বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কয়েকটি নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাদের মধ্যে অন্যতম আশাপূর্ণা দেবী। যিনি কখনও স্কুলে যাননি, তিনিই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী ঔপন্যাসিক। অসংখ্য অমর সৃষ্টি তাঁর কলম থেকে, যা আজও পাঠকদের মনে দাগ কাটে।
আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি, কলকাতার এক সাধারণ পরিবারে। শুধু ঔপন্যাসিকই নন, ছোটগল্পকার, কবি, শিশু সাহিত্যিকও তিনি। ১৯৭৬ সালে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান তিনি। পদ্মশ্রী পেয়েছেন, সাহিত্য অকাদেমি ফেলোশিপও।
শৈশব ও পারিবারিক জীবন
| পুরো নাম | আশাপূর্ণা দেবী |
| জন্ম | ৮ জানুয়ারি ১৯০৯, পোতলডাঙা, উত্তর কলকাতা |
| পিতা | হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত |
| মাতা | সরলাসুন্দরী দেবী |
| পেশা | ঔপন্যাসিক, কবি, ছোটগল্পকার, শিশু সাহিত্যিক |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা, বকুল কথা |
| পুরস্কার | জ্ঞানপীঠ (১৯৭৬), পদ্মশ্রী, সাহিত্য অকাদেমি ফেলোশিপ |
| সামাজিক মাধ্যম | Wikipedia |
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি উত্তর কলকাতার পোতলডাঙায় এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম তাঁর। বাবা হরেন্দ্রনাথ গুপ্ত বিখ্যাত শিল্পী, মা সরলাসুন্দরী বইয়ের ভীষণ প্রেমিক। মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর রীতি ছিল না তখন। স্কুলে যাওয়া হয়নি। বাড়িতেই পড়া শেখা, ভাইদের পড়া শুনে শুনে।
আশ্চর্যের ব্যাপার, তেরো বছর বয়সেই ছাপা হলো তাঁর প্রথম লেখা। ১৯২২ সালে শিশু সাথী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘বাইরের ডাক’ কবিতাটি। সাহসী এক শুরু।
সাহিত্যচর্চা ও জনপ্রিয়তা
প্রথম প্রতিশ্রুতি ও অন্যান্য সৃষ্টি
তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা বলা হয় ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাসকে। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস দিয়ে শুরু তিন খণ্ডের কাহিনি। সুবর্ণলতা, বকুল কথা মিলিয়ে নারীর মুক্তির এক অমর গাথা। কী গভীর অনুভূতি!
লেখায় উঠে এসেছে নারীর অধিকার, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক জটিলতা, সব। মোট ১৮০টিরও বেশি উপন্যাস, ৭০টির বেশি ছোটগল্প সংকলন। অসংখ্য লেখা। শিশু সাহিত্যও কম লেখেননি তিনি। ছোটগল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, সব মিলিয়ে এক বিশাল ভান্ডার।

আশাপূর্ণা দেবীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে এই তথ্যচিত্রটি দেখে নিন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
পেয়েছেন অনেক পুরস্কার। ১৯৭৬ সালে ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’-র জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান তিনি। ভুবনমোহিনী দাস স্বর্ণপদক, রবীন্দ্র পুরস্কার, লীলা পুরস্কার, জগত্তারিণী স্বর্ণপদক, সবশেষে সাহিত্য অকাদেমি ফেলোশিপ।
উপসংহার
১৯৯৫ সালের ১৩ জুলাই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন এই মহান সাহিত্যিক। কিন্তু তাঁর রচনা আজও বেঁচে আছে বাংলা সাহিত্যে, নারীর অধিকারের এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে।
আপনি যদি এখনও আশাপূর্ণা দেবীর কোনো বই না পড়ে থাকেন, তবে আজই শুরু করুন ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে। তাঁর লেখা নিয়ে যাবে আপনাকে এক অন্য জগতে। পড়ে দেখুন তো! নারীর স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধের এক অসাধারণ সম্মিলন সেখানে।








