বাংলা সিনেমার পর্দায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজত্ব করে চলেছেন এক নাম, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ছোট্ট একটি শিশুশিল্পী থেকে আজ বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বড় তারকা, তাঁর যাত্রা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বুম্বাদা নামেই বেশি পরিচিত এই অভিনেতা বাংলার ঘরে ঘরে তাঁর অসাধারণ অভিনয় দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
আপনি কি জানেন, প্রসেনজিৎ প্রথম পর্দায় হাজির হয়েছিলেন মাত্র নয় বছর বয়সে? শুনলে অবাক হবেন, তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুটা একটি ছোট চরিত্র দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে তিনি বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বড় নাম হয়ে ওঠেন। মজার ব্যাপার হল, বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রথমে চাননি তাঁর ছেলে অভিনয় জগতে পা রাখুক। কিন্তু নিয়তি অন্য কিছু চেয়েছিল।
জীবনী তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম তারিখ | ১০ নভেম্বর ১৯৬২ |
| জন্মস্থান | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ |
| পিতা | বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় (প্রখ্যাত অভিনেতা) |
| মাতা | রত্না চট্টোপাধ্যায় |
| পেশা | অভিনেতা, প্রযোজক |
| প্রথম ছবি (শিশুশিল্পী) | দাদার কীর্তি (১৯৭২) |
| প্রথম ছবি (নায়ক) | অবনী বড় আছো (১৯৮৪) |
| প্রিয় অভিনেতা | উত্তম কুমার |
| পুরস্কার | বিএফজিএ পুরস্কার, টেলি সিনে পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মান |
| সামাজিক মাধ্যম | Wikipedia · অফিসিয়াল ওয়েবসাইট · Instagram |
প্রারম্ভিক জীবন ও পরিবার
১৯৬২ সালের ১০ নভেম্বর কলকাতায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর জন্ম হয়। তাঁর বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা এবং মা রত্না চট্টোপাধ্যায় গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের আবহে বেড়ে ওঠা প্রসেনজিৎ ফুটবল আর সিনেমা নিয়েই বড় হয়েছেন। বোম্বে স্কটিশ স্কুলে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন ভবানীপুর কলেজে।
ছেলেবেলায় বাবার সঙ্গে স্টুডিওতে যাওয়া আর সিনেমার শুটিং দেখা তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সেই রোমাঞ্চ তিনি কখনও ভোলেননি। অভিনয় যে তাঁর রক্তে মিশে আছে, তা বুঝতে পেরেছিলেন খুব কম বয়সেই।
অভিনয় জীবন: শিশুশিল্পী থেকে মেগাস্টার
প্রসেনজিতের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭২ সালে দাদার কীর্তি ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে। এরপর দীর্ঘ প্রায় বারো বছরের বিরতি দিয়ে ১৯৮৪ সালে অবনী বড় আছো ছবিতে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আশির দশকের শেষ থেকে নব্বইয়ের দশক জুড়ে তিনি বাংলা সিনেমায় তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
আমার সম্পর্কে, আমার প্রতিভা, দেবদাস, তুমি সুন্দরী, প্রতিটি ছবিই বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পেয়েছে। শুধু বাণিজ্যিক ছবি নয়, মৃত্তিকা মায়া, ডান্সার, দশমী, এই ধরনের সমাজসচেতন ছবিতেও তিনি অনবদ্য অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে মৃত্তিকা মায়া ছবিতে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বহু পুরস্কার জিতেছে। আরও পড়ুন: মহানায়ক উত্তম কুমার এর জীবনকথা।
ব্যক্তিগত জীবন ও সমাজসেবা
ব্যক্তিগত জীবনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় একজন আদর্শ পরিবারপ্রধান মানুষ। তিনি অভিনেত্রী অরুন্ধতী দেবীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। পর্দার বাইরে প্রসেনজিৎ সমাজসেবামূলক কাজেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি বেশ কিছু দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত।
পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র জগতের উন্নতিতে তাঁর ভূমিকা অসামান্য। নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের পথ দেখানোর কাজটি তিনি খুব ভালোবাসেন। সম্প্রতি তিনি একটি নাট্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে উদ্যোগী হয়েছেন, যেখানে তরুণরা বিনামূল্যে অভিনয় শিক্ষা নিতে পারবে।
উপসংহার
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি বাংলা সিনেমার এক প্রতিষ্ঠান। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বাংলার দর্শকদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন। শিশুশিল্পী থেকে মেগাস্টার হওয়ার গল্পটি সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। তাঁর অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা আর পরিশ্রম আগামী প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এর জীবন ও অভিনয় নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন।








