যাঁরা নতুন প্যান কার্ড বানাতে চান বা পুরনো কার্ডে ভুল ত্রুটি ঠিক করতে চান, তাঁদের জন্য এখন নতুন নিয়ম। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে প্যান কার্ডের পুরনো আবেদন ফর্ম বাতিল করেছে আয়কর বিভাগ। জায়গায় এসেছে নতুন ফর্ম। এটা মোটেই সামান্য নয়। কারণ, এখন আর শুধু আধার দিয়ে জন্মতারিখের প্রমাণ দেওয়া যাবে না।
আগে ফর্ম ৪৯এ আর ৪৯এএ দিয়ে কাজ হত। এখন সেই জায়গায় এল নতুন ফর্ম সিরিজ। ফলে যাঁরা নতুন করে প্যান বানাবেন, তাঁদের নতুন ফর্মেই আবেদন করতে হবে। পুরনো ফর্মে পাঠালে সেটা আর চলবে না। জেনে নিন খুঁটিনাটি। নিয়মটা সহজ।
নতুন ফর্মগুলো কী কী?
নতুন ফর্মগুলোকে ভাগ করা হয়েছে কে কে আবেদন করছেন, তার ভিত্তিতে। আগের মতো সবার জন্য এক ফর্ম নয়। ভাগগুলো মোটেও বুঝতে কষ্ট হবে না। নিয়মটা একবার মাথায় রাখলে ফর্ম বেছে নেওয়া সহজ।
ফর্ম F093 ব্যবহার করবেন ভারতীয় নাগরিকরা, যাঁরা একাকী আবেদন করছেন। ফর্ম F094 লাগবে ভারতীয় সংস্থার জন্য। বিদেশি নাগরিকের একাকী আবেদনে ফর্ম F095, আর বিদেশি সংস্থার জন্য ফর্ম F096। নিজের স্থিতি বুঝে ফর্ম বাছাই করা যায়।

ফর্মের ভেতরেও কিছু বদল এসেছে। ছোট নাম আর শিরোনামের জায়গা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রী, শ্রীমতী জাতীয় উপাধি এখন দরকার নেই। বাড়ির ঠিকানা বাধ্যতামূলক। মোবাইল নম্বরও দিতেই হবে। ল্যান্ডলাইন নম্বর দেবেন কি দেবেন না, সেটা আপনার পছন্দ।
আধার কি আর জন্মতারিখের প্রমাণ নয়?
সবচেয়ে বড় বদলটা এখানেই। এটাই মূল পরিবর্তন। ঘাবড়ানোর কিছু নেই, পরিষ্কার করে বলছি। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আধার আর প্যান আবেদনে জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে মানা হবে না। আধার আপনার পরিচয় আর ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে তবু কাজ করবে। কিন্তু জন্মতারিখের জন্য লাগবে আলাদা নথি। এটাই সব।
কেন এমন? কারণ, আধারে জন্মতারিখ অনেক সময় হুবহু ঠিক থাকে না। তাই আয়কর বিভাগ চাইছে জন্মতারিখের আলাদা শক্ত প্রমাণ। এতে ভবিষ্যতে নথি মেলানোর ঝামেলা কমবে।
জন্মতারিখের জন্য কী কী নথি মানা যাবে?
যাঁদের জন্ম ১ অক্টোবর ২০২৩ বা তার পরে, তাঁদের জন্য জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক। নিয়মটা মোটেও জটিল নয়। মিউনিসিপালিটি বা সরকার অনুমোদিত দপ্তর জারি করা সনদ হলেই চলবে। পুরনো সনদ থাকলে সমস্যা নেই। সনদ ভাঙাচোরা হলে নতুন করে বানিয়ে নিতে হবে।
বাকিদের জন্য নথির তালিকাও বড়। ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার পরিচয়পত্র, বয়স দেখানো পেনশন পেমেন্ট অর্ডার, সরকারের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট কিছু চালু আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফটো পরিচয়পত্রও মানা হবে।
হাতে এগুলোর কিছু না থাকলে আরও একটা রাস্তা আছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হলফনামা করে জন্মতারিখ বোঝানো যাবে। তবে প্রতিটা নথিতে নাম, তারিখ, মাস আর সাল পরিষ্কার থাকতে হবে। হলফনামাও বেশ কাজের।
আবেদনের পদ্ধতি আর ছোট কিছু নিয়ম
আবেদন করতে গেলে প্যান অনলাইন সার্ভিস পোর্টাল ঘুরতে হবে। ইন্টারনেট থাকলেই চলবে। নতুন ফর্ম বেছে নিয়ে, নথি স্ক্যান করে আপলোড করলেই হয়। পুরোটা ঘরে বসেই সেরে নেওয়া যায়। কাজটা কয়েক মিনিটের।
তবে ছবির আকারটা এবার আগের চেয়ে বড়। আগে ৫ বাই ২.৫ সেন্টিমিটার লাগত। এখন লাগে ৫ বাই ৩.৫ সেন্টিমিটার। সাইজ ভুল হলে স্ক্যানের সময়ে ঝামেলা হতে পারে। কথাটা মনে রাখুন। সইয়ের ব্যাপারটাও বদলেছে। আগে ওপরে আর নিচে দুটো সই লাগত। এখন শুধু নিচে একটাই সই।
পুরনো ফর্ম দিয়ে আবেদন কি আর সম্ভব?
না। এখানেই সবচেয়ে জরুরি কথা। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত পুরনো ফর্ম মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরে শুধু নতুন ফর্ম চলবে। নতুন প্যান বানানো হোক বা পুরনো কার্ডের সংশোধন, সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম। ফিতেও সমস্যা নেই, সরকারি ফি আগের মতোই থাকছে।
তাই যাঁদের প্যান আবেদন ঝুলে আছে, তাঁরা দ্রুত নতুন ফর্ম দিয়ে সেরে ফেলুন। আর কী! দেরি করলে নথি আবার জোগাড় করতে হবে।
উপসংহার
সংক্ষেপে বললে, প্যান কার্ড আবেদন এখন নতুন ছাঁচে। ফর্ম ৯৩ থেকে ৯৬, আলাদা জন্মতারিখের নথি, আর নতুন ছবির সাইজ। নিয়ম একবার পড়ে নিলেই ঘরে বসে আবেদন সহজ। নতুন প্যান হোক বা পুরনোটা সংশোধন, সব এই নিয়মেই চলবে।
আরও পড়ুন: প্যান কার্ড ২.০: ফ্রি ই-প্যান, নতুন ফর্ম ৯৩ ও ৯৪, আবেদনের পদ্ধতি জানুন
PAN কার্ডে ভুল তথ্য? অনলাইনে সংশোধনের পদ্ধতি, ফি কত?








