সাপ্তাহিক ছুটিটা কোথায় কাটাবেন, ভাবছেন? শহরের ভিড় ছেড়ে একটু অন্য জায়গায় যেতে ইচ্ছে করছে, তাই তো? তাহলে এবার গন্তব্য হোক বিষ্ণুপুর। কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার রাস্তা। অথচ পা দিলেই যেন আরেক জমানায় ঢুকে গেলেন।
টেরাকোটার মন্দির, মল্লরাজাদের ইতিহাস, বালুচরী শাড়ি। সব মিলিয়ে শহরটা যেন এক খোলা জাদুঘর। মন্দিরের গায়ে খোদাই করা রামায়ণ, মহাভারতের দৃশ্য দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে যে কারও।
বিষ্ণুপুর কেন এত বিখ্যাত?
বিষ্ণুপুরের গল্প শুরু মল্ল রাজাদের হাত ধরে। সপ্তদশ, অষ্টাদশ শতকে গোটা অঞ্চল ছিল মল্লভূম রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র। ভক্তিমার্গী রাজারা গড়ে তুলেছিলেন একের পর এক মন্দির। ল্যাটেরাইট পাথর আর পোড়ামাটির কারুকার্যে ভরা সেই স্থাপত্য আজও দাঁড়িয়ে। গোটা এলাকা ঘুরে দেখতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় স্থানের তালিকাটা একবার চোখ রাখতে পারেন।
আর মজার কথা, ১৯৯৭ সাল থেকেই ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সাময়িক তালিকায় জায়গা করে আছে এই মন্দিরগুলো। এএসআইয়ের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত এই নিদর্শনগুলো।
কীভাবে পৌঁছোবেন বিষ্ণুপুরে?
সবচেয়ে সহজ উপায় ট্রেন। হাওড়া থেকে রোজ সকালে ছাড়ে রূপশী বাংলা এক্সপ্রেস। তিন ঘণ্টা কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিষ্ণুপুর। ভিড়ের দিনে আগে থেকে টিকিট কেটে রাখাই ভাল।
ট্রেন ছাড়াও গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। কলকাতা থেকে মোটামুটি ১৩০ কিলোমিটার দূরে শহরটা। NH-19 ধরে আরামবাগ হয়ে যাওয়া যায়, রাস্তা মন্দ নয়। নিজের গাড়ি থাকলে ভোরবেলা বেরিয়ে পড়ুন, দেখতে দেখতে পৌঁছে যাবেন। বাসে যেতে চাইলে এসবিএসটিসি-র বাসও পাবেন এসপ্ল্যানেড থেকে।
আরও পড়ুন: দীঘা ভ্রমণ গাইড ২০২৬
দেখার মতো জায়গা

বিষ্ণুপুর মানেই মন্দিরের শহর। চোখে পড়বে প্রথমেই রাসমঞ্চ। ১৬০০ সালে রাজা বীর হাম্বির তৈরি করেন এই পিরামিড আকৃতির মন্দির।
তারপর জোড়বাংলা মন্দির। ১৬৫৫ সালে রাজা রঘুনাথ সিংহের আমলে তৈরি। গায়ের টেরাকোটার কাজ দেখে মনে হবে যেন পাথরে গল্প লেখা। কৃষ্ণলীলার নানা দৃশ্য খোদাই করা আছে দেওয়াল জুড়ে। ছবি তোলার জন্যও দারুণ জায়গা, ভোরের আলোয় তো সোনার মতো লাগে।
আরেকটা নাম শ্যামরায় মন্দির। পাঁচ চূড়াবিশিষ্ট এই মন্দিরের কারুকাজ সত্যিই দেখার মতো। মদনমোহন মন্দিরেও রামায়ণ, মহাভারতের দৃশ্য ভরা। এছাড়া লালজি, রাধাশ্যাম, মৃন্ময়ী মন্দির, প্রতিটিরই আলাদা গল্প।
কখন যাবেন, কী কিনবেন
অক্টোবর থেকে মার্চ, এই সময়টাই সেরা। শীতের মিষ্টি রোদে টেরাকোটার লাল রং যেন আরও জ্বলে ওঠে। বর্ষায় অবশ্য দেওয়ালে শ্যাওলা ধরে, ছবি তোলার মুডটা মাটি।
ডিসেম্বর এলেই জমে ওঠে বিষ্ণুপুর মেলা। লোকশিল্প থেকে খাবার, সব মিলিয়ে মজার আয়োজন।
ফেরার আগে বালুচরী শাড়ি দেখে আসতে ভুলবেন না। হাতে বোনা রেশমি শাড়ি, আঁচলে রামায়ণের দৃশ্য আর রাজদরবারের ছবি। দামটা কয়েক হাজার থেকে শুরু। টেরাকোটার মূর্তি, গয়না, ছোট্ট জিনিসপত্রও কিনতে পারবেন সস্তায়। বাজারটা ঘুরে দেখলেই মন ভরে যাবে।
চাইলে রাত কাটিয়ে আসতেও পারেন। সরকারি অতিথিশালা থেকে প্রাইভেট হোটেল, বাজেট মতো বেছে নিতে পারবেন।
উপসংহার
ইতিহাস, শিল্প, খাবার, কেনাকাটা। একদিনের প্ল্যানেও দিব্যি ঘুরে আসা যায় বিষ্ণুপুর থেকে। পাহাড় ভালো লাগলে তো দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড-ও দেখে নিতে পারেন।








