ক্রিকেট বলতেই সবার আগে যাঁর নাম আসে, এই মুহূর্তে তিনি জসপ্রীত বুমরাহ। তিন ফরম্যাটের র্যাংকিংয়ে নম্বর এক। না, শুধু ভারত নয়, গোটা দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর পেসার সে। অথচ সেই ছেলেটির ক্রিকেট জীবন শুরু হয়েছিল একেবারে অদ্ভুত এক বোলিং অ্যাকশন নিয়ে।
শুনলে অবাক হবেন, ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগে তাঁর টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাই ছিল না বললেই চলে। তারপর? মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় পেস আক্রমণের মেরুদণ্ড হয়ে উঠলেন। বিশ্বকাপজয়ী দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র তিনিই। অবিশ্বাস্য, তাই না?
জীবনী তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | জসপ্রীত জসবীরসিংহ বুমরাহ |
| জন্ম তারিখ | ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৩ |
| জন্মস্থান | আহমেদাবাদ, গুজরাট |
| বোলিং স্টাইল | ডানহাতি ফাস্ট |
| ভূমিকা | বোলার |
| আন্তর্জাতিক অভিষেক | ওডিআই: জানুয়ারি ২০১৬, অস্ট্রেলিয়া; টেস্ট: ৫ জানুয়ারি ২০১৮, দক্ষিণ আফ্রিকা |
| আইপিএল দল | মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (২০১৩ থেকে) |
| স্ত্রী | সঞ্জনা গণেশন (২০২১) |
| সন্তান | ছেলে অঙ্গদ (২০২৩) |
| উল্লেখযোগ্য পুরস্কার | স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি (২০২৪), পলি উমরিগর অ্যাওয়ার্ড (৩ বার) |
| সামাজিক মাধ্যম | উইকিপিডিয়া · ইনস্টাগ্রাম · টুইটার |
প্রারম্ভিক জীবন ও শৈশব
১৯৯৩ সালের ৬ ডিসেম্বর, আহমেদাবাদে এক শিখ পরিবারে জন্ম বুমরাহের। বাবার নাম জসবীর সিংহ, ছোটখাটো ব্যবসা ছিল। বুমরাহের বয়স তখন পাঁচ, সেই সময়ই বাবা চলে যান। মা দলজিৎ বুমরাহ স্কুলশিক্ষিকা, তিনিই দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন।
সংসার চালানোর জন্য মাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। ছোটবেলায় বুমরাহর নজর ছিল ক্রিকেটে। অথচ তাঁর বোলিং অ্যাকশন দেখে কেউ ভাবতেও পারেনি, একদিন তিনি বিশ্বের সেরা হবেন।
ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স
২০১২-১৩ মৌসুমে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে গুজরাটের হয়ে প্রথম ম্যাচ। ফাইনালে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়নও করলেন। সেখানেই তাঁকে দেখে ফেলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কোচ জন রাইট। ২০১৩ সালে আইপিএলে ডাক পেলেন বুমরাহ।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে পাঁচবার আইপিএল ট্রফি জিতেছেন। ১৪২ ম্যাচে ১৮১ উইকেট, মালিঙ্গার পরেই দলটির সেরা উইকেটশিকারী। ডেথ ওভারে তাঁর ইয়র্কার আজ বিশ্ববিখ্যাত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক
২০১৬ সালের জানুয়ারি, অস্ট্রেলিয়া সফরে অভিষেক। ওডিআইয়ে প্রথম উইকেটই স্টিভ স্মিথের। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম শিকার ডেভিড ওয়ার্নার। শুরুতেই বড় নামের শিকার করে নজর কেড়েছিলেন।
২০১৮ সালে কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক। প্রথম টেস্ট উইকেট এবি ডি ভিলিয়ার্সের। বছর শেষে টেস্টে ৪৮ উইকেট, ভারতীয় পেসারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড। মেলবোর্নে ছয় উইকেটের সেই স্পেল। আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আছে।
বিশ্বকাপ, রেকর্ড ও পুরস্কার
২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বে খেতাব জেতে ভারত, সেখানে ১৫ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় বুমরাহ। এরপর ২০২৬-এ টানা দ্বিতীয় খেতাব, ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।
আইসিসি র্যাংকিংয়ের ইতিহাসে তিন ফরম্যাটেই প্রথম স্থানে পৌঁছনো প্রথম বোলার তিনি। ২০২৪ সালে ৭১ টেস্ট উইকেট, মেলবোর্ন টেস্টে ৯ উইকেট। সেই বছরই স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি ও আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার পেলেন।
বুমরাহর সামর্থ্য দেখে সচিন তেন্ডুলকরও একবার বলেছিলেন, তিনিই বর্তমান বিশ্বসেরা বোলার। ভারতীয় পেসারদের ঐতিহ্যের কথা উঠলেই কপিল দেবের প্রসঙ্গ আসে, কপিল দেবের জীবনী পড়ে দেখতে পারেন।
উপসংহার
বাবার হার, মায়ের লড়াই, কেউ ভাবেনি এমন এক বোলিং অ্যাকশন। সব মিলিয়ে যে গল্প, তা যেকোনও তরুণের কাছে প্রেরণার। কারণ, বুমরাহ প্রমাণ করেছেন, প্রতিভা যত অদ্ভুতই হোক, পরিশ্রম থাকলে বিশ্বজয় সম্ভব।








