সরকারি চাকরি, কলেজে ভর্তি, বৃত্তি, কিংবা রাজ্যের নানা প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে কাস্ট সার্টিফিকেট নামের এই কাগজটার বিকল্প নেই। ওই একটা প্রমাণ কাগজে আছে কি নেই, সেটাই আগে দেখে নেয় দপ্তরগুলো। শুনলে অবাক হবেন, পশ্চিমবঙ্গে এই সার্টিফিকেটের আবেদন এখন ঘরে বসেই হয়।
রাজ্যের পশ্চাৎপদ শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর চালায় OSCAR পোর্টাল। সেখানে গিয়ে ফর্ম ভরলেন, নথি দিলেন, আর বাকিটা দপ্তরের হাতেই।
কাস্ট সার্টিফিকেট কেন এত জরুরি?
স্কুল-কলেজে সংরক্ষিত আসন, সরকারি চাকরিতে বয়সের ছাড়, উপবৃত্তি, রাজ্যের নানা কল্যাণ প্রকল্প, সবেতেই এই নথিটা চাই। আর প্রথমবার চাকরিতে ঢোকার সময় তো এর কপি লাগবেই। সোজা কথায়, তালিকাভুক্ত সম্প্রদায়ের পরিচয়প্রমাণই হলো কাস্ট সার্টিফিকেট। সংবিধানের ৩৪১ ও ৩৪২ ধারা মেনে রাজ্য সরকারই জারি করে এই শংসাপত্র।
একটা কথা মাথায় রাখুন, তালিকাটা রাজ্য ভেদে বদলে যায়। অন্য রাজ্য থেকে এলে হয়তো জন্মরাজ্যের তালিকা ধরে আলাদা সার্টিফিকেট করাতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কী নথি লাগবে?

SC, ST বা OBC, তিন শ্রেণির তালিকাভুক্ত সম্প্রদায়ের মানুষই এখানে আবেদনের যোগ্য। পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় বাগদি, বাউরি, চামার, দোসাধ, নমঃশূদ্র, রাজবংশী, এমন বহু সম্প্রদায়ের নাম রয়েছে। ফর্মে নিজের সম্প্রদায়টা ড্রপডাউন থেকে বেছে নিতে হয়। আর OBC-দের জন্য আছে নন-ক্রিমিলেয়ার শর্ত, সেটা বাদ দিলে চলবে না। আরও পড়ুন: ভোটার কার্ড অনলাইনে নিবন্ধনের গাইড।
সবচেয়ে ভাল হয় বাবার কাস্ট সার্টিফিকেট থাকলে, সেটাই মূল প্রমাণ। আধার, ভোটার কার্ড, জন্মসনদ, ঠিকানার প্রমাণ, স্কুলের স্থানান্তর সনদ, সঙ্গে স্ট্যাম্প পেপারের হলফনামা ও দুটি ছবি, এই সবই লাগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, আরও পড়ুন: আধার কার্ড অনলাইনে আপডেটের পদ্ধতি।
ফর্মটা ভরতে ভরতে জায়গা পূরণ করে নিন ধীরে। মোবাইল নম্বর, ইমেল, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, বর্তমান আর স্থায়ী ঠিকানা, সব ঠিক করে দিতে হবে। রক্তসম্পর্কের কারও সার্টিফিকেট থাকলে তার নম্বর আর ইস্যুর তারিখও চাওয়া হয়। সর্বশেষে দুজন স্থানীয় রেফারির নাম-ঠিকানা লিখে সাবমিট, ব্যস।
OSCAR পোর্টালে আবেদনের ধাপ
সব কাজটাই হয় castcertificatewb.gov.in সাইটে। সাইটে ঢুকলেই প্রথমে রাজ্য, জেলা, মহকুমা আর গ্রাম পঞ্চায়েত বেছে নিতে হবে। আবেদনের ধরন আগে ঠিক করুন, SC না ST।
- আবেদন SC/ST-র জন্য, নাকি OBC-র জন্য, সেটা বেছে নিন।
- নিজের নাম, বাবার নাম, মোবাইল নম্বর আর ইমেল দিন।
- ভোটার কার্ডের EPIC নম্বর, আধার নম্বর কিংবা খাদ্যসাথী নম্বর, যেকোনো একটা দিলেই চলবে।
- জন্মতারিখ আর জন্মস্থানের জেলা, থানা, গ্রাম লিখুন।
- ছয় মাসের বর্তমান ঠিকানা আর স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করুন।
- রক্তসম্পর্কের কারও আগের সার্টিফিকেটের নম্বর, তারিখ দিলে কাজ সহজ।
- দুই রেফারির নাম ও ঠিকানা লিখে দিন।
- সাবমিট করে অ্যাপ্লিকেশন নম্বরটা রেখে দিন, সেটা দিয়ে স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
জমা দেওয়ার পর তদন্ত হয়, সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট মেলে। ডিজিটাল সই হয়ে গেলে তবেই ডাউনলোড করা যাবে, পোর্টাল থেকে, কিংবা ডিজিলকার-এ রেখে দিলেও চলে।
যেসব ভুলে আবেদন ফিরে আসতে পারে
তালিকার বাইরের কোনো সম্প্রদায়ের নাম লিখলে আবেদনটা ফিরে আসে। জন্মরাজ্য আর বর্তমান রাজ্য আলাদা হলে মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট ছাড়া পথ নেই। কাগজপত্র অসম্পূর্ণ মানে তদন্তে আটকে যাওয়া। ফর্মটা জমা দেওয়ার আগে একবার মিলিয়ে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।
আবেদনের খরচ কত?
খরচের কথা জিজ্ঞেস করবেন? সাধারণত সার্টিফিকেটটা প্রায় বিনামূল্যেই মেলে। কোথাও কোথাও মামুলি ফি, ১০ থেকে ৫০ টাকার মতো হয়।
মেয়াদ আর নবীকরণ
SC আর ST-র সার্টিফিকেটের মেয়াদ আজীবন, বারবার বদলাতে হয় না। কিন্তু OBC-দের ক্ষেত্রে ক্রিমিলেয়ার হিসেবের কারণে ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে একবার নবীকরণ করাতে হয়।
উপসংহার
আগে যেখানে দপ্তরে দপ্তরে ছুটতে হতো, এখন সেই ঝক্কিটা নেই। ইন্টারনেট থাকলেই ঘরে বসে ফর্ম, বাকিটা সরকারি ওয়েবসাইটের গাইডলাইন দেখে নিন। নথিগুলো গুছিয়ে রাখুন, কাজটা তখন অর্ধেক সারা।








