চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর। কারণ, ভারতীয় ডাক বিভাগ এবার ২৩,৭৫৭টি শূন্যপদে গ্রামীণ ডাক সেবক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। শুধু দশম শ্রেণি পাশ করলেই আবেদন করা যাবে।
আরও বড় কথা, এই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা নেই। কোনও প্রশ্নপত্র নেই। দশম শ্রেণির নম্বর ধরে তৈরি হবে মেরিট লিস্ট। আবেদনের শেষ দিন ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সরকারি চাকরির স্বপ্ন যদি থাকে, তাহলে এই সুযোগ দ্রুত কাজে লাগান।
কোন পদে নিয়োগ হবে?
নিয়োগটা তিন ধরনের পদে। ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (BPM), অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (ABPM) আর ডাক সেবক, সবগুলোই গ্রামীণ এলাকার পোস্ট অফিসে। পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতেও শূন্যপদ আছে।
কাজের ধরনও বুঝে নিন। ডাক আসা, চিঠি আর মানি অর্ডার গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া, হিসাবের খাতা মিলিয়ে রাখা। গ্রামের মানুষের কাছে ডাক বিভাগের মুখ হবেন আপনি। সত্যি কথা, চাকরির সঙ্গে মেলে এক সামাজিক পরিচিতিও।

গ্রামীণ ডাক সেবক নিয়োগে যোগ্যতা কী কী লাগবে?
শর্তটা কিন্তু একটাই। দশম শ্রেণি পাশ, তাও আবার অঙ্ক আর ইংরেজিতে পাস মার্কসহ। বয়স লাগবে ১৮ থেকে ৪০ বছর, সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য নিয়ম অনুযায়ী ছাড় আছে।
আরেকটা শর্ত, যে অঞ্চলে আবেদন করবেন সেখানকার স্থানীয় ভাষা দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া থাকতে হবে। সঙ্গে সাইকেল চালানো আর কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞান, কারণ গ্রামে ডাক পৌঁছনোর কাজে সাইকেলটা লাগবেই।
বেতন কত মিলবে?
টাকার অঙ্কটা শুনলে মন ভালো হয়ে যাবে। BPM পদে শুরু ১২ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ২৯,৩৮০ টাকা পর্যন্ত। বাকি পদে শুরু ১০ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ২৪,৪৭০ টাকা পর্যন্ত।
| পদ | প্রাথমিক বেতন (TRCA) |
|---|---|
| ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (BPM) | ১২,০০০ থেকে ২৯,৩৮০ টাকা |
| অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (ABPM) | ১০,০০০ থেকে ২৪,৪৭০ টাকা |
| ডাক সেবক | ১০,০০০ থেকে ২৪,৪৭০ টাকা |
প্রতি বছর ৩ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, সঙ্গে সরকার ঘোষিত ভাতা। সরকারি চাকরির প্রথম ধাপের হিসেবে এই বেতন মন্দ নয়।
আবেদন করার পদ্ধতি কী?
আবেদন একদম অনলাইনে। ভারতীয় ডাক বিভাগের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকেই সব হবে। প্রথমে একবার রেজিস্ট্রেশন, তারপর ফর্ম পূরণ। রেজিস্ট্রেশনের সময় ৩১ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ফর্ম জমা দেওয়া যাবে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
- একবার রেজিস্ট্রেশন: ৩১ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- আবেদন ফর্ম জমা: ২ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফি একদম সামান্য, মাত্র ১০০ টাকা, তবে মহিলা, SC, ST, প্রতিবন্ধী আর ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থীদের কোনো ফি নেই। মনে রাখবেন। একবার ফি জমা হয়ে গেলে তা ফেরত মেলে না।
নির্বাচন হবে কীভাবে?
এখানেই সারপ্রাইজ। কোনো লিখিত পরীক্ষা নেই। দশম শ্রেণির নম্বর ধরে মেরিট লিস্ট হবে। তারপর নথিপত্র যাচাই আর মেডিকেল পরীক্ষা, মানে যাঁদের মার্ক ভালো তাঁরাই এগিয়ে।
চাকরিটা ঘরের কাছেই, তবে প্রতিযোগিতাও সীমাহীন। তাই ভুল করে ফর্মের শেষ দিন পর্যন্ত দেরি করবেন না, আর ভারতীয় ডাক বিভাগের ইতিহাস জানতে চাইলে উইকিপিডিয়া পাতা দেখতে পারেন।
উপসংহার
১৯ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন, ফর্ম জমার শেষ দিন ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তাই ডাক বিভাগের এই নিয়োগে সুযোগ নিতে আর দেরি নেই। আবেদন করে নিন। সঙ্গে থাকা শুভকামনা।
আরও পড়ুন: IBPS RRB নিয়োগ: একসাথে ১৩,৭০৬ শূন্যপদ এবং রেল নিয়োগ: ৪,০২৯ পদে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার







