২০২৬ সালের সেই সেপ্টেম্বরের শুরু। শরতের ঝলমলে রোদ। অথচ কলকাতা জুড়ে শুধুই এক নামের স্মৃতি। নন্দন থেকে গলির মোড়, সবখানে সেই পরিচিত সুর।
কারণ, এই ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে Uttam Kumar-এর জন্মশতবর্ষ। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া মানুষটিই বাংলা সিনেমাকে দিয়েছিলেন সোনালি যুগ। মহানায়ক নামটা আজও কারও না কারও ঠোঁটে লেগে থাকে।
Uttam Kumar-এর জন্ম কবে, কোথায়?
| জন্ম | ৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৬, কলকাতা |
| আসল নাম | অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় |
| খ্যাতি | মহানায়ক, বাংলা সিনেমার যুগস্রষ্টা |
| প্রিয় জুটি | সুচিত্রা সেনের সঙ্গে |
| সবচেয়ে আলোচিত ছবি | সপ্তপদী, নায়ক, জোড়াদিঘীর চৌধুরী পরিবার |
| মৃত্যু | ২৪ জুলাই ১৯৮০ |
| সামাজিক মাধ্যম | প্রি-ইন্টারনেট যুগের তারকা। তাঁকে নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন উইকিপিডিয়া পাতা |
১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় Uttam Kumar-এর। স্কুলে নাম ছিল অরুণ, পরে সঙ্গেই সেটা বদলে নেন।
অভিনয় জীবনের শুরু কিন্তু মোটেই মসৃণ ছিল না। কেরানি হিসেবে চাকরি করেছেন। চাকরি ছেড়ে সুযোগ নিয়েছেন থিয়েটারে। প্রথম দিকে মেলেনি খ্যাতি। হাল ছাড়েননি।
ধৈর্যেরই পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। একের পর এক চরিত্রে নিজেকে গড়ে তুলেছেন ধীরে ধীরে। দর্শক তাঁকে মেনে নিয়েছে আপন করে। কথাটাই আলাদা।

মহানায়ক উপাধি এল কীভাবে?
সত্তরের দশকে কবি-গণমাধ্যম একজোটে তাঁকে ডেকে বসে মহানায়ক নামে। নামটা তাঁকে চিরকালের জন্য সিলমোহর করে দেয়।
তাঁর চরিত্রগুলো ছিল মাটির কাছাকাছি। সাদামাটা মানুষ থেকে বড় মাপের নায়ক, সব পথ পেরিয়েছেন। দর্শক শুধু জ্বলজ্যান্ত তারকা দেখেনি, দেখেছে নিজের কথা। সত্যি বলেছেন।
কোন কোন ছবি বদলে দিয়েছিল বাংলা সিনেমা?
তালিকাটা লম্বা। তবু কয়েকটা ছবির কথা উঠলেই চোখ ভিজে আসে।
সপ্তপদী, চিরকুমার সভা, জোড়াদিঘীর চৌধুরী পরিবার। এরপর সত্যজিৎ রায়ের নায়ক সিনেমায় তিনি অন্য উচ্চতায় পৌঁছোন। সাত পাকে বাঁধা, আগুন, শাপমোচন, বিষকন্যা থেকে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি। প্রতিটিই আজও ধ্রুপদী।
সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল ভালোবাসার এক নতুন সংজ্ঞা। অভিনয়ে যতটা নৈপুণ্য, গলায় ততটাই মোহনীয় সুর। তাঁর গান আজও শহর জুড়ে বাজে।
জন্মশতবর্ষে কী কী চলছে?
এই বছর পুরো ১০০ বছর পূর্ণ হল Uttam Kumar-এর জন্মের। কলকাতার নন্দনে বসেছে বিশেষ প্রদর্শনী, ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলছে নানা অনুষ্ঠান।
প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, পুরনো ছবি দেখানো, গানের আসর। শহরের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে সেই আবেগ। তরুণ প্রজন্মও দেখছে মহানায়ককে নতুন চোখে। রাতের সিলিংয়ে ভেসে উঠছে পরিচিত মুখ, হল ভর্তি দর্শক। সেই জাদুই!
সত্যিকারের শিল্পী কখনও মরে না, শুধু পালটায় রূপ।
আরও পড়ুন: সুচিত্রা সেনের জীবনী, যিনি Uttam Kumar-এর সেরা জুটি। এই লেখায় মিলবে মহানায়িকার সিনেমা ও সংসারের নানা খুঁটিনাটি।
আরও পড়ুন: সত্যজিৎ রায়ের জীবনী, যাঁর নায়ক ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় Uttam Kumar।
উপসংহার
১০০ বছর পরেও Uttam Kumar প্রাসঙ্গিক। তিনি শুধু অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন বাংলার আবেগের প্রতীক। ভোলার নয়। জন্মশতবর্ষ যেন মনে করিয়ে দেয়, ভালোবাসা থাকে চিরকাল।








