আপনার সন্তানের বয়স কি পাঁচ বছরের কম? তাহলে একটা কথা জেনে রাখুন, ছোট্ট সেই মানুষটির জন্যও বানানো যায় আলাদা আধার কার্ড। নামটা শুনেছেন হয়তো, বাল আধার কার্ড। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য UIDAI এই বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে।
নীল রঙের এই কার্ডটা আসলে কিছুটা আলাদা। স্কুলে ভর্তি হোক, হাসপাতালে ভর্তি হোক, কোনো সরকারি সুবিধে পেতে হোক, সবখানেই এই পরিচয় দরকার। আর এত ছোট বয়সে শিশুর নিজের আঙুলের ছাপ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।
বাল আধার কার্ড আসলে কী?
UIDAI পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য যে কার্ড দেয়, সেটাই বাল আধার কার্ড। এই কার্ডে শিশুর নিজস্ব একটা ১২ সংখ্যার নম্বর থাকে।
ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, ব্যাংক, সব জায়গায় এই নম্বরটাই কাজে লাগে। আর একটা কথা জেনে নিন। আপনার নিজের আধার আপডেটের নিয়মটা জানতে চাইলে আধার কার্ডের নতুন নিয়ম পড়ে নিন।
কোনো কোন নথি দরকার?
সবচেয়ে দরকারি জিনিসটা হলো সন্তানের জন্মপ্রমাণ।
জন্ম সনদ থাকাটাই বাধ্যতামূলক। বাবা, মা অথবা আইনগত অভিভাবকের আধার কার্ডও নিতে হয়। নথিগুলো আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে সুবিধা হয়। কেন্দ্রে যাওয়ার আগে ফটোকপিও তৈরি করে রাখুন।
- সন্তানের জন্ম প্রমাণপত্র বা জন্ম সনদ
- বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের আধার কার্ড
- বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে UIDAI আরো নথি চাইতে পারে
অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
প্রথম ধাপে, UIDAI-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ গিয়ে আবেদন শুরু করবেন। এরপর কাছের নিবন্ধন কেন্দ্র বেছে নিয়ে স্লট বুক করে নিন, মাত্র কয়েক মুহূর্তেই হয়ে যায় ব্যবস্থা।

কেন্দ্রে পৌঁছে গেলে সন্তানের ছবি তোলা হয়। অভিভাবকের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে হাতে আসে এনরোলমেন্ট নম্বর, ওই নম্বর দিয়েই স্ট্যাটাস দেখা যায়।
তারপর ধৈর্য। প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে তৈরি হয়ে যায় কার্ডটা। ই-আধার ডাউনলোড করে নিতে পারেন। চাইলে পিভিসি কার্ডও বানানো যায়।
বায়োমেট্রিক আপডেট: জরুরি কিছু নিয়ম
শিশুর বয়স ৫ বছর হলে করতে হয় প্রথম আপডেট। এরপর ১৫ বছরে আসে দ্বিতীয়বার। দুটো আপডেটই এখন বিনা খরচে হয়। সময় মতো করলে কোনো সমস্যাই তৈরি হয় না। আর এই সুযোগটা হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
শেষ কথা
জন্ম সনদ আর অভিভাবকের আধার, এই দুটো হাতে থাকলেই প্রায় কাজ শেষ। কার্ডটা সম্পূর্ণ ফ্রি, আবেদনও ঘরে বসেই। আর পিভিসি কার্ডের নিয়ম জানতে পিভিসি কার্ড অর্ডার লেখাটা পড়ে নিন।








