আপনার জন্য এটি একটি দারুণ সংবাদ যদি আপনি ইলেকট্রিক বাইকের কথা ভাবছেন। রয়্যাল এনফিল্ডের প্রথম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এর প্রথম ব্যাচের ডেলিভারি শুরু হয়ে গেছে। এই বাইকটি দেখতে যেমন ভিন্টেজ-আধুনিক, তেমনি ফিচার্সেও ভরপুর — টাচস্ক্রিন TFT, গুগল নেভিগেশন, কর্নারিং ABS, এবং পাঁচটি রাইডিং মোড রয়েছে।
আপনিও যদি রয়্যাল এনফিল্ডের ভক্ত হন বা একটি পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইক কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য। এখানে আমরা ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এর দাম, রেঞ্জ, স্পেসিফিকেশন, ডিজাইন ও ফিচার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বাইকটি ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ফ্লাইং ফ্লি সি৬ হল রয়্যাল এনফিল্ডের প্রথম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে অফিসিয়ালি লঞ্চ হয় এবং জুন মাসে প্রথম ব্যাচের ডেলিভারি শুরু হয়েছে। নামটি নেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের “ফ্লাইং ফ্লি” প্যারাট্রুপার মোটরসাইকেল থেকে। বাইকটি তৈরি করা হয়েছে আধুনিক ইলেকট্রিক প্রযুক্তি ও ভিন্টেজ ডিজাইনের অনন্য সংমিশ্রণে। নিচের টেবিলে মূল স্পেসিফিকেশন দেওয়া হল:
| বৈশিষ্ট্য | বিস্তারিত |
|---|---|
| দাম (এক্স-শোরুম) | ₹২.৭৯ লাখ (BaaS: ₹১.৯৯ লাখ) |
| মোটর | ১৫.৪ কিলোওয়াট PMSM, ৬০ নিউটন-মিটার টর্ক |
| ব্যাটারি | ৩.৯১ kWh লিথিয়াম-আয়ন |
| দাবিকৃত রেঞ্জ (IDC) | ১৫৪ কিমি |
| সর্বোচ্চ গতি | ১১৫ কিমি/ঘণ্টা |
| ০-৬০ কিমি/ঘণ্টা | ৩.৭ সেকেন্ড |
| ওজন | ১২৪ কেজি (সবচেয়ে হালকা RE) |
| চার্জিং (০-৮০%) | ~৬৫ মিনিট |
| রাইডিং মোড | রেইন, সিটি, হাইওয়ে, স্পোর্ট, কাস্টম |
| রং | স্টর্ম ব্ল্যাক, ফ্লি গ্রিন |
আরও পড়ুন: হোন্ডা CB750 হর্নেট ই-ক্লাচ ২০২৬: দাম ও ফিচার
ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এর ডিজাইন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আইকনিক ফ্লাইং ফ্লি থেকে অনুপ্রাণিত। বাইকটিতে রয়েছে একটি ফোরজড অ্যালুমিনিয়াম গার্ডার ফর্ক ফ্রন্ট সাসপেনশন, যা দেখতে যেমন অনন্য, তেমনি রাইড কোয়ালিটিকেও অসাধারণ করে তোলে। সামনের এই সাসপেনশনটি সাধারণ টেলিস্কোপিক ফর্কের তুলনায় বেশি রিজিডিটি এবং স্টিফনেস প্রদান করে। পেছনে রয়েছে প্রিলোড অ্যাডজাস্টেবল মনোশক সাসপেনশন।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য: বাইকটিতে একটি ৩.৫-ইঞ্চি TFT টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে রয়েছে যাতে গুগল নেভিগেশন, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, ভয়েস অ্যাসিস্ট এবং ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেটের সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও আছে ওয়্যারলেস ফোন চার্জিং, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, কর্নারিং ABS এবং রিজেনারেটিভ ব্রেকিং। বাইকটিতে পাঁচটি রাইডিং মোড — রেইন, সিটি, হাইওয়ে, স্পোর্ট এবং কাস্টম — ব্যবহারকারীকে তার পছন্দমতো রাইডিং এক্সপিরিয়েন্স দেয়।
ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এ ব্যবহার করা হয়েছে একটি ৩.৯১ kWh লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক। রয়্যাল এনফিল্ড দাবি করছে IDC টেস্ট সাইকেলে এই বাইকের রেঞ্জ ১৫৪ কিমি। তবে বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই রেঞ্জ নির্ভর করে রাইডিং স্টাইল, টেরেন এবং погодаের উপর। সাধারণ সিটি রাইডিং-এ ৮০-১০০ কিমি পর্যন্ত রেঞ্জ পাওয়া সম্ভব, যা দৈনন্দিন কমিউটের জন্য যথেষ্ট।
চার্জিংয়ের কথা বললে, বাইকটির অনবোর্ড চার্জার ০-৮০% চার্জ হতে সময় নেয় প্রায় ৬৫ মিনিট। সম্পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। বাইকের সঙ্গেই একটি পোর্টেবল চার্জার দেওয়া হয়। এছাড়াও রয়্যাল এনফিল্ড ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস (BaaS) অপশনও দিচ্ছে, যেখানে ব্যাটারি ছাড়া বাইকটির দাম পড়বে মাত্র ₹১.৯৯ লাখ।
আরও পড়ুন: জুন ২০২৬-এ আসছে তিনটি নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি। এছাড়াও দেখতে পারেন জুন ২০২৬-এ ভারতের বাজারে আসছে নতুন গাড়ি।
রয়্যাল এনফিল্ড ফ্লাইং ফ্লি সি৬ শুধু একটি ইলেকট্রিক বাইক নয়, এটি একটি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অসাধারণ সংমিশ্রণ। ₹২.৭৯ লাখ দামে এই বাইকটি ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে একটি শক্তিশালী সংযোজন। যদিও ব্যাটারি রেঞ্জ নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে, তবুও শহুরে কমিউটের জন্য এটি একটি চমৎকার অপশন। বিশেষত BaaS অপশনটি বাইকটিকে আরও সাশ্রয়ী করে তুলেছে। রয়্যাল এনফিল্ডের ভক্তদের জন্য এটি একটি স্বপ্নের বাইক হতে চলেছে।
বাইকটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে অফিসিয়াল সাইট দেখুন: Royal Enfield Flying Flea C6 অফিসিয়াল পেজ। ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় Electrek-এর এই প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন: টাটা সিয়েরা ইভি ২০২৬: ডিজাইন, ব্যাটারি রেঞ্জ ও দাম | হোন্ডা CB750 হর্নেট ই-ক্লাচ ২০২৬
This post was last modified on 20th June 2026 8:53 pm