গত কয়েকবছর ধরেই চলছে সারদা চিট ফান্ড কাণ্ডের তদন্ত। সুপ্রিম কোর্ট থেকে সারদা কাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিবিআই কে। সেই থেকে তদন্তে রত সিবিআই। সূত্রে জানা যায়, গত ৩রা ফেব্রুয়ারি সিবিআই আধিকারিকদের একটি দল সারদা কাণ্ডে জড়িত প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়ি ঢুকতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। তাঁরা ওইদিন রাজীব কুমারকে সারদা চিট ফান্ড কাণ্ডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতে গিয়েছিলেন।
এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহরের কেন্দ্রে ধরনায় বসেন। তিনি একে ‘সাংবিধানিক নিয়মের উপরে আক্রমণ’ আখ্যা দিয়েছিলেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পরে শিলং এ রাজীব কুমার কে জেরা করা হয় পাঁচ দিন ধরে। তবে এক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল যে রাজীব কুমারকে কোনওভাবেই গ্রেফতার করা যাবেনা এমনকি তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যাবেনা।
এরপরই রাজীব কুমারকে সিআইডির তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা হয়। গত ১৬ মে কলকাতায় একটি মিছিলে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ-র উপরে হওয়া একটি হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন রাজীবকে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সম্প্রতি সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের কাছে রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন করে। সিবিআই জানায়, তাদের কাছে প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে এবং তাদের অভিযোগ রাজীব প্রমাণ লোপাট ও বিকৃতির চেষ্টা করেছেন। তার এই কাজে তাকে সাহায্য করছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি। কিন্তু রাজীব কুমারের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, সিবিআই রাজীবকে হেফাজতে চায় তাঁকে ‘কেবল অপমান’ করার জন্য এবং সিবিআইকে আইনের অপব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
তবে রাজীব কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এখন সিবিআই তাকে অনায়াসেই নিজেদের হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তাই রাজীব কুমারকে শীঘ্রই শমন পাঠানো হবে হাজিরা দেওয়ার জন্য।
This post was last modified on 27th মে 2019 3:30 অপরাহ্ন