আপনার জন্য যদি হাওড়া থেকে আসাম বা উত্তর-পূর্ব ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে এই ট্রেনটি হতে পারে সেরা পছন্দ। ভারতীয় রেলের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন ইতিমধ্যেই যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ট্রেন পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আপনিও যদি দীর্ঘ পথের যাত্রায় আরামদায়ক স্লিপার কোচে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য। এখানে আমরা বন্দে ভারত স্লিপারের সময়সূচী, ভাড়া, স্টপেজ, সুবিধা ও বুকিং টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন, জেনে নেওয়া যাক ভারতের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেন সম্পর্কে সবকিছু।
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন হল ভারতীয় রেলের অত্যাধুনিক সেমি-হাই-স্পিড ট্রেনের স্লিপার সংস্করণ। এর আগে বন্দে ভারত ট্রেনগুলি কেবল দিবসের যাত্রার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল (চেয়ার কার)। কিন্তু দীর্ঘ দূরত্বের রাতারাতি যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় রেল এই স্লিপার সংস্করণ তৈরি করেছে। এটি এমন এক ট্রেন যা রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো আরাম দেয়, কিন্তু অনেক বেশি গতি ও আধুনিক সুবিধা সহ।
২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মালদা থেকে ভার্চুয়ালি এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন। এটি ভারতীয় রেলের ইতিহাসে প্রথমবার যখন একটি বন্দে ভারত ট্রেন স্লিপার কোচ নিয়ে আসে। ট্রেনটি হাওড়া (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে কামাখ্যা (আসাম) পর্যন্ত চলাচল করে। এর পূর্ণ ট্রেন নম্বর হল ২৭৫৭৫ (হাওড়া→কামাখ্যা) এবং ২৭৫৭৬ (কামাখ্যা→হাওড়া)।
ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৬০ কিমি/ঘণ্টা এবং ডিজাইন স্পিড ১৮০ কিমি/ঘণ্টা। কোটা–নাগদা রেললাইনে সফল ট্রায়াল সম্পন্ন হওয়ার পর বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয় ২২ জানুয়ারি (কামাখ্যা থেকে) ও ২৩ জানুয়ারি (হাওড়া থেকে)।
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে যাত্রীদের আরাম ও সুবিধা বিবেচনায়। তিনটি ভিন্ন ক্লাসে ভাড়া ভিন্ন। নিচের টেবিলে হাওড়া থেকে কামাখ্যা পর্যন্ত সম্পূর্ণ রুটের ভাড়া দেওয়া হলো—
| ক্লাস | ভাড়া (হাওড়া–কামাখ্যা) | মধ্যবর্তী স্টেশন ভাড়া (হাওড়া–এনজেপি) |
|---|---|---|
| এসি ৩ টায়ার | ₹২,২৯৯ | ₹১,২৪০ |
| এসি ২ টায়ার | ₹২,৯৭০ | ₹১,৭২৪ |
| ফার্স্ট এসি | ₹৩,৬৪০ | — |
ট্রেনটি সপ্তাহে ৬ দিন চলে। কামাখ্যা থেকে বুধবার এবং হাওড়া থেকে বৃহস্পতিবার ট্রেনটি পরিচালিত হয় না। সময়সূচী অনুযায়ী—
| স্টেশন | প্রস্থান/আগমন | দিন |
|---|---|---|
| হাওড়া (HWH) | সন্ধ্যা ২০:০০ (প্রস্থান) | সোম–শনি |
| মালদা টাউন | রাত্রি ২৩:১৫ (স্টপ) | সোম–শনি |
| নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) | ভোর ০২:৩০ (স্টপ) | মঙ্গল–রবি |
| নিউ কোচবিহার | ভোর ০৪:০০ (স্টপ) | মঙ্গল–রবি |
| কামাখ্যা (KYQ) | সকাল ১০:০০ (আগমন) | মঙ্গল–রবি |
এই ট্রেনটি সাধারণ স্লিপার বা রাজধানী এক্সপ্রেসের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক সুবিধা নিয়ে এসেছে। আসুন জেনে নিই মূল বৈশিষ্ট্যগুলি—
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে চালু ১১টি নতুন ট্রেন ২০২৬: সম্পূর্ণ গাইড — যেখানে ভারতীয় রেলের ২০২৬ সালের সব নতুন ট্রেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাবেন।
আরও পড়ুন: গ্রীষ্মকালীন স্পেশাল ট্রেন ২০২৬: ভারতীয় রেলের ১৮,২৬২টি বিশেষ ট্রিপের সম্পূর্ণ গাইড — গ্রীষ্মের ছুটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে এই গাইডটি আপনার কাজে লাগবে।
আরও পড়ুন: কলকাতা মেট্রো ২০২৬: নতুন লাইন, সম্প্রসারণ ও যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড — কলকাতা ও তার আশেপাশে মেট্রো রেলের সর্বশেষ আপডেট জানুন।
ভারতীয় রেলের এই উদ্যোগ সম্পর্কে আরও সরকারি তথ্য পেতে PIB-এর প্রেস রিলিজ দেখতে পারেন। এছাড়া টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে টিকিট বুকিং ও যাত্রী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। মাত্র ১৪ ঘণ্টায় হাওড়া থেকে কামাখ্যা পৌঁছে দেওয়া এই ট্রেন শুধু দ্রুততাই নয়, বরং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও বিশ্বমানের আরামও দেয়। আপনার পরবর্তী উত্তর-পূর্ব ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনায় এই ট্রেনটি অবশ্যই বিবেচনা করুন। আর হ্যাঁ, টিকিট আগেভাগে বুক করুন—কারণ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত টিকিট ফুরিয়ে যায়!
This post was last modified on 20th June 2026 6:54 pm