কলকাতায় পুজোয় উড়ে আসা এবার অনেক বেশি দাম পড়বে। এয়ারলাইন টিকিটের ভাড়ার এক জরিপে ধরা পড়েছে চোখে পড়ার মতো ছবি: ১৬ অক্টোবরের টিকিট এখনই ৭১ শতাংশ বেশি, অথচ এক সপ্তাহ পরে ওড়ার আসন মিলছে মাত্র ৮ হাজার ২৫৯ টাকায়। ঢোকার ফ্লাইট একই প্লেন, একই সকাল, শুধু তারিখ আলাদা। আর ভাড়ার ব্যবধানটা দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ৫৩টি রুটে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে গুগল ফ্লাইটসে ভাড়া কত ছিল। আটটি শহরের মধ্যে কলকাতার ছবিটাই উল্টো। পুজোর দিনগুলোয় কলকাতায় নামার ফ্লাইটের দাম চড়ে গেছে, অথচ ওই একই তারিখে বাকি শহরের ভাড়া নামছে।
১৬ অক্টোবরের কলকাতার টিকিটে কত বাড়তি খরচ?

জরিপের মাঝামাঝি অঙ্ক বলছে, কালকের টিকিট ৮ হাজার ৭১২ টাকা, এক সপ্তাহ পরেরটা ৮ হাজার ২৫৯ টাকা। কিন্তু ১৬ অক্টোবরের আসন ১৪ হাজার ১১৭ টাকা, মানে এক সপ্তাহ পরে ওড়ার চেয়ে ৭১ শতাংশ বেশি, আর আজকের তুলনায়ও ৫৪ শতাংশ বাড়তি।
ওই ১৬ অক্টোবরই এবারের পুজোর প্রথম দিন। বেশিরভাগ বাংলা পঞ্জিকায় মহাষষ্ঠী পড়েছে ১৬ অক্টোবর, কেউ কেউ ১৭ অক্টোবর ধরছেন। যে দিনটায় সবার চেয়ে বেশি মানুষ কলকাতায় পৌঁছতে চান, সেদিনের আসনেই বসে ভাড়ার চূড়া।
সত্যি কথা। এখানে ভাড়ার সাধারণ নিয়মই উল্টে গেছে। যত দিন গড়ায় দাম বাড়ে, এই ধারণা ১৬ অক্টোবরের কলকাতার রুটেই ভেঙে পড়েছে। কেন জানেন? ওই দিনটাই পুজোর প্রথম দিন।
কোন রুট থেকে কলকাতায় ভাড়া সবচেয়ে বেশি?
চেন্নাই এগিয়ে। যাবতীয় রুটের মধ্যে সেখান থেকেই ভাড়া বেড়েছে ৯৪.৯ শতাংশ। তার পরেই মুম্বই ৭৮.১ শতাংশ, বেঙ্গালুরু ৭৬.৫ শতাংশ, হায়দ্রাবাদ ৬৫.৩ শতাংশ।
| রুট | ১৬ অক্টোবর | ১৫ নভেম্বর | বাড়তি খরচ |
|---|---|---|---|
| বেঙ্গালুরু | ১৬.৯ হাজার | ৯.৬ হাজার | ৭.৩ হাজার |
| চেন্নাই | ১৫.৫ হাজার | ৭.৯ হাজার | ৭.৬ হাজার |
| মুম্বই | ১৫.২ হাজার | ৮.৬ হাজার | ৬.৬ হাজার |
| পুণে | ১৪.১ হাজার | ১১.২ হাজার | ২.৯ হাজার |
| হায়দ্রাবাদ | ১৩.০ হাজার | ৭.৯ হাজার | ৫.১ হাজার |
| দিল্লি | ১২.৩ হাজার | ১০.১ হাজার | ২.২ হাজার |
| আহমেদাবাদ | ১১.২ হাজার | ১০.৬ হাজার | ০.৬ হাজার |
টাকার অঙ্কে দেখলে, চেন্নাই থেকে এক উপায়ে ৭ হাজার ৫৬০ টাকা বাড়তি, বেঙ্গালুরু থেকে ৭ হাজার ৩১০ টাকা, মুম্বই থেকে ৬ হাজার ৬৮২ টাকা। সাতটি রুট মিলিয়ে গড় বাড়তি প্রায় ৫ হাজার ১৪৫ টাকা।
১৬ অক্টোবরই কেন এত দাম, বাকি দিনগুলোয় নয়?
