামনের চাকায়, মানে ফ্রন্ট-হুইল-ড্রাইভ সেটআপ। শহরের রাস্তা-ঘাটের জন্য এমন কমপ্যাক্ট লেআউটই যথেষ্ট, সেটা সংস্থাও জানে।
দাম, ব্যাটারি আর রেঞ্জ: কত পড়বে খরচ?
দাম নিয়ে সরকারি ঘোষণা নেই, তবে ধারণা স্পষ্ট। অটো বিশেষজ্ঞদের অনুমান, XEV 4e আসবে দুটি ব্যাটারি প্যাক নিয়ে। ছোট প্যাকের নাগাল ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার, বড় প্যাকটা টেনে দিতে পারে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

- ছোট ব্যাটারি: ৩৪.৫ কিলোওয়াট-আওয়ার, রেঞ্জ ২৫০ থেকে ৩০০ কিমি
- বড় ব্যাটারি: ৩৯.৫ কিলোওয়াট-আওয়ার, রেঞ্জ ৪০০ কিমি পর্যন্ত
- আনুমানিক দাম: ১৩ লক্ষ টাকার কাছাকাছি থেকে
ফাস্ট চার্জিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে বলেই জোর গুঞ্জন, সঙ্গে ভি-টু-এল সুবিধার সম্ভাবনাও। রাস্তায় রাস্তায় চার্জার খুঁজতে গিয়ে বিপদে পড়ার অভিজ্ঞতা কারও কারও আছে, তাই চার্জিং স্টেশন নিয়ে আমাদের গাইডটা দেখে রাখুন।
সেফটি খাতা: কী কী থাকছে?
সেফটি নিয়ে মাথা ঘামানোর জায়গা থাকবে না বলেই পরিকল্পনা। বেস ভেরিয়েন্টেই ডুয়াল এয়ারব্যাগ, এবিএস সহ ইবিডি, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল। টপ ভেরিয়েন্টে যোগ হতে পারে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, আইসোফিক্স চাইল্ড সিট মাউন্ট, পিছনে পার্কিং সেনসর।
কার সঙ্গে পাল্লা?
এই সেগমেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বী কম নয়। টাটা পাঞ্চ ইভি, নেক্সন ইভি, সিট্রোয়েন ë-C3, এমজি কমেট, সবাই তো বাজারে। এছাড়া মাহিন্দ্রার নিজের ঘরের 3XO ইভিও আছে, আর সম্প্রতি এসেছে কিয়া সাইরস ইভি। মানে, ঘরে-বাইরে দুই জায়গাতেই লড়াই।
আরও পড়ুন: মাহিন্দ্রা ঠার ই ২০২৬: দাম, রেঞ্জ ও লঞ্চের খুঁটিনাটি।
উপসংহার
XEV 4e-র সরকারি দাম আর ফিচার তালিকা আসবে লঞ্চের দিনে। ততক্ষণে একটাই কাজ, বাজেট সামলে সিদ্ধান্তটা আগে থেকে ঠিক করে রাখা।








