পাকিস্তানের শক্তিবৃদ্ধি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই

0

বং দুনিয়া ওয়েব  ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতবর্ষের রাজ্যসভায় দেশটির রাষ্ট্রপতি কতৃক সাক্ষরিত একটি বিবৃতি পাঠ করেন ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উক্ত এই বিবৃতিতে ভারতীয় সংবিধানের দুটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য অনুচ্ছেদ ৩৭০ এবং ৩৫এ বাতিল করে দেওয়ার কথা বলা হয়। অমিত শাহ কতৃক এই বিবৃতি পাঠ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই চরম অশৃঙ্খলতা শুরু হয়ে যায় দেশের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে জম্মু এবং কাশ্মীরে। কারণ সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ দুটি বাতিল হওয়ার মধ্য দিয়ে জম্মু এবং কাশ্মীর দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে যায়।

ভারত সরকার কতৃক গৃহীত এই সিদ্ধান্তে একেবারেই খুশী নয় প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান। সেকারণে তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ জানায় জাতি সংঘের মহাসচিবের কাছে। কিন্তু তাতেও বিশেষ কোনও ফল হয়নি।

জম্মু এবং কাশ্মীর’কে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পর বর্তমানে ভারত সরকারের কাছে সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ হল জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখা। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জে ভারত সরকারের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়াতে পারে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এএনআই দাবি করছে যে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী লাদাখে ভারত সীমান্তবর্তী বিমান ঘাঁটি স্ক্যারদুতে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। বিমান অভিযানের সঙ্গে জড়িত সামরিক সরঞ্জাম এ ঘাঁটিতে পাঠাচ্ছে পাকিস্তান। অনুমান করা হচ্ছে যে, এরপর হয়তো ওই ঘাঁটিতে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে তারা।

কিন্তু এই নিয়ে বিন্দুমাত্র ঘাবড়াচ্ছেননা ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন অঞ্চলে পাকিস্তানের শক্তিবৃদ্ধি নিতান্তই একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, সুতরাং এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

এপ্রসঙ্গে বিপিন রাওয়াত বললেন, “যদি প্রতিপক্ষ নিয়ন্ত্রণরেখায় গতিবিধি বৃদ্ধি করে, সেটা তাদের ব্যাপার। প্রত্যেকেই সতর্কতামূলক সেনা নিয়োগ করে থাকে, তাই নিয়ে আমাদের বিশেষ চিন্তা করার দরকার নেই। সেনাবাহিনী ও অন্যান্য ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা সদা সতর্ক রয়েছি।”

পাশাপাশি ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু এবং কাশ্মীর অঞ্চলে যে সুন্দর পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা নিয়েও কিছু কথা বললেন বিপিন রাওয়াত। তিনি বললেন, “৩৭০ ধারা খারিজ হয়ে গেলেও আমরা মানুষের সঙ্গেই থাকব। মনে রাখা উচিত, ৭০ ও ৮০-এর দশকে কীভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকত সেনা। আমরা অস্ত্র ছাড়াই পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করতাম এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আবার সেই সম্পর্কে ফিরে যাব।”

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...