কারণটা পঞ্জিকার তারিখ। আর কী? ওই দিনটায় বাংলার বাইরে ছড়িয়ে থাকা মানুষজন একসঙ্গে ফিরছেন কলকাতায়। অথচ কলকাতা ছোঁয় না এমন ৪০টি রুটে ১৬ অক্টোবরের ভাড়াই সবচেয়ে সস্তা, মাত্র ৬ হাজার ২৭১ টাকা।
মজার উদাহরণ আহমেদাবাদ। নবরাত্রি তখন চলছে, গুজরাতের সবচেয়ে বড় উৎসব। অথচ ১৬ অক্টোবরে সেখানে ভাড়া নভেম্বরের চেয়ে ২০.৯ শতাংশ কম। কারণ, গার্বা মানুষ যেখানে থাকে সেখানেই হয়, কাউকে শহর ছাড়তে হয় না। দুর্গাপূজা ঠিক উল্টো: ছড়িয়ে থাকা মানুষকে এক শহরে ফিরিয়ে আনে, আর তা ভাড়ার অঙ্কে ধরা পড়ে। পুজোর তিথি আর ইতিহাসের খুঁটিনাটি পাবেন উইকিপিডিয়ার দুর্গাপূজা পাতায়।
শুধু ঢোকার ফ্লাইটই দামি, বেরোনোরটা নয় কেন?
এটাই পরিষ্কার সিগনাল। মুম্বই থেকে কলকাতার ভাড়া ৭৮ শতাংশ বাড়লেও কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের ভাড়া বেড়েছে মাত্র ৫ শতাংশ।
বেঙ্গালুরু থেকে আসার ভাড়া ৭৬ শতাংশ বেশি, অথচ কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার ভাড়া ২২ শতাংশ কম। ছটি শহরের প্রতিটিতেই এই ছবি। মাঝামাঝি হিসাবে কলকাতায় ঢোকার ভাড়া ৪৬ শতাংশ বাড়তি, আর বেরোনোর ভাড়া নভেম্বরের চেয়ে ৮ শতাংশ কম।
মানে, এয়ারলাইনগুলো ১৬ অক্টোবরে কলকাতায় নামার আসনেই আলাদা দাম বসিয়েছে, আর কলকাতার আকাশপথের খবর-ইতিহাস পাবেন উইকিপিডিয়ার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাতায়। ফ্লাইট কম বলেই এমন দাম, এটা ভাবলে ভুল হবে।
পুজোর ফ্লাইটে টাকা বাঁচাবেন কীভাবে?
তারিখটা একটু পিছিয়ে দেখুন। ১৫ নভেম্বরের টিকিট পড়বে ১৬ অক্টোবরের চেয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। জনপ্রতি এক দিকে বাঁচবে প্রায় ৫ হাজার টাকা।
আর গোল টিকিটের বদলে দুই দিক আলাদা করে দাম দেখুন, বাড়তি খরচটা প্রায় সবটাই ঢোকার ফ্লাইটেই। ফেরার ফ্লাইট সস্তাই থাকছে, খারাপ না তো?
সবশেষে একটা কথা। অপেক্ষা করে লাভ নেই। ৩০ দিন আগের ভাড়াতেই দাম এই পর্যায়ে, আসনও ভরছে। দাম নামবে, এমন ইঙ্গিত এই জরিপের অঙ্কে নেই।
আরও পড়ুন: পুজোর স্পেশাল ট্রেন: মালদা ডিভিশনের ১০টির বেশি ট্রেন, রুট ও তারিখ জানুন এবং কলকাতা থেকে সাংহাই সরাসরি ফ্লাইট, প্রতিদিন ইন্ডিগোর ননস্টপ পরিষেবা
সমাপ্তি
মনে রাখবেন। পুজোর ফ্লাইট ভাড়ার খবরটা ভালো করেই জানা দরকার, তা না হলে টিকিট কাটতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার জোর সম্ভাবনা। আসার তারিখ একটু নাড়াচাড়া করে দেখুন, আর কলকাতায় ফেরার আনন্দের সামনে ভাড়ার হিসাবটা যেন পথ না আটকায়।








