সংক্ষেপে

  • শরীর ঠান্ডা রাখার সহজ ও পুষ্টিকর পানীয়।
  • প্রধান উপকরণ: টক দই, ঠান্ডা দুধ ও চিনি।
  • তৈরির সময় খুব সামান্য এবং উপকরণ সহজলভ্য।
  • স্বাদ বাড়াতে এলাচ গুঁড়ো ও কেওড়া জল ব্যবহার করা হয়।
  • পরিবেশনের আগে ১ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখা জরুরি।
উপকরণপরিমাণ
টক দই১ কাপ
ঠান্ডা দুধ২ কাপ
চিনি৩-৪ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়ো১ চা-চামচ
কেওড়া জল১ চা-চামচ

গরমের দাবদাহে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য ঘরোয়া পানীয়ের জুড়ি নেই। বাজারি কোল্ড ড্রিংকসের বদলে যদি কিছু দেশি ও স্বাস্থ্যকর খেতে চান, তাহলে পায়েস হতে পারে দারুণ একটি অপশন। মিষ্টি পায়েস মূলত দই ও দুধের মিশ্রণে তৈরি একটি শীতল ও পুষ্টিকর পানীয়, যা গরমে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে।

বাংলার ঘরে ঘরে গ্রীষ্মকালে এই পানীয় খুবই জনপ্রিয়। সহজ উপকরণ, অল্প সময়ে তৈরি, এবং দারুণ স্বাদ—এই তিনটি কারণেই পায়েস এখনও গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সমান প্রিয়। আসুন জেনে নিই কীভাবে বানাবেন ঘরোয়া বাংলা স্টাইলের মিষ্টি পায়েস ।

পায়েস বানাতে যা লাগবে

  • টক দই ১ কাপ
  • ঠান্ডা দুধ ২ কাপ
  • চিনি ৩-৪ টেবিল চামচ (স্বাদমতো)
  • এলাচ গুঁড়ো ১ চা-চামচ
  • কেওড়া জল বা রোজ ওয়াটার ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক)
  • বাদাম কুচি ও কিসমিস সাজানোর জন্য
  • বরফ প্রয়োজনমতো
উপকরণপরিমাণ
টক দই১ কাপ
ঠান্ডা দুধ২ কাপ
চিনি৩-৪ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়ো১ চা-চামচ
কেওড়া জল১ চা-চামচ

ধাপে ধাপে রেসিপি

প্রথমে একটি বড় বাটিতে টক দই ভালো করে ফেটিয়ে নিন। দই যেন মসৃণ ও লম্প-ফ্রি হয়। তার ওপর দিন চিনি ও এলাচ গুঁড়ো। হাতের ঝাঁটানি বা বিটার দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। চিনি যেন পুরোপুরি মিশে যায়।

মিষ্টি পায়েস রেসিপি - গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার সহজ ঘরোয়া পানীয়

এবার ঠান্ডা দুধ ঢেলে দিন দইয়ের মিশ্রণে। আবার ভালো করে বিট করুন। দুধ ও দই যেন একদম মিশে এক হয়ে যায়। শেষে কেওড়া জল বা রোজ ওয়াটার দিলে সুগন্ধ আরও বাড়বে।

পরিবেশনের আগে অন্তত ১ ঘণ্টা ফ্রিজে ঠান্ডা করে নিন। পরিবেশন করার সময় গ্লাসে বরফ দিয়ে তার উপর পায়েস ঢালুন। ওপরে বাদাম কুচি ও কিসমিস ছিটিয়ে দিন।

বাংলা স্টাইলে স্বাদ বাড়ানোর টিপস

প্রথাগত বাংলা পায়েস এক চিমটে নুন দেওয়া হয়। নুন দইয়ের টক স্বাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া গরমের দিনে পায়েস সামান্য জিরে গুঁড়ো দিলে হজমেও সাহায্য করে।

যাঁরা ঘন পায়েস পছন্দ করেন, তাঁরা দুধের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারেন। আর যাঁরা পাতলা পছন্দ করেন, তাঁরা আরও কিছু দুধ যোগ করতে পারেন। এছাড়া চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করলে পায়েসর স্বাদ আরও দেশি হবে।

কেন পায়েস গরমের জন্য দারুণ

দই ও দুধের এই মিশ্রণ শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজমশক্তি বাড়ায়। গরমের দিনে বাইরে থেকে ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা পায়েস যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।

তাই এই গরমে বাজারি ড্রিংকসের বদলে ঘরেই বানিয়ে ফেলুন মিষ্টি পায়েস । কম খরচে, সহজ উপকরণে তৈরি এই পানীয় আপনার গ্রীষ্মের সঙ্গী হয়ে উঠবে।

 

আরও পড়ুন: বংদুনিয়া হোমপেজ এবং আমাদের লাইফস্টাইল সেকশন দেখুন।

দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক সম্পর্কে আরও জানতে উইকিপিডিয়া দেখুন।

উপসংহার

এই মিষ্টি পায়েস কেবল স্বাদে অনন্য নয়, বরং গরমের দিনে শরীরকে সজীব ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। খুব অল্প সময়ে এবং সহজ উপায়ে ঘরেই তৈরি করা যায় এমন এই পানীয়টি আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। আজই ট্রাই করে দেখুন এই ঐতিহ্যবাহী বাংলা স্টাইল মিষ্টি পায়েস।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.